নিষ্কৃতিহীন বিশ্বে সকল রাজনীতিই দূষিত হওয়ায় পিতা কুক যেখানে ইহুদিদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়া ঠিক হবে না বলে বিশ্বাস করতেন সেখানে ছেলে কুকের বিশ্বাস ছিল যে মেসিয়ানিক যুগের সূচনা হয়েছে এবং রাজনৈতিক সংশ্রব কাব্বালিস্টের অতীন্দ্রিয় যাত্রার মতো পবিত্রতার চরম শিখরে আরোহণ। ৪ তাঁর দর্শন আক্ষরিক মতবাদগতভাবে দিক থেকে হলিস্টিক ছিল। ভূমি, জনগণ, ও তোরাহ এক অদৃশ্য ত্রয়ী সৃষ্টি করেছে। কোনও একটিকে ত্যাগ করা মানে সবকটিকেই ত্যাগ করা। ইহুদিরা বাইবেলে নির্ধারিত সীমানা মোতাবেক ইসরায়েলের সমগ্র ভূমিতে বাস না করা পর্যন্ত নিষ্কৃতি আসতে পারে না: এই সময় আরবদের অধিকারে থাকা এলাকাসহ সম্পূর্ণ দেশের অধিকার এক মহান ধর্মীয় দায়িত্বে পরিণত হয়েছিল।৮৫ কিন্তু ১৯৫০-র দশকের শেষ দিকে গাহেলেত কুকের দেখা পাওয়ার মুহূর্তে এমন কিছু অর্জনের সামান্যই সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রের সীমানায় গালিলি, নেজেভ ও উপকূলীয় সমতল অন্তর্ভুক্ত ছিল। জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের বাইবেলিয় ভূমি জর্দানের হাশেমিয় রাজ্যের অধিকারে ছিল। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কুক। সব কিছুই পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। এমনকি ইহুদিদের ডায়াসপোরা ছেড়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য করায় হলোকাস্ট নিষ্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। ইহুদিরা ‘বিদেশী ভূমির অপবিত্রতাকে এমন শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল যে শেষ সময় উপস্থিত হওয়ায় বিপুল রক্তপাতের ভেতর দিয়ে সেখান থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে,’ ১৯৭৩ সালে এক হলোকাস্ট ডে সারমনে ব্যাখ্যা করেছেন কুক। ঐতিহাসিক এইসব ঘটনা ঈশ্বরের স্বর্গীয় হাতের প্রকাশ ঘটিয়েছে, এবং ‘তোরাহ এবং যা কিছু পবিত্র তার পুনর্জন্ম ঘটিয়েছে।’ এভাবে ইতিহাস ‘বিশ্ব জগতের প্রভুর সাথে’ এক মিলনের ব্যবস্থা করেছে
মিথকে বাস্তবে পরিণত করার ব্যাপারটি অবশেষে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রাক আধুনিক বিশ্বে পুরাণ ও রাজনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। রাষ্ট্র নির্মাণ, সামরিক অভিযান, কৃষি ও অর্থনীতি এসবই ছিল লোগোসের যৌক্তিক অনুশীলনের এখতিয়ার। মিথ এইসব বাস্তব কর্মকাণ্ডকে ধারণ করে অর্থ যোগাত। মিথ আবার শুদ্ধিকরণের উপায় হিসাবেও কাজ করতে পারত এবং নারী-পুরুষকে যুক্তির বাস্তব বিবেচনাকে অতিক্রম করে যাওয়া সহানুভূতির মতো মূল্যবোধ মনে করিয়ে দিত। পার্থিব কোনও বাস্তবতা ঐশী প্রতীকে পরিণত হতে পারে, কিন্তু সেটা নিজে কখনও পবিত্র হতে পারে না, যুক্তির অগম্য নিজের অতীত সেই দিকে ইঙ্গিত করে। কিন্তু এইসব পাথক্যকে অগ্রাহ্য করে কুক এমন কিছু নির্মাণ করেছেন কেউ যাকে বহু ঈশ্বরবাদীতা বলতে পারে। সেনাবাহিনী কি ‘পবিত্র’ হতে পারে যেখানে দোষী ব্যক্তিদের সাথে নিরীহ লোকজনকে হত্যা করার মতো ভয়ঙ্কর কাজ করতে বাধ্য হয় তারা? ঐতিহ্যগতভাবে মেসিয়ানিজম মানুষকে স্থিতাবস্থার সমালোচনায় আনুপ্রাণিত করেছে, কিন্তু কুক একে ইসরায়েলের নীতির প্রতি চরম অনুমোদন দিতে ব্যবহার করবেন। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধকে অস্বীকারকারী বিনাশী মতবাদের জন্ম দিতে পারে। ইসরায়েল রাষ্ট্রকে পবিত্র পরিণত করে এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে পরম মূল্য দিয়ে কুক বিংশ শতাব্দীর কিছু ভয়ঙ্করতম জাতীয় নিষ্ঠুরতার জন্যে দায়ী প্রলোভনের কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন। প্রবীন র্যাবাই কুকের অন্য ধর্মবিশ্বাস ও সেক্যুলার বিশ্বের দিকে হাত বাড়ানো অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শন হারিয়ে গিয়েছিল। ছেলে কুক ইসরায়েলের আশার পথে বাধা দানকারী গোয়িম ক্রিশ্চান ও আরবদের প্রতি ঘৃণায় পরিপূর্ণ ছিলেন।’ অতীতের দর্শনে যুক্তি ও মিথকে ভিন্ন হলেও সম্পূরক হিসাবে বিবেচনাকারী প্রজ্ঞা ছিল। ছেলে কুকের দুটোকে একসাথে জোয়ালবদ্ধ করায় বিপদের ঝুঁকি ছিল।
গাহেলেত অবশ্যই এই দর্শন গ্রহণ করেনি। র্যাবাই কুকের হলিস্টিক আদর্শ যায়নবাদকে ধর্মে পরিণত করেছিল। ঠিক এরই খোঁজ করছিল তারা। মারকায হারাভের পূর্ণসময়ের ছাত্রে পরিণত হয়ে এই আবছা ইয়েশিভাকে ইসরায়েলের মানচিত্রে স্থাপন করে। কুককেও তারা অনেকটা ইহুদি পোপে পরিণত করে, যাঁর সিদ্ধান্তসমূহ অবশ্য পালনীয় ও ভ্রান্তিহীন ছিল। এই তরুণরা কুকের ক্যাডারে পরিণত হয়; অচিরেই নতুন মৌলবাদী যায়নবাদের নেতায় পরিণত হবে তারা: মোশে লেভিংগার, ইয়াকভ আরিয়েল, শ্লোমো আভিনার, হাইম দ্রুকমান, দোভ লিয়র, যালমান মেলামেদ, আভ্রাহাম শাপিরা ও এলিয়েযার ওয়াল্ডমান। জাতিকে ঈশ্বরের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ১৯৬০-র দশকে মারকায হারাভে একটি আক্রমণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তারা। সেক্যুলার রাষ্ট্র ইসরায়েলের ধর্মীয় সম্ভাবনা অর্জনের জন্যে প্রবীন কুকের পরিকল্পিত সেক্যুলার ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির দ্বান্দ্বিক সংশ্লেষের বদলে র্যাবাই ভি ইয়েহুদা ঈশ্বর কর্তৃক সেক্যুলারের অত্যাসন্ন অধিকারের স্বপ্ন দেখেছেন।
অবশ্য শত উৎসাহ সত্ত্বেও গাহেলেত পরিকল্পনার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারেনি। সমগ্র দেশে বসতি স্থাপন বা জাতির মন বদলানোর মতো কার্যকর কিছু করার ছিল না তাদের, কিন্তু ১৯৬৭ সালে ইতিহাস হাত মিলিয়েছিল।
