এই অদ্ভুত মিথ এক আদিম স্থানচ্যুতির নসটিক মিথেরই স্মৃতিবাহী। এখানে গোটা সৃজনশীল প্রক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট টানাপোড়েন বা টেনশন প্রকাশ পেয়েছে, যা জেনেসিসে বর্ণিত শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল ঘটনার চেয়ে আজকের দিনে বিজ্ঞানীদের অনুমিত বিগ ব্যাং তত্ত্বের অনেক কাছাকাছি। গুপ্তস্থান হতে বেরিয়ে আসা এন সফের জন্যে সহজ ছিল নাঃ তিনি কেবল-যেমন বলা হয়-অনেকটা ট্রায়াল অ্যান্ড এরার প্রক্রিয়ায়ই এটা করতে পারতেন। তালমুদে র্যাবাইরা একই ধরনের ধারণা পোষণ করেন। তারা বলেছিলেন, ঈশ্বর এই বিশ্ব সৃষ্টি করার আগে অন্যান্য বিশ্ব সৃষ্টি ও ধ্বংস করেছেন। কিন্তু সব আশা তিরোহিত হয়ে যায়নি। কোনও কোনও কাব্বালিস্ট এই ‘ভাঙন’ (শেভিরাদ)কে জন্ম লাভ বা বীজের অঙ্কুরোদগমের সঙ্গে তুলনা করেছে। ধ্বংস ছিল নতুন সৃষ্টির পূর্বাভাস মাত্র। যদিও সমস্ত কিছু বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল, এন এফ তিন বা পুর্নগঠনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই আপাত বিশৃঙ্খলা হতে নতুন জীবন বের করে আনবেন।
বিপর্যয়ের পর এন সফ হতে আলোর এক নতুন ধারা বিচ্ছুরিত হয়ে আদম কাদমোনের কপাল কুঁড়ে বেরিয়ে আসে। এই সময় সেফিরদগুলো নতুন বিন্যাসে পুনগঠিত হয়। এগুলো আর ঈশ্বরের সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকেনি। প্রত্যেকটা আলাদা অবয়ব’-এ পরিণত হয় যেখানে ঈশ্বরের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়-যেমন বলা হয়-স্পষ্ট বৈশিষ্টসহ, অনেকটা ট্রিনিটির তিনটি পারসোনার মতোই। লুরিয়া দুয়ে ঈশ্বরের ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে জন্ম দেওয়ার প্রাচীন কাব্বালিস্ট ধারণাকে ব্যাখ্যা করার নতুন উপায় বের করার প্রয়াস পাচ্ছিলেন। তিন প্রক্রিয়ায় লুরিয়া মানুষের জন্ম ও বেড়ে ওঠাকে ঈশ্বরের একই রকম বিবর্তন বোঝাতে ধারণার প্রতীকী রূপ ব্যবহার করেছেন। ব্যাপারটা জটিল-চিত্রের মাধ্যমেই সম্ভবত সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। তিকুনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ঈশ্বর দশটি সেফিরদের নিচে বর্ণিত পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ‘অবয়ব’-এ (পারযুফিম) পুনর্বিন্যাস করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন:
১. কেদার (মুকুট), সর্বোচ্চ সেফিরাহ, দ্য যোহার যাকে কিছু না বলেছে প্রথম Puruf–এ পরিণত হয়, নাম হয় ‘আরিক আনপিন: পূর্বপুরুষ। ২. হোখমাহ (প্রজ্ঞা) পরিণত হয় দ্বিতীয় পারযুফ-এ, নাম আব্বা: পিতা। ৩. বিনাহ (বুদ্ধিমত্তা) পরিণত হয় তৃতীয় পারযুফ-এ, নাম হয় ইমা: মা । ৪. দিন (বিচার); হেসেদ (করুণা); রাখামিম (সহানুভূতি); নেতসাখ (ধৈর্য); হোদ (আভিজাত্য); ইয়েসদ (ভিত্তি) সবগুলো পরিণত হয় চতুর্থ পারযুফ-এ; নাম হয় যায়ের আনপিন: অধৈর্য। তাঁর সঙ্গী হচ্ছে : ৫. শেষ সেফিরাহ যার নাম মালকুদ: রাজ্য কিংবা শেকিনাহ; এটা পরিণত হয় পঞ্চম পারযুফ-এ, নাম হয় নুকরাহ দে যায়ের: যায়েরের রমনী ।
যৌন প্রতাঁকের ব্যবহার সেফিরদের পুনঃএকত্রীকরণ তুলে ধরার এক দুঃসাহসী প্রয়াস, যা পাত্ৰসমূহ ভেঙে পড়ার সময়ের বেদনা উপশম করে আদি ছন্দ ফিরিয়ে আনবে। দুটি দম্পতি’ আব্বা ও ইমা, যায়ের ও নুকরাহ যিউওয়াগে বা সঙ্গমে লিপ্ত। নারী ও পুরুষের এই মিলন ঈশ্বরের মাঝেই পুনঃস্থাপিত শৃঙ্খলার প্রতীক বহন করে। কাব্বালিস্টরা বারবার একে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ না করার জন্যে পাঠকদের সতর্ক করে দিয়েছে। স্পষ্ট যৌক্তিক ভাষায় বর্ণনা। করা যাবে না এমন একটি একীভূত করার প্রক্রিয়ার আভাস দান ও ঈশ্বরের প্রবল পৌরুষ রূপকে নিরপেক্ষ করতে এই কাহিনীর অবতারণা করা হয়েছে। অতিন্দ্রীয়বাদীরা মুক্তিকে যেভাবে দেখেছে সেখানে মেসায়াহর আগমনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর নির্ভরশীলতার কোনও ব্যাপার নেই, বরং ঈশ্বরকেই একটা প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। পাত্রসমূহের ভাঙনের ফলে যেসব স্বর্গীয় লিঙ্গ বিক্ষিপ্ত হয়ে বিশৃঙ্খলায় আটকা পড়ে গিয়েছিল সেগুলোর উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সাহায্যকারী হিসাবে পাবার জন্যে মানুষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন ঈশ্বর। কিন্তু স্বর্গোদ্যানে পাপ করছিলেন আদম। তা যদি তিনি না করতেন, আদি শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপিত হতো এবং প্রথম সাব্বাথে স্বর্গীয় নির্বাসন শেষ হয়ে যেত। কিন্তু আদমের পতন পাত্রসমূহের ভাঙনে আদিম বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সৃষ্ট শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং তার আত্মার স্বর্গীয় আলো বাইরে ছড়িয়ে পড়ে ভাঙা বস্তুসমূহে আটকা পড়ে। পরিণামে, আরেকটা পরিকল্পনা সৃষ্টি করেন ঈশ্বর। সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ রক্ষার সংগ্রামে সাহায্য করার জন্যে ইসরায়েলকে বেছে নিয়েছেন তিনি। যদিও ইসরায়েল সেই স্বর্গীয় স্ফুলিঙ্গসমূহের মতো ডায়াসপোরার নিষ্ঠুর ও ঈশ্বরবিহীন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় আছে, কিন্তু ইহুদিদের এক বিশেষ মিশন রয়েছে। ঐশী স্ফুলিঙ্গ যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বস্তুতে মিশে থাকবে ততক্ষণ ঈশ্বর অসম্পূর্ণ রয়ে যাবেন। তোরাহর সযত্ন অনুসরণ ও প্রার্থনার অনুশীলনের ভেতর দিয়ে প্রত্যেক ইহুদি স্বর্গীয় স্ফুলিঙ্গকে ঐশী উৎসে পুনঃস্থাপনে সাহায্য করে জগতকে উদ্ধার করতে পারে। মুক্তির এই দর্শনে ঈশ্বর মানুষের দিকে তাকিয়ে নেই, বরং ইহুদিরা সবসময় যেটা বলে এসেছে, তিনি বরং মানবজাতির ওপর নির্ভরশীল। ঈশ্বরকে পুনঃআকৃতি দান ও তাকে নতুন করে সৃষ্টির অনন্য সুযোগ রয়েছে। ইহুদিদের ।
