কিছুক্ষণ দুর্গের ভিতরেও লড়াই চলল। কিন্তু মুসলমানদের তীব্র আক্রমণে টিকতে না পেরে হিন্দু সৈন্যরা হাতিয়ার ফেলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করল। এরপর দুর্গের হিন্দু শাসকদের তল্লাশী চালিয়ে জানা গেল, দুর্গশাসক বজরা রাতের অন্ধকারে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে গেছে। সকাল বেলায় সেনা কর্মকর্তারা সতেরো দিনের যুদ্ধে অর্ধেকের চেয়ে কম বেঁচে থাকা সৈন্যদেরকে দুর্গের বাইরে যুদ্ধের জন্য নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধ করার মতো সাহস শক্তি ও মনোবল ছিল না। বিন কাসিমকে এ যুদ্ধে দু’শ পনেরো জন সৈনিক সতেরো জন কমান্ডারও তিন জন সেনাপতিকে হারাতে হয়েছিল।
বিন কাসিম নির্দেশ দিলেন, শহরের সকল সামরিক বেসামরিক লোককে গ্রেফতার করা হোক।
তাৎক্ষণিক নির্দেশ পালিত হলো। সেখান থেকে বৃদ্ধ নারী ও শিশুদের আলাদা করা হলো। এরপর বিন কাসিম নির্দেশ দিলেন, এই শহর ও শহরের প্রতিরক্ষা ব্যুহকে ধ্বংস করে দেয়া হোক। তাই হলো। শহরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হলো।
সিককা শহর ধ্বংসের খবরে হিন্দুস্তানের রাজা মহারাজের মধ্যে দেখা দিলো আতঙ্ক। সারা হিন্দুস্তান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল সিককা শহর ধ্বংসের খবর। রাজা দাহির জীবিত থাকাবস্থায় তার আশেপাশের রাজ রাজড়াদেরকে মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চলিয়েছিলেন। তার পরিবার, উজীর, পরামর্শদাতা ও সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা জানতো, রাজা দাহির আরবদের বিরুদ্ধে হিন্দুস্তানের রাজা মহারাজাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করছেন। এর ফলে রাজা দাহিরের নিহত হওয়ার পরও তার ছেলেসহ অন্যান্য লোকেরা মনে করেছিল, যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দাহির হিন্দুস্তানের অন্যান্য রাজ্যে সৈন্য সাহায্যের জন্যে চলে গেছে। কিন্তু বিন কাসিমের কৌশল ও অব্যাহত দুর্গ দখলের ফলে অল্পদিনের মধ্যে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, রাজা দাহির আসলে বেঁচে নেই। বেঁচে থাকলে তার রাজধানীর পতন এবং পার্শ্ববর্তী দুর্গগুলোর একের পর এক পতনে তিনি নীরব থাকতে পারতেন না।
১৩. সীমান্ত ও দেশের অতন্ত্র প্রহরী
তারা আমাকে ধ্বংস করে দিলো এভাবেই তারা অসংখ্য মর্দে মুজাহিদকে ধ্বংস করেছে যারা ছিল সীমান্ত ও দেশের অতন্ত্র প্রহরী
সিককা শহর ধ্বংসের খবর হিন্দুস্তানের রাজা মহারাজের মধ্যে দেখা দিলো আতঙ্ক। সারা হিন্দুস্তান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল সিককা শহর ধ্বংসের খবর। রাজা দাহির জীবিত থাকাবস্থায় তার আশপাশের রাজরাজড়াদেরকে আরব বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। তার পরিবার, উজির, পরামর্শদাতা ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতো, রাজা দাহির আরবদের বিরুদ্ধে হিন্দুস্তানের রাজা মহারাজাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করছেন। এর ফলে রাজা দাহির নিহত হওয়ার পরও তার ছেলেসহ অন্যান্য লোকেরা মনে করেছিল, যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দাহির হিন্দুস্তানের অন্যান্য রাজ্যে সৈন্য সাহায্যের জন্যে চলে গেছেন। কিন্তু বিন কাসিমের কৌশল ও অব্যাহত দুর্গ দখলের ফলে অল্প দিনের মধ্যে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়, রাজা দাহির আসলে বেঁচে নেই। বেঁচে থাকলে তার রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী দুর্গগুলোর একের পর এক পতনে তিনি নীরব থাকতে পারতেন না।
ঐতিহাসিক ও বিশ্লেষকগণ লিখেছেন, কোন একটি দুর্গ কিংবা অবরোধে রাজা দাহির যদি মুসলমানদের হারিয়ে দিতে পারত তাহলে সেখানে প্রতিবেশী রাজা ও শাসকরা এসে ভীড় করত। সেই বিজয় তখন শুধু রাজা দাহির নয় সকলের ঐক্যতানে মহাবিজয়ে রূপান্তরিত হতো। কিন্তু বিন কাসিমের অভিযানের ক্ষেত্রে তেমন কোন ঘটনাই ঘটল না। তার বাহিনী প্লাবনের বানের মতোই ধেয়ে আসছিল। তার সেনাদের সামনে একের পর এক দুর্গ বালির ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ছিল। রাজা দাহির এসব দেখেও তার রাজধানী ছেড়ে বাইরে বের হয়নি। দাহির ভেবেছিল, বিন কাসিমের সৈন্যরা
দাহিরের রাজধানীতে পৌছার আগেই ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে বেকার হয়ে যাবে। তখন সে তার উদ্যমী সেনাবাহিনী নিয়ে আরব বাহিনীর মুখোমুখি হয়ে সহজেই আরবদের কচুকাটা করে তাদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে। কিন্তু তার প্রতিবেশী রাজা-মহারাজারা প্রত্যক্ষ করছিল, রাজাদাহির একের পর এক দুর্গ হাতছাড়া করেও নির্বিকার আত্মশ্লাঘা অনুভব করছিল, নিজেকে মুসলমানদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রয়োজন বোধ করেনি।
অবশেষে রাজধানী বাঁচানোর জন্য যখন দাহির বিন কাসিমের মুখোমুখি হয় তখন সাদা হাতিসহ সে নিহত হলো। এ খবর শোনার পর দাহিরের প্রতিবেশী রাজ্যশাসকরা সতর্ক হয়ে ভাবল, সত্যিই যদি দাহির নিহত হয়ে থাকে, তবে মুসলমানদের মুখোমুখি যুদ্ধের আগে অন্তত দশবার চিন্তা করতে হবে। এরপর তারা দেখলো, দাহিরের খ্যাতিমান যোদ্ধাপুত্র ও ভাতিজারাও মুসলিম সৈন্যদের মোকাবেলায় পরাস্ত হয়ে তাদের অগ্রভাগে পালিয়ে আসছিল। তারা এটা প্রত্যক্ষ করল, দাহিরের ছেলে ও ভাতিজারা নিজেদের দুর্গ থেকে চুপিসারে নিজেদের একান্ত ভৃত্যদের নিয়ে পালিয়ে এসে অন্য দুর্গে আশ্রয় নিচ্ছিল। এমতাবস্থায় অন্যান্য রাজা ও শাসকরা সিদ্ধান্ত নিলো, এ মুহূর্তে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই না করে তারা স্বাধীন মতো প্রয়োজনে লড়াই করবে, নয়তো মুসলমানদের সাথে মৈত্রীচুক্তি কিংবা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে।
