বুদ্ধ (হিন্দী): আলোকিত জন। এ উপাধিটি নির্বাণপ্রাপ্ত অগণিত নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়, তবে প্রায়শঃই বুদ্ধ ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার্থ গৌতমের কথা বোঝায়।
জিকর (আরবী): কোরান নির্দেশিত আল্লাহর স্মরণ’। সুফীবাদে জিকর আল্লাহর নামোচ্চালণকে মন্ত্রের মতো রূপ দেওয়া হয়।
ডগমা : গির্জার গুপ্ত গোপন ঐতিহ্য বর্ণনার জন্যে গ্রিক ক্রিশ্চানরা ব্যবহার করেছে, যা কেবল অতিন্দ্রীয়ভাবে উপলব্ধিযোগ্য এবং প্রতীকী উপায়ে প্রকাশযোগ্য। এখন পশ্চিমে ডগমা বলতে স্পষ্ট এবং কর্তৃত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে বর্ণিত মতামতের সংগ্রহে বোঝায়।
ডিনামিজ (গ্রিক): ঈশ্বরের ‘ক্ষমতাদি’। পৃথিবীতে ঈশ্বরের কর্মতৎপরতা বোঝাতে গ্রিকরা ব্যবহার করত যাকে তাঁর অগম্য সত্তা হতে একেবারে আলাদা হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।
এক্সটেসি (গ্রিক): আক্ষরিক অর্থে, ‘সত্তার বাইরে গমন।’ ঈশ্বরে প্রযুক্ত, এটা এক গোপন ঈশ্বরের কেননাসিস ইঙ্গিত করে, যিনি মানুষের কাছে নিজেকে তুলে ধরার জন্যে আপন অন্তর্মুখীতা অতিক্রম করে যান।
এল: কানানের প্রাচীন পরম ঈশ্বর, যাঁকে ইসরায়েলের জনগণের পূর্বপুরুষ আব্রাহাম, ইসাক ও জ্যাকবের ঈশ্বরও মনে করা হয়।
ইমেনেশন: একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বস্তু একটি একক আদি উৎস হতে প্রবাহিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, একেশ্বরবাদীরা যাকে ঈশ্বর অ্যাখায়িত করেছে। দার্শনিক ও অতিন্দ্রীয়বাদীসহ কিছু সংখ্যক ইহুদি, ক্রিশ্চান ও মুসলিম সময়ের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে ঈশ্বর কর্তৃক তুরিৎ সৃষ্টির প্রচলিত বাইবেলিয় কাহিনীর চেয়ে জীবনের উৎস। বর্ণনায় এই রূপকল্পটির ব্যবহার বেশি পছন্দ করে।
এন সফ (হিব্রু): অন্তহীন। ইহুদিদের অতিন্দ্রীয়বাদী কাব্বালাহ ধর্মতত্ত্বে ঈশ্বরের দুর্বোধ্য, অগম্য ও জ্ঞানাতীত মূল সত্তা।
এনার্জিয়াই (গ্রিক: শক্তিসমূহ): পৃথিবীতে ঈশ্বরের তৎপরতা’, যা আমাদের তার একটা আভাস পেতে সক্ষম করে তোলে। ডিনামিজের মতো শব্দটি ঈশ্বরের অনির্বচনীয় ও উপলব্ধির অতীত সত্তার সঙ্গে মানুষের ধারণার পার্থক্য বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
এনুমা এলিশ: নববর্ষ উৎসবে বর্ণিত পৃথিবী সৃষ্টির বর্ণনা সমৃদ্ধ বাবিলনিয় মহাকাব্য। এপিফ্যানিঃ মানবরূপে দেব বা দেবীর পৃথিবীতে আবির্ভাব।
ফালসাফাহ (আরবী): দর্শন। প্রাচীন গ্রিক যুক্তিবাদের আলোকে ইসলাম ব্যাখ্যার প্রয়াস।
ফানা (আরবী): বিলীন। মোহাবিষ্ট অবস্থায় সুফী অতিন্দ্রীয়বাদীর ঈশ্বরের মাঝে বিলীন হওয়া।
ফায়লাসুফ (আরবী): দার্শনিক। ফালসাফাহর যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক আদর্শে নিবেদিত ইসলামি সাম্রাজ্যের ইহুদি ও মুসলিমদের বোঝাতে ব্যবহৃত।
গেতিক (পারসি): জাগতিক বিশ্ব, যেখানে আমরা বাস করি, ইন্দ্রিয় দিয়ে
বুঝতে পারি । গডহেড: যে সত্তাকে আমরা ‘ঈশ্বর’ হিসাবে জনি তার অগম্য, গোপন উৎস। গোয়িম (বহু বচনে গায়িম): অ-ইহুদি বা জেন্টাইল।
হাদিস, (বহুবচনে আহাদিস :আরবী): পয়গম্বর মুহাম্মদের (স) বিবরণ বা বাণীর সংগ্রহ।
হজ্জ (আরবী): মক্কায় মুসলিমদের তীর্থযাত্রা।
হেসিচ্যাজম, হেসিচ্যাস্ট (গ্রিক হেসিচিয়া হতে): অন্তরের নীরবতা, স্থৈর্য্য, ভাষা ও ধারণাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া। গ্রিক অর্থডক্স অতিন্দ্রীয়বাদীদের নীরব ধ্যান পদ্ধতি।
হাই গড: বহু মানুষ কর্তৃক পূজিত একক ঈশ্বর হিসাবে পরম উপাস্য, বিশ্বের স্রষ্টা, শেষ পর্যন্ত আরও প্রত্যক্ষ ও আকর্ষণীয় দেবদেবীর দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিলেন। স্কাই গড় হিসাবেও পরিচিত ।
হিজর (আরবী): ৬২২ সিইতে মক্কা হতে মদীনায় মুসলিমদের প্রথম অভিবাসন। এ ঘটনা হতেই ইসলামি কাল গণনা শুরু।
হলিনেস (হিব্রুতে কাদ্দোশ): ঈশ্বরের পরম ভিন্নতা; তুচ্ছ জগৎ হতে ঈশ্বরের চরম বিচ্ছিন্নতা।
হোলি স্পিরিট: পৃথিবীতে ঈশ্বরের উপস্থিতি বোঝাতে শেকিনাহর বদলে র্যাবাইগণ কর্তৃক ব্যবহৃত পরিভাষা। আমাদের অনুভবের এক জানা ঈশ্বরের সঙ্গে চিরকাল আমাদের এড়িয়ে যাওয়া একেবারে দুয়ে সত্তার পার্থক্যকরণের উপায় । খৃস্টধর্মে আত্মা ট্রিনিটির তৃতীয় ব্যক্তি তে পরিণত হয়েছে।
হমোউশন (গ্রিক): আক্ষরিক অর্থে, একই বস্তু বা উপাদান হতে তৈরি। বিতর্কিত শব্দটি আথানাসিয়াস ও তার সমর্থকরা জেসাস পিতা ঈশ্বরের মতো একই প্রকৃতির এই বিশ্বাস প্রকাশ করার জন্যে ব্যবহার করেছেন, এদিক দিয়ে তিনিও ঈশ্বরের মতোই ঐশ্বরিক ।
হিপোসতোসিস (গ্রিক): কোনও ব্যক্তির অন্তস্থঃ প্রকৃতির বাহ্যিক প্রকাশ, মূলসত্তার বিপরীতে, যা ভেতর থেকে প্রত্যক্ষ করা কোনও ব্যক্তি বা বস্তুকে তুলে ধরে। বাইরে থেকে দেখা কোনও ব্যক্তি বা বস্তু। পিতা, পুত্র ও আত্মা, ঈশ্বরের গোপন সত্তার তিনটি প্রকাশ বর্ণনার জন্যে গ্রিকরা শব্দটি প্রয়োগ করেছে।
আইডলেট্রি: দুৰ্জ্জেয় ঈশ্বরের বদলে মানুষ বা মানুষের তৈরি বস্তুর উপাসনা বা সম্মান প্রদর্শন।
ইজতিহাদ (আরবী): স্বাধীন যুক্তি প্রয়োগ।
ইলম (আরবী): ঈশ্বরের গোপন ‘জ্ঞান, শিয়াহ্ মুসলিমরা এটা তাদের ইমামদের একক অধিকারভুক্ত বলে বিশ্বাস করে।
ইমাম (আরবী): শিয়াহ্ মতে ইমাম মুহাম্মদ (স) মেয়ে জামাই আলির বংশধর । ইমামদের ঈশ্বরের অবতার হিসাবে শ্রদ্ধা করা হয়েছে। সুন্নী মুসলিমরা অবশ্য প্রার্থনায় নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে বোঝাতেই শব্দটি ব্যবহার করে।
