“তারা যদি মি: ফিস্কের জায়গায় কোনো প্রশিক্ষিত বানর নিয়ে না আসে তাহলে শুরু করা সম্ভব হবে না।”
“আপনি তার খেলা নিয়ে খুব একটা ভাবেন না মনে হয়? নোটবুকে কিছু কথা টুকতে টুকতে রিপোর্টার বললো।
“আমি তার খেলা নিয়ে মোটেও ভাবি না,” ঠাট্টাচ্ছলে জবাব দিলো লিলি। “আপনারা তো জানেনই আমি শুধু আমার খেলা নিয়েই ভাবি।” লিলি রিপোর্টারদের ঠেলেঠুলে চলে গেলেও পেছন পেছন তারা আসতে লাগলো। “আর খেলার কথা যদি বলেন, আমি যতোটুকু দেখেছি তাতে এটা কিভাবে শেষ হবে তা জানি।” ডাবল-দরজাটা দিয়ে মেইন রোডে চলে এলাম আমরা দু’জন।
“সল গেলো কোথায়?” বললো লিলি। “গাড়িটা তো সামনেই পার্ক করার কথা ছিলো।”
রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি লিলির নীল রঙের কর্নিশ গাড়িটা বুকের শেষমাথায়, ফিফথ এভিনুর কাছে পার্ক করা আছে। তাকে দেখালাম সেটা।
“দারুণ, আমার দরকার আরেকটা পার্কিং টিকেট,” সে বললো। “চলো। এখান থেকে, ভেতরে ঐ খবরটা ফাঁস হবার আগেই কেটে পড়া ভালো।” হাড়। কাঁপানো শীতের মধ্যে আমার হাতটা ধরে ছুটে চললো লিলি। গাড়ির কাছে আসতেই আমি বুঝতে পারলাম ভেতরে সল নেই। তাকে আশেপাশে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
রাস্তাটা পার হয়ে সলকে খুঁজলাম। গাড়ির কাছে আবার ফিরে এসে দেখি ইগনিশনে চাবিটা ঝুলছে। ক্যারিওকাও নেই ভেতরে।
“আমি বিশ্বাস করতে পারছি না!” রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো লিলি। “সল জীবনেও এভাবে গাড়ি রেখে অন্য কোথাও যায় নি। সে গেছে কোথায়? আমার কুকুরটাই বা গেলো কোথায়?”
গাড়ির সিটের নীচ থেকে একটা গোঙানীর মতো শব্দ হলো। দরজা খুলে উপুড় হয়ে সিটের নীচে হাত দিতেই আমার হাতে একটা জিভ লাগলো। ক্যারিওকাকে ওখান থেকে টেনে বের করলাম আমি। উঠে দাঁড়াতেই এমন একটা জিনিস দেখতে পেলাম যে রক্ত হিম হয়ে গেলো। ড্রাইভারের সিটে একটা ফুটো।
“দেখো,” লিলিকে বললাম। “এই ফুটোটা কিসের?”
লিলি কাছে এসে উপুড় হয়ে সেটা দেখতে যাবে ঠিক তখনই ভোতা একটি শব্দ হলো। সঙ্গে সঙ্গে হালকা ঝাঁকি খেলো গাড়িটা। পেছন ফিরে তাকালাম, কিন্তু আশেপাশে কাউকে দেখতে পেলাম না। গাড়ি থেকে বের হয়ে এলাম, ক্যারিওকাকে রেখে দিলাম পেছনের সিটে। গাড়ির একটা পাশে তাকালাম, সেটা মেট্রোপলিটান ক্লাবের দিক। সেখানে আরো একটা ফুটো দেখতে পেলাম, একটু আগেও সেটা ছিলো না। স্পর্শ করে দেখলাম বেশ উষ্ণ।
মেট্রোপলিটান ক্লাবের জানালাগুলোর দিকে তাকালাম আমি। বেলকনিগুলোর একটা ফ্রেঞ্চ জানালা খোলা, ঠিক তার উপরেই আমেরিকার জাতীয় পতাকা উড়ছে। কিন্তু সেখানে কেউ নেই। এটা গেমিংরুমের একটি জানালা, আরবিটারাদের টেবিলের পেছনে। আমি এ ব্যাপারে একদম নিশ্চিত।
“হায় জিশু, ফিসফিসিয়ে বললাম লিলিকে। “কেউ আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করছে!”
“কী যা তা বলছো,” বললো সে। কাছে এসে গাড়ির গায়ে বুলেটের ফুটোটা দেখলো। তারপর আমার দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকালো ফ্রেঞ্চ জানালাটার দিকে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে রাস্তায় কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তোতা শব্দটা যখন শুনেছি তখন আমাদের পাশ দিয়ে কোনো গাড়িও চলে যায় নি।
“সোলারিন!” আমার হাতটা খপ করে ধরে বললো লিলি। “সে তোমাকে ক্লাব থেকে চলে যাওয়ার জন্যে বলেছিলো, তাই না? ঐ বানচোতটা আমাদেরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে!”
“সে আমাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলো আমি যদি ক্লাবের ভেতরে থাকি তাহলে বিপদে পড়বো,” তাকে বললাম। “এখন তো আমি ক্লাবের বাইরে চলে এসেছি। তাছাড়া, কেউ যদি আমাদেরকে গুলি করতে চাইতো তাহলে এতো অল্প দূরত্ব থেকে সেটা লক্ষ্যচ্যুত হবার কথা নয়।”।
“সে আমাকে টুর্নামেন্ট থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে!” লিলি জোর দিয়ে বললো কথাটা। “প্রথমে সে আমার ড্রাইভারকে অপহরণ করেছে, তারপর আমার গাড়িতে গুলি। আমি অবশ্য এতো সহজে ভয় পাবার মেয়ে নই।”
“তুমি না পাও, আমি পাচ্ছি। তাকে বললাম। “চলো এখান থেকে!”
দ্রুত ড্রাইভারের সিটে বসে পড়লো লিলি, তার মানে সে আমার সাথে। একমত। ফিফথ এভিনু ধরে গাড়িটা ছুটে চলতে লাগলো।
“ক্ষিদেয় পেট পুড়ে যাচ্ছে,” বাতাসের ঝাঁপটার মধ্যেই বললো সে।
“তুমি এখন খেতে চাচ্ছো?” আমি চিৎকার করে বললাম। “তোমার কি মাথা খারাপ? আমার মনে হচ্ছে সবার আগে আমাদের পুলিশের কাছে যাওয়া। উচিত।”
“প্রশ্নই ওঠে না,” দৃঢ়ভাবে বললো সে। “হ্যারি যদি এসবের বিন্দুবিসর্গও জানতে পারে সে আমাকে বন্দী করে রাখবে, আমি আর এই টুর্নামেন্টে খেলতে পিরবো না। আমরা এখন কোথাও খেতে যাবো। খেতে খেতে ভাববো কি ঘটে গেছে। খাবার না পড়লে আমার মাথা কাজ করবে না।”
“পুলিশের কাছেই যদি না যাই তাহলে চলো আমার অ্যাপার্টমেন্টে।”
“তোমার ওখানে তো রান্নাঘরই নেই,” বললো লিলি। “আমার ব্রেন সেলগুলো কাজ করার জন্য গরুর মাংস দরকার।”
“আমার অ্যাপার্টমেন্টে চলো। কয়েক ব্লক দূরে থার্ড এভিনুতে একটা স্টিক হাউজ আছে। তবে তোমাকে আগেই বলে রাখছি, খাওয়াদাওয়া করার পর কিন্তু পুলিশের কাছে যেতে হবে।”
লিলি গাড়িটা থামালো সেকেন্ড এভিনুতে অবস্থিত পাম রেস্টুরেন্টের সামনে। কাঁধের বিশাল ব্যাগ থেকে ছোট্ট দাবোর্ডটা বের করে আমার কোলের উপর রেখে দিলো সে, তারপর খালি ব্যাগের ভেতর রেখে দিলো ক্যারিওকাকে।
