“তারা রেস্টুরেন্টের ভেতর কুকুর নিয়ে ঢুকতে দেয় না,” আমাকে বললো।
“আমি এটা নিয়ে কী করবো?” দাবাবোর্ডটার দিকে ইশারা করে বললাম।
“তোমার কাছে রাখো,” বললো সে। “তুমি হলে কম্পিউটার জিনিয়াস আর আমি হলাম দাবা বিশেষজ্ঞ। আমরা যদি আমাদের মাথাটা একসাথে ঠিকমতো খাটাতে পারি তাহলে নিশ্চিত পুরো বিষয়টা বুঝতে পারবো। কিন্তু তার আগে তোমাকে দাবা খেলাটা শিখতে হবে। আর সেটা এখনই।”
একটু থেমে আবার বললো, “তুমি এ কথাটা শুনেছো, সৈন্যরা হলো দাবার প্রাণ’?”।
“হুমম। মনে হয় শুনেছি, তবে ধরতে পারছি না। কে বলেছে?”
“আঁদ্রে ফিলিদোর, আধুনিক দাবার পিতা বলা হয় তাকে। ফরাসি বিপ্লব সময়কালে দাবার উপর একটা বই লিখেছিলেন তিনি। ঐ বইতে ব্যাখ্যা করেছিলেন সৈন্যের দল একত্রে মিলে যেকোনো শক্তিশালী খুঁটির মতোই ক্ষমতাবান হতে পারে। তার আগে কেউ এটা ভাবে নি। শক্তিশালী খুঁটিগুলোর পথ করে দেয়ার জন্য সৈন্যদেরকে বলি দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো।
“তুমি কি বলতে চাচ্ছো, আমরা দু’জন হলাম সেই সৈন্য, যারা একদিন এই রহস্যের সমাধান করবে?” এই আইডিয়াটা অদ্ভুত মনে হলেও আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগলো।
“না,” ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে গেলো লিলি। “আমি বলতে চাচ্ছি সৈন্যবাহিনীতে আমাদের যোগ দেবার সময় এসে গেছে এখন।”
আমরা একে অন্যের সাথে হাত মেলালাম।
নাইটের চাকা
কিং আর্থার চমৎকার একটি স্বপ্ন দেখলেন, স্বপ্নটা এরকম : তিনি বসে আছেন এমন এক সিংহাসনে যার নীচে চাকা লাগানো আছে, তার গায়ে মহামূল্যবান স্বর্ণখচিত পোশাক…হঠাৎ করে রাজার মনে হলো তার সিংহাসনের চাকা উল্টে যাচ্ছে, তিনি পড়ে গেলেন অসংখ্য বিষাক্ত সাপের মাঝখানে, তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো সাপগুলো নিজের বিছানায়, ঘুমের মধ্যেই রাজা চিৎকার করে উঠলেন, “বাঁচাও!”
-লে মর্তে দার্থার
স্যার টমাস ম্যালোরি
রিগনাবো, রেগননা, রেগনাভি, সাম সাইন রেগনো।
(আমি রাজত্ব করবো, আমি রাজত্ব করি, আমি রাজত্ব করেছি, আমি রাজত্ববিহীন)।
–হুইল অব ফরচুন-এ খোদিত বাণী
দ্য টারোট
দাবা টুর্নামেন্টের পরদিনটি ছিলো সোমবার। গা ঝাড়া দিয়ে আলস্য দূর করে বিছানা থেকে উঠে চলে গেলাম গোসল করতে। কন এডিসনে আরেকটা দিন অতিবাহিত করার প্রস্তুতি নিতে হবে। গোসল করে ফিরে এসে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্রের মাঝখানে টেলিফোনটা খুঁজলাম। গতকাল পাম হোটেলে ডিনার করার আগে যে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গেছে সেটা নিয়ে লিলি আর আমি অবশেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, আমরা দু’জন অন্য কারোর খেলায় দাবার খুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছি। এখন নিজের বোর্ডে ক্ষমতাশালী কোনো খুঁটি পেতে চাচ্ছি আমি। ভালো করেই জানি কোত্থেকে আমাকে শুরু করতে হবে।
লিলি আর আমি একমত পোষণ করেছি, আমাকে দেয়া সোলারিনের সতর্কবার্তার সাথে দাবা টুর্নামেন্টের ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এরপর যা হয়েছে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। লিলির দৃঢ় বিশ্বাস যা কিছুই ঘটেছে তার পেছনে রয়েছে সোলারিন।
“প্রথমে ফিস্ক মারা গেলেন রহস্যজনকভাবে,” চারপাশে পাম গাছে ঘেরা একটা কাঠের টেবিলে বসে বলেছিলো লিলি। “কিভাবে বুঝবো সোলারিন তাকে হত্যা করে নি? এরপর সল উধাও হয়ে গেলো আমার গাড়ি আর কুকুরটাকে দুষ্কৃতিকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। সলকে অবশ্যই অপহরণ করা হয়েছে, তা না হলে সে কখনও এভাবে গাড়ি ফেলে রেখে যেতো না।”
“তা অবশ্য ঠিক, লিলিকে বিশাল এক টুকরো মাংস সাবাড় করতে দেখে হেসে বললাম কথাটা। আমিও জানি বিরাট কোনো ঘটনা না ঘটলে সল এভাবে গাড়ি ফেলে রেখে যেতো না।
খাবার খেতে খেতে লিলি বলতে লাগলো, “তারপর আমাদের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লো,” আবারো বিরতি দিলো মাংসে কামড় বসানোর জন্যে। “আমরা দু’জনেই জানি গেমিংরুমের জানালা দিয়ে গুলিটা ছোঁড়া হয়েছে।”
“গাড়িতে দুটো বুলেটের ফুটো ছিলো, তাকে মনে করিয়ে দিলাম। “আমরা গাড়ির কাছে চলে আসার আগে হয়তো কেউ গুলি ছুঁড়ে সলকে ভয় দেখিয়ে গাড়ি ফেলে চলে যেতে বাধ্য করেছে।”
“কিন্তু আগে ভালো করে খেয়ে নেই,” বললো লিলি। তার মুখভর্তি খাবার। “আমি শুধু পদ্ধতি আর মাধ্যমই আবিষ্কার করি নি, বরং এর উদ্দেশ্যটাও বের করে ফেলেছি!”
“তুমি কী বলছো?”
“আমি জানি সোলারিন কেন এই জঘন্য কাজটা করেছে। গরুর মাংস আর সালাদ খেতে খেতে এটা আমি বের করেছি এখন।”
“শুধু বললে তো হবে না, আমাকে কু দাও,” বললাম তাকে। ক্যারিওকা লিলির ব্যাগের ভেতর থেকে ধারালো নখ দিয়ে খামচাচ্ছে।
“তুমি নিশ্চয় স্পেনের কেলেংকারিটার কথা জানো?” বললো লিলি।
“পাঁচ বছর আগে হঠাৎ করে সোলারিনকে যখন রাশিয়াতে পাঠিয়ে দেয়া হলো তার কথা বলছো?” সে সায় দিলো আমার কথায়। “তোমার কাছ থেকেই তো এটা শুনেছিলাম।”
“পুরো ঘটনাটি ঘটেছিলো একটা ফর্মুলা নিয়ে,” বললো লিলি। “সোলারিনকে দাবা টুর্নামেন্টের মাঝপথে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মাঝেমধ্যে সে টুর্নামেন্টে খেলে থাকে। একজন গ্র্যান্ডমাস্টার হলেও পড়াশোনা করেছে পদার্থ বিজ্ঞানে, এটাই তার পেশা। স্পেনের টুনামেন্টে অন্য এক খেলোয়াড়ের সাথে সোলারিন বাজি ধরেছিলো, সে যদি তাকে টুর্নামেন্টে হারাতে পারে তাহলে তাকে একটি সিক্রেট ফর্মুলা দেবে।”
