মরাল মেজরিটি নিজেকে স্রেফ মৌলবাদীদের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখেনি। নেতৃবৃন্দ জাতিগত ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গিগত মিল আছে এমন অন্য লোকদের সাথেও সহযোগিতা করতে চেয়েছেন ও আমেরিকার সকল রক্ষণশীলের জন্যে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছেন। নতুন গ্রুপটির তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব সৃষ্টি করতে হলে সমমনা রোমান ক্যাথলিক, পেন্টাকোস্টালিস্ট, মরমন, ইহুদি ও সেক্যুলারিস্টদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, কেননা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ছিল ইভাঞ্জেলিকাল প্রটেস্ট্যান্ট।৮৪ প্রথমবারের মতো বাস্তবভিত্তিক বিবেচনায় চালিত হয়ে মৌলবাদীরা তাদের বিচ্ছিন্নতাকে একপাশে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছিল, ছিটমহল ছেড়ে আলিঙ্গন করেছিল আধুনিক জীবনের বহুত্ববাদকে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন ঘটেছিল। ফলওয়েল, লাহাই, ডিক্সন ও বব বিলিংটন মৌলবাদী ছিলেন, কিন্তু পল ওয়েরিচ ছিলেন ইহুদি ও হাওয়ার্ড ফিলিপস ও ভিগনেরি ছিলেন ক্যাথলিক। এই বহুত্ববাদ তাঁদের কিছু মৌলবাদী সমর্থন নষ্ট করেছিল: উদাহরণ স্বরূপ, দ্বিতীয় বব জোন্স ফলওয়েলকে ‘আমেরিকার সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি৮৫ আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু আসলে মরাল মেজরিটির সাধারণ সমর্থন প্রধানত প্রটেস্ট্যান্টই ছিল। তৃণমূল সহানুভূতি কেন্দ্ৰিভূত ছিল দক্ষিণে, ডব্লুএএসপি বৃত্তের বাইরে আন্দোলনের তেমন একটা আবেদন ছিল না। রক্ষণশীল ক্যাথলিকরা মরাল মেজরিটির গর্ভপাত ও সমকামীদের অধিকার ও স্বাধীন স্কুলগুলোর কর অবকাশ সংক্রান্ত অবস্থানে সমর্থন করতে পারলেও অনেকেই মৌলবাদীদের রোমান ক্যাথলিকবাদের প্রতি ঘৃণার কথা ভুলতে পারেনি। একইভাবে ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ ব্যাপ্টিস্ট ও পেন্টাকোস্টালিস্টরা আন্দোলনের প্রথমসারির নেতা ও পৃষ্ঠপোষকের বর্ণবাদে বিতৃষ্ণা বোধ করবে। উদাহরণ স্বরূপ, সিনেটর জেসি হেলমস সিভিল রাইটস আন্দোলনের উগ্র বিরোধী ছিলেন। ৬
মরাল মেজরিটির বার্তা নতুন ছিল না। উদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্যে যুদ্ধ করছিল তা। সদস্যরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সভ্যতাকে অবশ্যই ধর্মীয় হওয়ারতে হবে বলে নিশ্চিত ছিল এবং এর নীতিমালা হবে বাইবেল ভিত্তিক। বর্তমানে আমেরিকা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুব উপকূলে কেন্দ্রিভূত একটি সেক্যুলার অভিজাতগোষ্ঠী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। ফলওয়েলের ভাষায় এই উদারবাদীরা ‘নীতিহীন সংখ্যালঘুতে’ পরিণত হয়েছিল। রক্ষণশীলদের নিজেদের প্রতিক্রিয়াশীল, প্রান্তিক গ্রুপ হিসাবে কল্পনা করা ঠিক হবে না। প্রকৃতপক্ষে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধিত্ব করে, অবশ্যই তাদের প্রথাগত মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে। ‘আমরা কোটি কোটি-আর ওরা মাত্র কয়েক জন,’ দাবি করেছেন টিম লাহাই।৮৭ ‘প্রটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকদের সাথে মিলে এই দেশ চালানোর মতো যথেষ্ট ভোট আমাদের আছে,’ দর্শকদের বলেছেন প্যাট রবার্টসন। ‘আর লোকে যখন বলে, “আমাদের যথেষ্ট হয়েছে,” আমরা তখন ক্ষমতা নিতে যাচ্ছি।’৮৮
১৯৭০ দশকের শেষ ও ১৯৮০-র দশকের গোড়ার দিকে কিছু মৌলবাদী পুরোনো প্রিমিলেনিয়াল দুঃখবাদের পরিমার্জনা শুরু করেছিল। বিশ্ব সামগ্রিকভাবে অভিশপ্ত, কিন্তু ক্রিশ্চানদের বিশ্বকে ইভাঞ্জেলাইজ করার, গস্পেলের বাণী প্রচার ও একে যত বেশি সম্ভব লোকের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করার দায়িত্ব ছিল। ক্রিশ্চানরা তৎপর হলে পরমানন্দের আগেই আমেরিককে উদ্ধার করা যেতে পারে। আমাদের দেশের কোনও আশা আছে?’ ১৯৮০ সালে ওল্ড টাইম গস্পেল আওয়ারে প্রশ্ন রেখেছিলেন ফলওয়েল:
আমি তাই মনে করি। আমরা যেভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখি, প্রার্থনা করি, ক্রিশ্চান হিসাবে আমরা যেভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছি, যেটা কিনা ইচ্ছামাফিক হত্যা, আমরা যেভাবে পর্নগ্রাফির বিরুদ্ধে, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, আমেরিকায় ঐতিহ্যবাহী পরিবার ব্যবস্থার ভাঙন, সমকামীদের বিয়ের পক্ষাবলম্বনের বিরুদ্ধে যেভাবে আমরা অবস্থান নিয়েছি, এবং আমরা যেভাবে এই দেশটি যাতে টিকে থাকতে পারে, আর আমাদের সন্তানরা যাতে আমাদের মতো আমেরিকাকে চিনতে পারে সেজন্যে শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছি…আমার মনে হয় ঈশ্বর আরও একবার আমেরিকাকে আশীর্বাদ করার মতো আশা আছে।৮৯
পঞ্চাশ বছরের নীরবতার পর নিউ ক্রিশ্চান রাইট হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে যাওয়া মৌলবাদীরা আক্রমণে চলে গিয়েছিল, কিন্তু যত কিছুর পক্ষে ছিল তার চেয়ে বেশি বিষয়ের বিরোধিতা করেছে তারা। সকলে মরাল মেজরিটিকে বা এমনকি এর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দেয়নি। কিন্তু এই নতুন উগ্র ক্রিশ্চানরা ছিল গর্ভপাত বিরোধী, সমকামীদের অধিকারের বিরোধী, মাদক বিরোধী। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে যেকোনও রকমের দাঁতাতের বিরোধিতা করেছে তারা, দেশটিকে সবসময়ই তারা শয়তানি সাম্রাজ্য মনে করেছে। টেলিভেঞ্জালিস্ট জেমস রবিসনের চোখে, [ক্রাইস্টের] প্রত্যাবর্তনের আগে শান্তির যে কোনও শিক্ষা ধর্মদ্রোহীতা…ঈশ্বরের বাণী বিরোধী; এটা অ্যান্টিক্রাইস্ট।৯০ মরাল মেজরিটি ও নিউ ক্রিশ্চান রাইটের এজেন্ডা বর্জনবাদী ছিল, আমেরিকাকে গ্রাস করার হুমকি সৃষ্টিকারী আসন্ন অশুভের বিরুদ্ধে ক্রুসেড।
