ডোম অভ দ্য রক পরিকল্পনা যুক্তি বর্জন, অলৌকিকের উপর আস্থা ও ইহুদি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো এক ধরনের নিহিলিজমের নজীর তুলে ধরেছে। এই বিপর্যয়কর মেসিয়ানিজম আধুনিক অভিজ্ঞতার দীর্ঘদিনের অংশ মৃত্যুতৃষাকে প্রকাশ করেছে। গাশ এমুনিমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় এটা আবার আত্মবিনাশীও ছিল। স্বর্ণযুগে ইসরায়েলি সাধারণের কোনও কোনও অংশের মাঝে অর্জিত আস্থা আর কোনও দিন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
র্যাবাই মেয়ার কাহানে প্রতিষ্ঠিত আন্দোলন নৈতিক নিহিলিজমে বৈশিষ্ট্যায়িত ছিল। অধিকাংশ ইসরায়েলিদের ভীত করে ১৯৮৪ সালে ১.২ শতাংশ ভোটে নেসেটে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।৯৩ নিউ ইয়র্ক সিটিতে শুরু হয়েছিল তাঁর কর্মজীবন, এখানে ইহুদিদের উপর কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের পরিচালিত হামলার বদলা নিতে ইহুদি প্রতিরক্ষা সংগঠিত করেছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে ইসরায়েলে পৌঁছান তিনি, এবং শেষ পর্যন্ত কিরিয়াত আরবায় থিতু হন, এখানে সংগঠনের নাম পাল্টে কাচ (‘এভাবে!’) রাখেন। এবার তাঁর উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় আরবদের হয়রানি করে এরেত্য ইসরায়েল থেকে বিদায়ে বাধ্য করা। কাহানের মৌলবাদ প্রায় আদিআদর্শমূলক ছিল। তাঁর ইহুদিবাদ এতটাই রিডাকশনিস্ট ও নিষ্ঠুরভাবে নৈর্বাচনিক ছিল যে তা ধর্মবিশ্বাসের মারাত্মক ক্যারিকেচারে পরিণত হয়েছিল। ‘ইহুদিবাদে একাধিক বাণী নেই,’ একজন সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীকে বলেছিলেন তিনি। ‘বাণী একটাই। এবং সেই বাণী হচ্ছে ঈশ্বর যা চান তাই করা।’ বাণী স্রেফ এই: ‘ঈশ্বর এই দেশে এসে আমাদের একটি ইহুদি রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে বলেছেন।৪ পবিত্রতার ইহুদি মতবাদ (কোদেশ: ‘বিচ্ছিন্নতা’, ‘আলাদাভাবে অবস্থান করা’), আচারের ভেতর দিয়ে প্রতীকীভাবে বিভিন্ন বস্তুর মধ্যকার পার্থক্যকে উদযাপন করেছিল, এখন কাহানের ব্যাখ্যায় তা অনন্যভাবে রাজনৈতিক অর্থ নিয়েছিল: ‘ঈশ্বর চান আমরা আমাদের নিজেদের দেশে বিচ্ছিন্নভাবে বাস করি, যাতে বিদেশীদের সাথে আমাদের সম্ভাব্য কম সম্পর্ক থাকে।’৯৫ অর্থাৎ, আরবদের বিদায় নিতে হবে। আব্রাহামের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি গোত্রপিতাদের আমলের মতো আজও বৈধ রয়েছে, সুতরাং আরবরাই দখলদার। ৬ জেনেসিসের মিথোস এভাবে জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিত্তিতে পরিণত হয়েছিল। এই রিডাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তিসঙ্গতভাবেই ভয়ানক সন্ত্রাসের মেসিয়ানিক দর্শনের দিকে চালিত করে। ছয় দিনের যুদ্ধের বিজয়ের পর ইহুদিরা ‘নিষ্কৃতির উপান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল। ইহুদিবাদের একক নির্দেশনার কারণে তাদের ব্রত পরিষ্কার। তাদের উচিত ছিল এলাকা অধিকার করে আরবদের বহিষ্কার করে ‘টেম্পল মাউন্ট থেকে জেন্টাইলদের বিভীষিকা’ দূরীভূত করা। তারা কাজটা করলে অনায়াসে সানন্দে উপস্থিত হত নিষ্কৃতি। ইসরায়েল ব্যর্থ হওয়ায় মেসায়াহ আসবেন বটে, কিন্তু সেটা হবে হলোকাস্টের চেয়েও ভয়ানক ব্যাপক অ্যান্টি-সেমিটিক বিপর্যয়ের ভেতর দিয়ে, শেষ পর্যন্ত যা সকল ইহুদিকে ঈশ্বরের নির্দেশনা মানতে ও ইসরায়েল বাস করতে বাধ্য করবে।৯৭
ধ্বংস ও মৃত্যুর এই অন্ধকার দর্শন গভীরভাবে নিহিলিস্টিক। এটা ঘৃণা ও প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষায়ও ভরপূর। ধর্ম সম্পর্কে কাহানের ভীতিকর বিকৃত দর্শন নির্যাতন ও দমনের দীর্ঘকালীন অভিজ্ঞতার প্রভাব তুলে ধরে, সুযোগ দিলে যা আত্মার গভীরে প্রবেশ করে তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। কাহানের ধর্মতত্ত্ব সর্বত্র শত্রু দেখতে পায়, ক্রিশ্চান, নাৎসি, কৃষ্ণাঙ্গ, রাশিয়ান বা আরব যাই হোক না কেন, শত্রু শেষ পর্যন্ত এক এবং অদ্বিতীয়। সবকিছুই ইহুদি ভোগান্তি এবং সেই ভোগান্তির বিরুদ্ধে প্রতিশোধের অবস্থান থেকে দেখা হয়। ইসরায়েল রাষ্ট্র ইহুদিদের জন্যে কোনও আশীর্বাদ ছিল না, বরং জেন্টাইলদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের প্রতিশোধ
ঈশ্বর ইহুদির জন্যে বা তার ন্যায়বিচার ও ভালো কাজের পুরস্কার হিসাবে এই রাষ্ট্র সৃষ্টি করেননি। এর কারণ তিনি, সব প্রশংসা তাঁর, স্থির করেছেন যে তাঁর পক্ষে আর তাঁর নামের অপবিত্রকরণ এবং তাঁর নামে নামকরণকৃত জাতিকে নিয়ে পরিহাস, অসম্মান ও নির্যাতন সহ্য করা সম্ভব নয়, সুতরাং, তিনি ডায়াসপোরার সম্পূর্ণ বিপরীত ইসরায়েল রাষ্ট্রকে অস্তিত্ব দিয়েছেন।৯৮
যখনই জেন্টাইলের হাতে কোনও ইহুদি প্রহৃত বা ধর্ষিত হচ্ছে, ঈশ্বরের নাম অপবিত্র হচ্ছে: ‘ইহুদি অপমানিত হলে ঈশ্বর গ্লানি বোধ করেন! তবে এর উল্টোটাও সত্য। সহিংস প্রতিশোধ কিদ্দুশ হা-শেম, ঈশ্বরের নামের পবিত্রকরণ : ‘বিস্মিত জেন্টাইল বিশ্বের মুখের উপর একজন ইহুদির মুঠাঘাত গত দুই সহস্ৰ বছরে দেখা যায়নি, এটাই কিদ্দুশ হা-শেম। ১৯৯
এই আদর্শই একজন কাহানেবাদী বারুচ গোল্ডস্তেইনকে ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ কেভ অভ দ্য প্যাট্রিয়ার্কে পুরিম উৎসবের সময় উনত্রিশ জন প্যালেস্তাইনি উপাসককে হত্যায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। ২৪শে আগস্ট, ১৯২৯ প্যালেস্তাইনিদের হাতে নিহত উনষাট জন ইহুদির প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল সে। প্রতিশোধের এই কাজটি খোদ ইসরায়েলে ইসলামি অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসের বৃদ্ধি ডেকে এনেছিল।
