“তুমি কি এটা বাজাতে পারো?” আমার উদ্দেশ্যে বললো সে। “আমি দেখতে পাচ্ছি কি-গুলো একদম পরিস্কার।”
“আমি সঙ্গিতের উপর মেজর করেছি,” বাথরুম থেকে বললাম। “ইঞ্জিনিয়ার আর পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রদের তুলনায় মিউজিশিয়ানরা ভালো কম্পিউটার এক্সপার্ট হয়ে থাকে। নিমের রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পদার্থবিজ্ঞানের ডিগ্রি। জামা পাল্টাচ্ছি যখন তখন লিভিংরুম থেকে কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না। জামা পাল্টে এসে দেখি নিম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার বাইসাইকেল আরোহী পেইন্টিংটা দেখছে। ওটা আমি দেয়ালে উল্টে রেখে গেছিলাম।
“সাবধানে ধোরো,” তাকে বললাম। “এখনও ভেজা আছে।
“তুমি এঁকেছো?” ছবিটার দিকে চেয়ে থেকেই বললো সে।
“এটাই তো আমাকে এইসব সমস্যায় ফেলেছে,” তাকে বললাম। “ছবিটা আঁকার পর ঠিক এরকমই এক লোককে আমি দেখেছি। তাই তাকে অনুসরণ করি আমি…”
“তুমি কি করেছো?” চমকে উঠে আমার দিকে তাকালো নিম।
পিয়ানোর বেঞ্চে বসে পুরো গল্পটা বললাম তাকে। শুরু করলাম লিলি তার কুকুর নিয়ে আমার এখানে আসা থেকে। এবার নিম আমাকে কথার মাঝখানে বাধা দিলো না। কথা শোনার ফাঁকে ফাঁকে পেইন্টিংটার দিকে চকিতে তাকালো সে। শেষ করলাম গণক আর গতরাতে ফিফথ এভিনু হোটেলে গিয়ে কী শুনেছি তা বলে। মহিলার কোনো অস্তিত্বই নাকি নেই। আমার কথা বলা শেষ হলে নিম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলো। আমি ক্লোজেট থেকে রাইডিং বুট বের করে পরতে শুরু করলাম।
“তুমি যদি কিছু মনে না করো, কী ভেবে যেনো বললো নিম, “আমি এই পেইন্টিংটা কয়েক দিনের জন্য ধার নিতে চাচ্ছি।”. ছবিটা দেয়াল থেকে খুলে নিলো সে। “গণকের কাছ থেকে শোনা ঐ কবিতাটি কি তোমার কাছে আছে?”
“এখানেই আশেপাশে কোথাও আছে,” ঘরের জঞ্জালের দিকে চেয়ে বললাম।
“চলো সেটা খুঁজে দেখি,” বললো সে।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর লিউলিনের লেখা ককটেইল রুমালটি খুঁজে পেলাম।
আমার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে নিজের পকেটে রেখে দিলো নিম। এক হাতে ভেজা পেইন্টিং আর অন্য হাতে আমার কাঁধটা ধরে আমাকে নিয়ে বের হয়ে গেলো ঘর থেকে।
“পেইন্টিংটা নিয়ে চিন্তা কোরো না,” যেতে যেতে বললো সে। “এক সপ্তাহের মধ্যে আমি এটা ফিরিয়ে দেবো।”
“তুমি এটা রেখেই দাও,” বললাম তাকে। শুক্রবার আমার সব কিছু। গোছগাছ করা হবে। তোমাকে কল করার এটাই ছিলো প্রথম কারণ। এই সপ্তাহেই আমি দেশ ছাড়ছি। এক বছরের জন্যে যাবো। আমার কোম্পানি আমাকে বাইরে পাঠাচ্ছে একটা কাজে।”
“ঐ বানচোতদের ফার্মটা,” বললো নিম। “তারা তোমাকে কোথায়। পাঠাচ্ছে?”
“আলজেরিয়ায়,” দরজা লাগাতে লাগাতে বললাম।
নিম আমার দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকালো। তারপরই ফেটে পড়লো অট্টহাসিতে। “তুমি মেয়েটা সব সময়ই আমাকে বিস্মিত করো,” বললো নিম। “একঘণ্টা ধরে তুমি আমাকে হত্যা, রাহাজানি আর রহস্যময় ঘটনার গল্প বললে। তারপর এখন বলছো এটা! এটাই তো আসল পয়েন্ট।”
আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। “আলজেরিয়া? বললাম তাকে। “এটার সাথে ঐসব ঘটনার কি সম্পর্ক থাকতে পারে?”
“আমাকে বলল, আমার থুতনিটা একহাতে ধরে সরাসরি তাকালো আমার দিকে। “তুমি কি কখনও মন্তগ্লেইন সার্ভিসের কথা শুনেছো?”
নাইটের ভ্রমণ
নাইট : তুমি দাবা খেলো, তাই না?
যম : তুমি কি করে জানলে?
নাইট : আমি এটা পেইন্টিংয়ে দেখেছি, ব্যালাডে গাইতে শুনেছি।
যম : হ্যাঁ, সত্যি বলতে কি আমি বেশ ভালো দাবাড়ু।
নাইট : তবে তুমি আমার চেয়ে ভালো খেলতে পারো না।
-দ্য সেভেন্থ সিল (প্রখ্যাত সুইডিশ চলচ্চিত্র)
ইঙ্গমার বার্গম্যান
.
মিডলটন টানেলটা প্রায় ফাঁকা। এখন বাজে সন্ধ্য সাড়ে সাতটা। “আমি ভেবেছিলাম আমরা ডিনার করতে যাচ্ছি,” ইঞ্জিনের শব্দের কারণে চিৎকার করে বললাম।
“ডিনার করতেই তো যাচ্ছি,” রহস্যময় ভঙ্গি করে বললো নিম। “লং আইল্যান্ডে আমার বাড়িতে, ওখানে আমি একজন কৃষক হবার প্র্যাকটিস করছি। যদিও বছরের এ সময়টাতে ওখানে কোনো ফসল হয় না।”
“লং আইল্যান্ডে তোমার ফার্ম আছে?” বললাম তাকে। খুবই অদ্ভুত কথা। আমি কখনই ভাবি নি নিমের কোনো বাড়ি-ঘর আছে। অনেকটা ভুতের মতোই সে উদয় হয় আবার সেভাবেই হাওয়া হয়ে যায়।
“অবশ্যই আছে,” দুইরঙা চোখ দিয়ে অন্ধকারে আমার দিকে পিটপিট করে তাকালো সে। “তুমি একমাত্র জীবিত ব্যক্তি যে এটা স্বচক্ষে দেখবে। তুমি তো জানোই আমি আমার প্রাইভেসি কতোটা সুরক্ষা করে চলি। আমি নিজে তোমার জন্য রান্না করে খাওয়াবো বলে ঠিক করেছি। ডিনারের পর তুমি আমার ওখানেই রাতটা থেকে যাবে।”
“আরে দাঁড়াও দাঁড়াও…”
“অবশ্যই যুক্তি আর কারণ দিয়ে তোমাকে কনফিউজ করাটা কঠিন কাজ, বললো নিম। “এইমাত্র বললে তুমি ভয়ঙ্কর বিপদে আছে। বিগত আটচল্লিশ ঘণ্টায় তুমি দু দু’জন লোককে খুন হতে দেখেছো, তোমাকে এই বলে সতর্ক করা হয়েছে যে, এসবের সাথে তুমিও জড়িত। তোমার অ্যাপার্টমেন্টে একা একা রাত কাটানোর কথা নিশ্চয় বলতে পারো না?”
“সকালবেলায় আমাকে কাজে যেতে হবে,” বললাম তাকে।
“তুমি কাজে যাবে না, দৃঢ়ভাবে বললো নিম। এই ঘটনার আদ্যোপান্ত না জানা পর্যন্ত তোমার পেছনে লেগে থাকা লোকগুলো থেকে তোমাকে দূরে থাকতে হবে। এ বিষয়ে তোমাকে কিছু কথা বলার আছে আমার।”
