ইনকারনেশন: মানবরূপে ঈশ্বরের প্রকাশ।
ইশরাক (আরবী): আলোকন। দর্শন ও আধ্যাত্মিকতার ইশরাকি মতবাদ ইয়াহিয়া সুহরাওয়ার্দি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ইসলাম (আরবী): ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণ।
জাহিলিয়াহ (আরবী): অজ্ঞতার কাল। আরবের ইসলাম-পূর্ব সময়কালকে বোঝাতে মুসলমানরা ব্যবহার করেন।
কাবাহ (আরবী): আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত মক্কার চৌকো আকৃতির গ্রানিট উপাসনালয়। কালাম (আরবী): আক্ষরিক অর্থে ‘বিতর্ক। মুসলিম ধর্মতত্ত্ব। যৌক্তিক উপায়ে কোরান ব্যাখ্যা করার প্রয়াস।
কেননাসিস (গ্রিক): স্বয়ং-শূন্যকরণ।
কেরিগমা (গ্রিক): গির্জার স্পষ্ট ও যৌক্তিকভাবে প্রকাশযোগ্য গণশিক্ষা বোঝাতে গ্রিক ক্রিশ্চানরা ব্যবহার করেছেন, ডগমার বিপরীতে, যা প্রকাশ সম্ভব নয়।
লগোস (গ্রিক): যুক্তি; সংজ্ঞা; বাণী। গ্রিক ধর্মতাত্ত্বিকরা ঈশ্বরের লগোসকে ইহুদি ঐশীগ্রন্থের প্রজ্ঞা বা সেইন্ট জনের গস্পেলের ভূমিকায় উল্লিখিত বাণীর সঙ্গে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
মাদ্রাসা (আরবী): ইসলামি শিক্ষার বিদ্যাপীঠ ।
মানা : দক্ষিণ সাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে ভৌত শক্তিকে ঘিরে রাখা পবিত্র বা ঐশী হিসাবে অনুভূত অদৃশ্য শক্তিকে বর্ণনা করার জন্যে ব্যবহৃত।
মেনোক (পারসি): সত্তার স্বর্গীয় আদর্শ জগৎ।
মারকাভা (হিব্রু): রথ। থ্রোন মিস্টিসিজম দেখুন।
মিশনাহ (হিব্রু): তান্নাইম নামে পরিচিত প্রাথমিক কালের র্যাবাইগণ কর্তৃক সংকলিত, সম্পাদিত ও পরিমার্জিত ইহুদি আইন। ছয়টি প্রধান খণ্ডে ও তেষট্টি ক্ষুদ্র অংশবিশিষ্ট আইন তালমুদের আইনসঙ্গত আলোচনা ও ধারা বিবরণীর ভিত্তি ।
মিতভাহ (বহুবচনে মিতযভোত): নির্দেশ। মুসলিম (আরবী): ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণকারী।
মুতাযিলাহ (আরবী): কোরানকে যৌক্তিক ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস গ্রহণকারী মুসলিম গোষ্ঠী।
নির্বাণ (হিন্দী): আক্ষরিক অর্থে অগ্নিশিখার মতো শীতল’ বা ‘নিভে যাওয়া, বিলুপ্তি। বৌদ্ধরা পরম বাস্তবতা, লক্ষ্য এবং মানবজীবনের পরিপূর্ণতা ও বেদনার সমাপ্তি বোঝাতে ব্যবহার করে থাকে। একেশ্বরবাদীদের অনুসন্ধানের ঈশ্বরের মতো এটাও যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যাযযাগ্য নয় বরং অনুভূতির ভিন্ন বলয়ে এর অবস্থান।
নুমিনাস (লাতিন numen হতে): আত্মা। পবিত্র, দুয়ে ও হলিনেসের অনুভূতি যা সবসময় বিস্ময় ও আতঙ্কের জন্ম দেয়।
ওইকুমিন (গ্রিক): সভ্য জগৎ। অর্থডক্স, অর্থডক্সি: আক্ষরিক অর্থে, সঠিক শিক্ষা। গ্রিক ক্রিশ্চানরা চার্চের সঠিক মতবাদসমূহ অনুসরণকারীদের সঙ্গে ধর্মদ্রোহী আরিয়ান বা নেস্টোরিয়ান ধর্মদ্রোহীদের পার্থক্য বোঝাতে ব্যবহার করত। এ শব্দটি কড়াকড়িভাবে ‘আইন মান্যকারী প্রথাগত ইহুদিবাদকে বোঝায়।
ওইসা (গ্রিক): মূলসত্তা, প্রকৃতি। বস্তুর মূল পরিচয় । ভেতর থেকে দেখা ব্যক্তি বা বস্তু। ঈশ্বরে প্রযুক্ত শব্দটি সেই স্বর্গীয় মূল সত্তাকে বোঝায় যা মানবীয় উপলব্ধি ও বোধের অতীত।
পারযুফ (বহু বচনে পারযুফিম হিব্রু): মুখায়ব। ট্রিনিটির মতো। কাব্বালাহর কোনও কোনও রূপে কল্পনা করা হয়েছে যে বোধের অতীত ঈশ্বর বিভিন্ন ‘অবয়বে’ নিজেকে মানুষের সামনে প্রকাশ করেন, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট রয়েছে।
প্যাট্রিয়ার্কস: ইসরায়েলিদের পূর্ব পুরুষ আব্রাহাম, ইসাক ও জ্যাকবকে বোঝাতে ব্যবহৃত।
পারসোনা, (বহুবচনে পারসোনে লাতিন): অভিনীত চরিত্রকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার জন্যে অভিনেতার পরিহিত মুখোশ। পাশ্চাত্যের ট্রিনিটির তিনটি হিপোস্তাসে বোঝাতে এ শব্দ প্রয়োগ পছন্দ করে। তিন ‘ব্যক্তি’ হলেন পিতা, পুত্র ও আত্মা।
পির (আরবী): মুসলিম অতিন্দ্রীয়বাদীদের আধ্যাত্মিক নির্দেশক। প্রফেট : যিনি ঈশ্বরের পক্ষে কথা বলেন।
ঋগবেদ : বিসিই ১৫০০-৯০০ সময়ে রচিত ভক্তিমূলক বাণী সংকলন যেখানে সিন্ধু উপত্যকায় আগ্রাসন পরিচালনাকারী ও উপমহাদেশের স্থানীয় লোকদের ওপর নিজেদের ধর্ম চাপানো আর্যদের বিভিন্ন বিশ্বাস ব্যক্ত হয়েছে ।
সেফিরাহ, (বহুবচনে সেফিরদ হিব্রু): ‘সংখ্যায় পরিবর্তন’! কাব্বালাহয় ঈশ্বরের স্বপ্রকাশের দশটি পর্যায়। দশটি সেফিরদ হচ্ছে;
১. কেদার এলিয়ন; সর্বোত্তম মুকুট।
২. হোখমাহ; প্রজ্ঞা।
৩. বিনাহ : বুদ্ধিমত্তা।
৪. হেসেদ: প্রেমময় দয়া।
৫. তিফারেদ : সৌন্দর্য।
৬. নেতস্যাখ; স্থায়িত্ব।
৭. হদ: অভিজাত্য।
৮. ইয়োসেদ, ভিত্তি।
৯. মালকুদ; রাজত্ব, শেকিনাহ নামেও অভিহিত।
সেফার্নির্ম: স্পেনের ইহুদি।
শাহাদাহ: মুসলিম বিশ্বাসের ঘোষণা: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনও প্রভু নেই এবং মুহাম্মদ (স) তাঁর বার্তাবাহক।
শরিয়াহ: কোরান ও হাদিসের ভিত্তিতে প্রণীত ইসলামের পবিত্র আইন।
শেকিনাহ (হিব্রু শেকান থেকে): কারও তাঁবু স্থাপন। পৃথিবীতে ঈশ্বরের উপস্থিতি বোঝাতে র্যাবাইদের ব্যবহৃত পরিভাষা, ইহুদির ঈশ্বর অনুভূতি ও খোদ অলৌকিক সত্তার পার্থক্য বোঝায়। কাব্বালাহয় একে শেষ সেফিরদ হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
শেমা: ইহুদিদের বিশ্বাসের ঘোষণা; ‘শোন (শেমা) ইসরায়েল, ইয়াহ্ওয়েহ্ আমাদের ঈশ্বর; ইয়াহ্ওয়েহ্ একক!’ (ডিউটেরোনমি ৬:৪)।
শিয়াহ: (আলির দল)। মুসলিম শিয়াদের বিশ্বাস পয়গম্বর মুহাম্মদের (স) মেয়ে জামাই ও চাচাত ভাই আলি ইবন আবি তালিব এবং ইমামগণ ও তাঁর উত্তরসূরিদেরই ইসলামি জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।
