এই আত্মঘাতী বোমাবর্ষণকারীরা আগের বছর স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তি সম্পর্কে বহু ইসরায়েলিকে সতর্ক করে তোলে। এই চুক্তির ভেতর দিয়ে পিএলও ১৯৪৮ সালের সীমানার ভিত্তিতে ইসরায়েলের অস্তিত্ব মেনে নিয়ে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিনিময় পাঁচ বছরের জন্যে পশ্চিম তীর ও গাযা স্ট্রিপে প্যালেস্তাইনিদের সীমিত স্বায়ত্ত শাসন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি, প্যালেস্তাইনি শরণার্থীদের জন্যে ক্ষতিপূরণ ও জেরুজালেমের ভবিষ্যতের মতো বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থানগত আলোচনা শুরু হবে। কিন্তু ইসরায়েলে আত্মঘাতী বোমাবর্ষণকারীদের অস্তিত্ব ইঙ্গিত বহণ করেছে যে আরাফাত তাঁর সেক্যুলারিস্ট সরকারের বিরোধিতাকারী ইসলামি জঙ্গীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং কোনও কোনও ইসরায়েলি, বিশেষ করে রাজনৈতিক বর্ণালীর ডানে অবস্থানকারীরা অসলোয় ইসরায়েলি নিরাপত্তা জলাঞ্জলি দেওয়ার জন্যে রাবিনকে দোষারোপ করেছে।
কুকবাদী র্যাবাইগণ অসলো চুক্তিতে বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ ছিলেন: পবিত্র ভূমি বিসর্জন দিয়ে সরকার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। ফলে ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে আইডিএফ অধিকৃত এলাকা হতে লোকজন সরিয়ে নিতে শুরু করলে র্যাবাই অভ্রাহাম শাপিরা এবং চৌদ্দজন গাশ র্যাবাই সৈনিকদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অগ্রাহ্য করার নির্দেশ দেন। এটা গৃহযুদ্ধ ঘোষণারই সামিল ছিল। অন্য র্যাবাইরা প্রশ্ন তুলেছেন রাবিন রোদেফ (‘অনুসারীতে’) পরিণত হয়েছেন কিনা, যিনি সক্রিয়ভাবে ইহুদির জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দেন এবং সে কারণে ইহুদি আইন মোতাবেক মৃত্যুদণ্ড পাবার যোগ্য ১০৫ ৪ঠা নভেম্বর, ১৯৯৫, হেসদার ইয়েশিভার সাবেক ছাত্র দুর্দান্ত সেনা সদস্য ও বার ইলান ইউনিভার্সিটির ছাত্র ইয়েল আমির তেল আভিভে এক শান্তি মিছিলের সময় রাবিনকে হত্যা করে। পরে সে বলেছে ইহুদি পাঠ তাকে রাবিনের ইহুদি জাতির শত্রু রোদেফ হওয়ার ব্যাপারটি বিশ্বাস করতে প্ররোচিত করেছে; তাঁকে হত্যা করা তার দায়িত্ব ছিল। ১০৬
সাদাতের হত্যাকাণ্ডের মতো রাবিনের হত্যাকাণ্ডও মধ্যপ্রাচ্যে দুটি যুদ্ধ চলার কথা তুলে ধরেছে। একটা আরব-ইসরায়েল বিরোধ; অন্য যুদ্ধটি ইসরায়েল ও মিশরের মতো নির্দিষ্ট দেশের অভ্যন্তরে সেক্যুলারিস্ট ও ধার্মিকদের ভেতর। কেবল ধার্মিক ইহুদিরা এক গভীর স্তরে নির্যাতিত ও আক্রান্ত হওয়ার বোধ লালন করছিল না। ইসলায়েলের সেক্যুলারিস্টরাও একইভাবে ধার্মিক ইহুদিদের হাতে প্রত্যাখ্যাত ও আক্রান্ত মনে করেছে। জেরুজালেমের হেরেদি এলাকায় চলাচলের সময় জনপ্রিয় ইসরায়েলি লেখক আমোস ওয স্মৃতিচারণ করেছেন যে, আদি যায়নবাদীরা অর্থডক্স ইহুদিবাদকে ঘৃণা করত এবং এই বাস্তবতাকে চারপাশের বিশ্ব ও তাদের অন্তর থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইত। ঘৃণা ও বিতৃষ্ণার এক বিস্ফোরণে তারা বিশ্বকে ‘জলাভূমি, মৃত শব্দের স্তূপ ও নিভন্ত প্রাণ হিসাবে বর্ণনা করেছে। এমনি সেক্যুলার ঘৃণার প্রতি হেরেদিম করুণার সাথে সাড়া দিয়েছে। নেচারেই কারতার সদস্যদের আবাস এক মহল্লার দেয়ালে ওয কালো স্বস্তিকা ও গ্রাফিতি দেখতে পান: ‘যায়নবাদী হিটলারপন্থীদের মৃত্যু চাই।’ ‘টেডি কোলেক [জেরুজালেমের শ্রমিক দলীয় মেয়র] নিপাত যাক!’ শিক্ষক দোভ সাদানের কথাও মনে পড়ে গিয়েছিল ওযের। তিনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন, যায়নবাদ স্রেফ ইহুদিবাদের ইতিহাসে সাময়িক পর্ব, অর্থডক্স ইহুদবাদ আবার ফিরে আসবে, ‘যায়নবাদকে হজম করে নেবে।’ এই আল্ট্রা অর্থডক্স পাড়ায় হাঁটতে গিয়ে ওয হেরেদি ইহুদিবাদের শক্তি দেখে বিপর্যস্ত ও অভিভূত বোধ করেছেন, ‘ফুলে ফেঁপে উঠে আপনার নিজের আধ্যাত্মিক অস্তিত্বকেই হুমকি দিচ্ছে ও আপনার নিজস্ব জগতের শেকড় কুরে কুরে খাচ্ছে, আপনার এবং আপনার মতো যারা তাদের বিদায়ের পর এর সমস্ত কিছু অধিকার করে নিতে তৈরি হচ্ছে।১০৭ সেক্যুলারিস্ট ইসরায়েলিরাও যেন ধার্মিক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে নিশ্চিহ্নতা ও অযৌক্তিক ত্রাসের বোধে আক্রান্ত হয়।
সমস্যার মূলে স্পর্শ করেছেন ওয। মৌলবাদী ও সেক্যুলারিস্টরা-যেকোনও ধর্মেরই হোক-যুদ্ধে লিপ্ত থাকার কারণ তারা সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন পবিত্রতার ধারণা লালন করে। গাশ এমুনিমের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ওয একে ‘একটি নিষ্ঠুর ও অনমনীয় গোষ্ঠী’ আখ্যায়িত করেছেন, ‘ইহুদিবাদের অন্ধকার কোণে’ যার জন্ম হয়েছে এবং ‘আমাদের কাছে যা কিছু পবিত্র ও প্রিয় তাকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছে।’ সেক্যুলারিস্ট উদারপন্থীদের পক্ষে-তারা ইহুদি, ক্রিশ্চান বা মুসলিমই হোক-ব্যক্তির স্বয়ত্তশাসন ও বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তির মতো আলোকন মূল্যবোধসমূহ অলঙ্ঘণীয় ও পবিত্র। এই ধরনের ইস্যুতে তারা আপোস বা ছাড় দিতে পারে না। উদারবাদী বা সেক্যুলার পরিচয়ের পক্ষে এই নীতিমালা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে সেগুলো হুমকির মুখে পড়লে লোকে মনে করে তাদের খোদ অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। মৌলবাদীরা যেমন সেক্যুলারিস্টদের হাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ভয়ে আক্রান্ত থাকে, ঠিক তেমনি ওযের মতো একজন উদারপন্থীও গাশকে হুমকি মনে করেছেন ‘আমাদের উপর এক বর্বর ও উন্মাদ রক্ততৃষা টেনে আনবে’। গাশের আসল লক্ষ্য, তিনি বলেছেন, নাবলুস বা হেব্রন অধিকার নয়, বরং,
