নিজস্ব স্কুল ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছিল তাদের। ১৯৪০-র দশকে রাভ মোশে যুভি নেরিয়া ধার্মিক যায়নবাদী ছেলেমেয়েদের জন্যে বেশ কয়েকটি অভিজাত বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই ইয়েশিভা হাই স্কুলগুলোতে পাঠ্যক্রম ছিল খুবই উচ্চমানের; ছাত্ররা তোরাহর পাশাপাশি সেক্যুলার বিষয় পড়াশোনা করত। হেরেদিমদের বিপরীতে এই নিও-অর্থডক্স ধার্মিক যায়নবাদীরা তাদের আধুনিক জীবনের প্রধান ধারা থেকে দূরে সারিয়ে রাখতে হবে বলে মনে করেনি। এটা তাদের হলিস্টিক দর্শনের বিরোধিতা করবে; তাদের বিশ্বাস ছিল যে ইহুদিবাদ এইসব জেন্টাইল বিজ্ঞানকে স্থান করে দেওয়ার মতো যথেষ্ট বিশাল, কিন্তু তোরাহ পাঠকেও খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছিল তারা, তোরাহ ও তালমুদ শিক্ষা দেওয়ার জন্যে হেরেদি ইয়েশিভোতের স্নাতকদের নিয়োগ দিয়েছিল। ইয়েশিভা হাইস্কুলে মিথোস ও লোগোসকে তখনও সম্পূরক মনে করা হত। তোরাহ ঈশ্বরের সাথে এক অতীন্দ্রিয়বাদী সাক্ষাতের ব্যবস্থা যোগাত ও সামগ্রের অর্থ প্রদান করত, যদিও এর কোনও বাস্তব উপযোগিতা ছিল না। মিদ্রশিয়াত নোয়ামের প্রিন্সিপাল র্যাবাই ইয়েহোশুয়া যেমন ব্যাখ্যা করেছেন, ছাত্ররা জীবীকা নির্বাহের জন্যে বা ‘অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক অস্তিত্বের উপায় হিসাবে’ তোরা পাঠ করত না। বরং তোরাহকে অবশ্যই ‘এর খাতিরেই পাঠ করতে হবে’; সেক্যুলার বিষয়ের লোগোসের বিপরীতে এর বাস্তব কোনও ব্যবহার ছিল না, বরং তা ছিল স্রেফ ‘মানুষের সমগ্র লক্ষ্য’।° অবশ্য ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পড়াশোনাই ধার্মিক তরুণ যায়নিস্টদের জন্যে যথেষ্ট ছিল না। ১৯৫০-র দশকে বয়স্ক ছাত্রদের জন্যে ইয়েশিভোত প্রতিষ্ঠা করা হয় যেগুলোর ধার্মিক তরুণদের তোরাহ পাঠের সাথে আইডিএফ-এ জাতীয় চাকরিকে সমন্বিত করার উপায় দিয়ে নতুন ইসরায়েলি সরকারের সাথে বিশেষ ‘ব্যবস্থা’ (হেসদার) ছিল।
ধার্মিক যায়নবাদীরা এভাবে নিজেদের জন্যে ভিন্ন জীবনধারা সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু রাষ্ট্রের গোড়ার দিকের বছরগুলোয় কেউ কেউ পরিচয় সংকটে ভুগছে। তারা যেন দুই জগতের মাঝখানে পড়ে গিয়েছিল: সেক্যুলারিস্টদের চোখে তারা যথেষ্ট যায়নবাদী ছিল না, এবং তাদের সাফল্যসমূহ রাষ্ট্রকে অস্তিত্ব দানকারী সেক্যুলার অগ্রদূতদের সাফল্যের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারছিল না। একই ভাবে হেরেদিমের পক্ষে যথেষ্ট অর্থডক্স ছিল না তারা, জানত তোরাহয় তাদের দক্ষতার সাথে পাল্লা দিতে পারবে না। এই সংকট ১৯৫০-র দশকের গোড়ার দিকে আরও একটি তরুণ অভ্যুত্থানের দিকে চালিত করেছিল। এক ইয়েশিভা হাই স্কুল ফার হারো’এহ-র চৌদ্দ বছরের দশবারজন ছেলের একটা ক্ষুদে দল হেরেদিমদের মতোই আরও কঠোর ধর্মীয় জীবন যাপন করতে শুরু করে। তারা শোভন পোশাক ও লিঙ্গের বিচ্ছিন্নতার উপর জোর দেয়, চটুল কথাবার্তা ও তুচ্ছ বিনোদনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ও দুষ্কৃতকারীদের বিচারের মাধমে একে অন্যের জীবনের উপর নজরদারী করতে থাকে। তীব্র জাতীয়তাবাদের সাথে হেরেদি উৎসাহকে সম্পর্কিত করে এরা নিজেদের নাম দিয়েছিল গাহেলেত (‘জ্বলন্ত অঙ্গার’)। কেন্দ্রে একটি ইয়েশিভাসহ কিব্বুত্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখত ওরা, যেখানে পুরুষরা হেরেদিমের মতো দিন রাত সারাক্ষণ তালমুদ পাঠ করবে ও আল্ট্রা অর্থডক্স কায়দায় নিম্নতর তবে লোগোসের সম্পূরক বলয়ে অবনমিত নারীরা তাদের ভরণপোষণ করবে, জমিতে চাষ করবে। ধার্মিক যায়নবাদী বলয়ে অভিজাত গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছিল গাহেলেতরা, কিন্তু তাদের মনে হয়েছিল যে হাসিদিম ও মিসনাগদিমের মতো নির্দেশনা দানের জন্যে একজন র্যাবাই না মেলা পর্যন্ত তাদের অর্থডক্সি পূর্ণতা পাবে না। ১৯৫০-র দশকের শেষের দিকে র্যাবাই আব্রাহাম ইত্যহাত কুকের ছেলে প্রবীন র্যাবাই ভি ইয়েহুদা কুকের আকর্ষণে বন্দি হয়ে পড়ে এরা, ষষ্ঠ অধ্যায়ে তাঁর রচনাবলী আলোচিত হয়েছে।৮১
গাহেলেত র্যাবাই ভি ইয়েহুদার দর্শন যখন পায় ততদিনে তিনি সত্তর বছর বয়স্ক হয়ে গেছেন, বাবার তুলনায় অর্ধেকও নন বলে সাধারণভাবে মনে করা হত তাঁকে। উত্তর জেরুজালেমেরে মারকায ইয়েশিভার প্রিন্সিপাল ছিলেন তিনি। বাবা প্রতিষ্ঠা করলেও মাত্র বিশ জন ছাত্র নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছিল সেটা। কিন্তু ছেলে কুকের ধারণাগুলো নিমেষে গাহেলেতের কাছে আবেদন সৃষ্টি করল, কারণ তিনি বাবা আব্রাহাম ইত্যহাকের চেয়ে ঢের অগ্রসর ছিলেন এবং বাবা কুকের জটিল দ্বান্দ্বিক দর্শনকে এতটাই সরলীকরণ করেছিলেন যে তা আধুনিক আদর্শের সংহত রূপ নিয়েছিল। প্রবীন কুক সেক্যুলার যায়নবাদে স্বর্গীয় উদ্দেশ্য দেখেছিলেন, কিন্তু র্যাবাই ভি ইয়েহুদা বিশ্বাস করতেন যে, সেক্যুলার ইসরায়েল রাষ্ট্রই ঈশ্বরের রাজ্য তাউত কোর্স; এর জমিনের প্রতিটি কণা পবিত্ৰ:
এরেত্য ইসরায়েলে আগত প্রতিটি ইহুদি, ইসরায়েলের জমিনে রোপন করা প্রতিটি গাছ, ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া প্রতিটি সৈনিক অক্ষরিকভাবে আরেকটি আধ্যাত্মিক পর্যায় গঠন করে; নিষ্কৃতির প্রক্রিয়ায় আরেকটি স্তর।৮২
হেরেদিম যেখানে স্বাধীনতা দিবসে ছাত্রদের আর্মি প্যারেড দেখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সেখানে ছেলে কুক জোরের সাথে বলেছেন, সেনাবাহিনী যেহেতু পবিত্র তাই সেটা দেখা ধর্মীয় দায়িত্ব। সৈনিকরা তোরাহ পণ্ডিতদের মতোই ন্যায়নিষ্ঠ, তাদের অস্ত্র প্রার্থনার চাদর বা ফিলাক্ট্রিজের মতোই পবিত্র। ‘যায়নবাদ স্বর্গীয় বিষয়,’ জোরের সাথে বলেছেন র্যাবাই ভি ইয়েহুদা। ‘ইসরায়েল রাষ্ট্র স্বর্গীয় সত্তা, আমাদের পবিত্র ও মহান রাজ্য।৮৩
