তাদের শত্রু হিসাবে চিন্তা করাটাই যথেষ্ট খারাপ ছিল, কিন্তু তাদের হতাশ করে শ্রমিকদলীয়রা তাদের পবিত্র সংগঠনসমূহ ও নিজেদের কেবল অ-ইহুদিই নয় বরং বিশেষভাবে ইহুদিবিরোধী হিসাবে প্রত্যাখ্যাত হতে শুনেছে। শ্রমিকরা কি আদৌ পবিত্র?’ পরিহাসের সুরে জানতে চেয়েছেন র্যাবাই। ‘তারা কি নিজেদের অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি নতুন তোরাহর সন্ধান করেনি?’ এইসব কিব্বুত্যনিক জেন্টাইলদের চেয়ে উন্নত নয়; তারা এমনকি সাব্বাথ বা ইয়োম কিপ্পুর কী তাই জানে না। কেমন করে এই ধরনের লোকদের ‘ইহুদি জনগণের জটিল ও আবিশ্যিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া যায়?’ শ্রমিক দলীয় রাজনীতিকদের সাথে কোনও রফা হতে পারে না। ‘ওরা নেসেটে থাকার সময় ধার্মিকতাকে জোরাল করার কোনও আগ্রহ তাদের ছিল না। বরং উল্টো, তারা এমন সব আইন পাশ কারানোর চেষ্টা করেছে যেগুলো ইহুদি ধর্মকে ধ্বংস করে দেবে।’৭৬ ইয়াদ এলিয়াহু স্টেডিয়ামে সেদিনের সন্ধ্যার তাৎপর্য কেবল র্যাবাই শ্যাচের একা, বিনা সহযোগিতায় অনায়াসে ক্ষমতার ভারসাম্য লিকুদ পার্টির দিকে চালিত করাতেই নিহিত ছিল না, বরং তা হেরেদিমের ঘৃণিত অস্পৃশ্য গ্রুপ হতে ক্ষমতার কেন্দ্রে অসাধারণ অভিযাত্রাও চিহ্নিত করেছিল। ঘটনাটি আবার ইসরায়েলে ‘দুটি জাতির’ অস্তিত্বও তুলে ধরেছে, যারা একে অন্যের ভাষা বোঝে না বললেই চলে এবং তাদের কোনও সম-উদ্বেগও নেই। কেবল জেন্টাইলদের উদ্দেশে পরিচালিত ক্রোধ নয়, বরং সতীর্থ ইহুদিদের বিরুদ্ধেও অসংখ্য হেরেদিমের ধার্মিকতাকে অনুপ্রাণিতকারী গভীর ঘৃণাও তুলে ধরেছে এটা।
চরমপন্থী ধার্মিক যায়নবাদী ও গাশ এমুনিমের সদস্যরাও যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত ছিল। তারা বিদ্রোহী ছিল, একদিকে তাদের দৃষ্টিতে সেক্যুলার জাতীয়তাবাদ ও অন্যদিকে অর্থডক্সির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান সংগঠিত করছিল। ইহুদিদের পক্ষে জীবন ব্যাপকভাবে বদলে গিয়েছিল। তারা বুঝতে পারছিল যে, ডায়াসপোরার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঐতিহ্যের সাথে ইহুদিদের বেঁধে রাখার আর প্রয়োজন নেই, কারণ মেসিয়ানিক যুগের সূচনা হয়েছে। এটা ছিল শাব্বেতেই যেভির পর প্রথম প্রধান ইহুদি প্রাদুর্ভাব। সেই সময়েও ইহুদিরা নিজেদের ক্রান্তিকালের অধীন ভেবেছে এবং বিশ্বাস করেছে যে, নজীরবিহীন পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে তারা। কিন্তু শাব্বেতিয়রা যেখানে ঘেটোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, গাশ সদস্যরা আঞ্চলিকভাবে নিজেদের সীমাবদ্ধ মনে করেছে। শাব্বেতিয়দের মতোই সীমানার ব্যাপারে দারুণ আচ্ছন্ন ছিল, এবং এরেযত ইসরায়েলের সীমানার প্রতিই বেশি নজর দিলেও তারাও ইহুদিবাদের সীমানা ও সীমা নির্ধারণের জন্যে লড়াই করছিল। সেক্যুলার ও ধার্মিক ইহুদিদের ভেতরকার বাধা অপসারণ করতে চেয়েছে তারা।৭৭
হেরেদিমরা যাই ভেবে থাকুক না কেন, কুকবাদীদের বিশ্বাস ছিল যে, একই সাথে অর্থডক্স ও যায়নবাদী হওয়া সম্ভব। তারা সেক্যুলারিস্টদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় মাত্রা ছাড়া যায়নবাদ অসম্পূর্ণ বলেও জোর দিয়েছিল তারা। কিন্তু কঠিন বছর ছিল এগুলো। কুকবাদীরা লিকুদ সরকার কর্তৃক বেঈমানির শিকার হয়েছে বলে ভেবেছে, ইয়ামিত থেকে তাদের বহিষ্কার করেছিল তারা, এবং আরবদের সাথে শান্তি স্থাপন করে নিস্তার প্রক্রিয়াকে থমকে দিয়েছে। ১৯৮৭ সালে সূচিত ইন্তিফাদা (‘ঝাঁকুনি দেওয়া’ বোঝাতে আরবী পরিভাষা ) হিসাবে পরিচিত প্যালেস্তাইনি গণবিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত শ্রমিক দলকে পশ্চিম তীরের পবিত্র ভূখণ্ডের নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকায় কুকবাদীদের চোখে ক্যাম্প ডেভিডের চেয়েও অগ্রহণযোগ্য মনে হওয়া শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করলে আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল বলে মনে হয়েছে। কুকবাদীরা ক্রমবর্ধমানহারে নিজেদের বৈরী জেন্টাইল বিশ্ব দিয়ে আবদ্ধ মনে করছিল-অনেকটা ডায়াসপোরার ইহুদিদের মতো-কিন্তু আবার সতীর্থ ইহুদিদের দিয়েও, যারা তাদের সাধ্যের রয়েছে বলে মনে হওয়া সম্পূর্ণতা অর্জন থেকে ওদের পিছু টানছিল।
এর ফলে ভূমিতে গাশের অতীন্দ্রিয় আনন্দ ক্রোধের তুরীয় আনন্দে পরিণত হয়েছিল, অনেক সময় যা ভীতিকর সহিংসতায় বিস্ফোরিত হতে পারে, প্রথম নজীর আরবদের বিরুদ্ধে। অতীতের আরও আশাবাদী দিনে গাশ বসতি স্থাপনকারীরা অধিকৃত এলাকায় প্যালেস্তাইনিদের ‘সাহায্য’ ও দুই জাতির মধ্যকার ‘ঘৃণার প্রাচীর’ ভেঙে ফেলার জন্যে আগমনের ঘোষণা দিয়েছিল, যদিও এই প্রস্তাবের সাথে জড়িত শর্তাবলী অনেপনীয় বৈরিতা তুলে ধরে: ‘আমরা এসেছি হত্যার পরিবেশ থেকে তোমাদের পরিশুদ্ধ করতে যাতে তোমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছ,’ ১৯৭০-র দশকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন লেভিংগার।” তাঁর আচরণ ক্রমবর্ধমানহারে উস্কানীমূলক হয়ে উঠেছিল। পশ্চিম তীরের আরব শহরে অস্ত্র হাতে আগ্রাসীভাবে হাঁটাচলা করতেন তিনি। কোনও বসতিতে প্যালেস্তাইনি আক্রমণের ঘটনা ঘটলে তিনি তখন অ্যক্টিভিস্টদের প্রতিশোধমূলক, ভিজিলান্তে হামলায় নেতৃত্ব দিতেন, গাড়ির কাঁচ ভাঙতেন বা দোকান পাটে আগুন লাগিয়ে দিতেন। ইন্তিফাদার সূচনা ঘটার পর তিনি বলেছিলেন, যখনই তিনি হেব্রনের কাছে যান, ‘আমার ভেতর এক উন্মত্ত চেতনা জেগে ওঠে আমাকে যা শান্তি দেয় না।’৭৯ ১৯৮৮ সালে, হেব্রনে তাঁর গাড়ির উপর ইটপাটকেল মারা হলে লেভিংগার ঝটপট বের হয়ে হামলাকারীদের উপর গুলি বর্ষণ শুরু করেন, নিজের জুতোর দোকানের সামনে স্রেফ দাঁড়িয়ে থাকা সালাহকে হত্যা করেন, পাথর ছোঁড়ায় তার ভূমিকা ছিল না। পরে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন লেভিংগার, নির্বিচারে গুলি ছুঁড়তে থাকেন, তরকারীর গাড়ি উল্টে দেন এবং চড়া গলায় মুখখিস্তি করতে থাকেন। বিচারে তিনি বলেছিলেন, কাউকে হত্যা না করলেও ‘একজন আরবকে হত্যা করার সম্মান’ পেলে খুশিই হতেন তিনি।
