“স্পেনে যে সিক্রেট ফর্মুলার কথা সে বলেছিলো সেটার ব্যাপারে কি বলবে?” বললাম তাকে।
“এটা হলো লাল টকটকে একটি হেরিং মাছ,” ঠাট্টা করে নিম বললো। “গাণিতিক খেলার ব্যাপারে সোলারিন একজন ম্যানিয়াক হিসেবে পরিচিত। নাইট টুরের জন্যে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফর্মুলা আবিষ্কার করেছে সে, সেটা নিয়েই বাজি ধরে, কেউ যদি তাকে হারাতে পারে তাহলে সেটা নাকি তাকে দিয়ে দেবে। তুমি কি নাইট টুর সম্পর্কে কিছু জানো?” আমার হতভম্ব অবস্থা দেখে বললো নিম। মাথা নেড়ে জানালাম আমি জানি না।
“এটি একটি গাণিতিক ধাঁধা। নাইটের সাধারণ নিয়ম মেনেই দাবাবোর্ডে কোনো বর্গে একবারের বেশি ল্যান্ড না করিয়ে সবগুলো বর্গে নাইটকে ঘুরিয়ে আনা। বহুকাল আগে থেকেই গণিতবিদেরা একটা ফর্মুলা বের করার চেষ্টা করে গেছেন এটা করার জন্য। ইউলার এরকম একটি ফর্মুলা আবিষ্কার করেছিলেন। পরে করেছিলেন বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন। একটি ক্লোজ টুর মানে যে বর্গ থেকে তুমি শুরু করেছিলে সেখানে এসেই থামা।”
উঠে দাঁড়িয়ে ওভেনের সামনে চলে গেলো নিম। স্টোভের উপর কিছু পাত্র আর প্যান রাখতে রাখতে কথা বললো সে।
“স্পেনে ইতালিয়ান সাংবাদিকেরা মনে করেছিলো নাইট টুর নিয়ে আরেকটা ফর্মুলা সোলারিন নিজের কাছে লুকিয়ে রেখেছে। অনেক স্তর আর অর্থের সাথে খেলতে পছন্দ করে সোলারিন। ভালো করেই জানে সে যেহেতু একজন পদার্থবিদ সংবাদপত্রগুলো তা লুফে নেবেই।”
“ঠিক। সে একজন পদার্থবিদ,” স্টোভের কাছে একটা চেয়ার নিয়ে বসে বললাম আমি। সঙ্গে করে শেরি মদের বোতলটাও নিয়ে এলাম। তার কাছে যে ফর্মুলাটি আছে সেটা যদি গুরুত্বপূর্ণ কিছু না-ই হয়ে থাকে তাহলে রাশিয়ানরা তাকে স্পেন থেকে তড়িঘড়ি তুলে নিয়ে গেলো কেন?”
“পাপারাজ্জি হলে তুমি খুব ভালো করতে,” বললো নিম। “ঠিক এটাই ছিলো তাদের যুক্তি। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, সোলারিন অ্যাকুস্টিক্স পদার্থবিদ্যায় ডিগ্রি নিয়েছিলো। এটা রহস্যময়, অজনপ্রিয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার সাথে একদম সম্পর্কহীন। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে কোনো ডিগ্রি পর্যন্ত দেয়া হয় না। সম্ভবত রাশিয়াতে সে মিউজিক হল ডিজাইন করে, যদি তারা সেরকম কিছু বানাতে চায় তো।”
প্যান্ট্রি থেকে একগাদা শাকসজি আর মাংস নিয়ে স্টোভের কাছে ফিরে এলো নিম।
“তোমার ড্রাইভওয়েতে গাড়ির চাকার কোনো দাগ দেখি নি,” বললাম আমি। “কয়েক দিনের মধ্যে কিন্তু নতুন করে তুষারপাতও হয় নি। তাহলে টাটকা স্পিনাচ আর মাশরুম এলো কোত্থেকে?”
আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো নিম, যেনো আমি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। “তোমার ইনভেস্টিগেশন করার ভালো যোগ্যতা আছে।” সিঙ্কে শাকসজিগুলো রেখে ধুতে শুরু করলো সে। “আমার একজন কেয়ারটেকার আছে, শপিংয়ের কাজটা সে-ই করে। লোকটা আসা যাওয়া করে পেছনের একটা দরজা দিয়ে।”
প্যাকেট থেকে রাইয়ের পাউরুটি আর মাখন বের করলো নিম। বড় একটা ইসে মাখন মেখে তুলে দিলো আমার হাতে। সকালের নাস্তা পুরো শেষ করি নি, লাঞ্চও করা হয় নি সুতরাং আমার কাছে এটা দারুণ সুস্বাদু লাগলো। আর ডিনারের কথা কী বলবো। সেটার কোনো জুড়ি নেই। খাওয়া শেষে আমরা দু’জনে মিলে ডিশগুলো ধুয়ে মুছে রেখে দিলাম। নিম কফি নিয়ে এলো আমার জন্য। এবার আমরা বসলাম ফায়ারপ্লেসের কাছে দুটো চেয়ারে। অন্য একটা চেয়ারে রাখা জ্যাকেটের পকেট থেকে গণকের কথা লেখা ককটেইল রুমালটা নিয়ে এলো সে। দীর্ঘ সময় ধরে ওটা পড়ে গেলো একমনে। পড়া শেষ করে। রুমালটা আমাকে দিয়ে উঠে গেলো ফায়ারপ্লেসের আগুন বাড়িয়ে দেবার জন্য।
“এই কবিতায় বেখাপ্পা এমন কি আছে যা তোমার চোখে পড়েছে?” জানতে চাইলো সে। আমি লেখাটার দিকে তাকালাম, বেখাপ্পা কিছু চোখে পড়লো না।
“তুমি নিশ্চয় জানো চতুর্থ মাসের চতুর্থ দিন হলো আমার জন্মদিন,” বললাম তাকে। মাথা নেড়ে সায় দিলো নিম। ছায়ারপ্লেসের আগুন বেড়ে গেলো এখন।
গণক আমাকে সাবধান করে দিয়েছিলো এ কথাটা যেনো কাউকে না বলি।
যথারীতি তুমি তোমার কথা রেখেছে, ফায়ারপ্লেসে কিছু কাঠ রাখতে রাখতে বললো নিম। এককোণে থাকা একটি টেবিলের কাছে গিয়ে কাগজ আর কলম নিয়ে ফিরে এলো আমার কাছে।
“এটা দেখো,” বললো সে। বড় বড় করে ক্যাপিটাল লেটারে কিছু লেখা। কবিতাটা কপি করেছে সে আলাদা আলাদা লাইনে। আগে এটা বিক্ষিপ্তভাবে ককটেইল রুমালে লেখা ছিলো। কবিতাটি এরকম:
এইসব লাইনগুলোর মতোই এটা একত্রিত হয়ে একটা চাবির আকার ধারণ করবে।
দাবার বর্গের মতো, যখন মাস আর থাকবে চারের ঘরে।
চেক হওয়া রাজাকে সরাতে আরেকটা সুযোগ নেবার ঝুঁকি নিও না।
একটা খেলা রূপকার্ধে আর অন্যটি বাস্তবিক।
অকথিত সময়ের এই প্রজ্ঞা এসেছে বিলম্বে।
সাদার যুদ্ধ চলেছে বিরামহীন।
সর্বত্রই কালো তার ভাগ্য নিশ্চিত করতে মরিয়া হবে।
অব্যাহত রাখো তেত্রিশ আর তিনের অনুসন্ধান।
চিরন্তন আড়াল হলো গোপন দরজা।
“তুমি এখানে কি দেখছো?” আমি কাগজে লেখা তার কবিতাটা যখন পড়ছি তখন জানতে চাইলো নিম।
“কবিতাটার গঠনের দিকে একটু খেয়াল করো,” কিছুটা অধৈর্য হয়ে বললো সে। “তোমার কিন্তু গণিতের মাথা, সেটা একটু ব্যবহার করো।”
