বিজয় রায় সিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়ে সিসিমে রাজা কাকসার আশ্রয় গ্রহণ করে। সে রাজা কাকাকে বলে, প্লাবনের মতো মুসলিম সৈন্যরা অগ্রসর হচ্ছে। আপনি প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করুন।
‘তোমরা তো জানো, আমরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী, আমরা স্নেহ-মমতার পূজারী, কারো রক্ত ঝরানো আমাদের ধর্মের চেতনা বিরোধী। ‘মুসলমানরা স্বধর্মের লোক ছাড়া সব মানুষের প্রতিই সহিংস।’ বলল বিজয় রায়। যে কোন মানুষের রক্ত ঝরাতে এরা দ্বিধা করে না। তুমি এরপর
কি বলবে তা আমি জানি রাজা কাকাকে বলল বিজয় রায়। তোমার আর কোন কথা শুনতে চাই না। বৌদ্ধ কাপুরুষদের জন্য আজ গোটা হিন্দুস্তান বেদখল হতে চলছে। নিরূনের মতো মজবুত দুর্গও সুন্দরী বিনা বাধায় মুসলমানদের হাতে তুলে দিয়েছে। মৌজ অঞ্চলের বৌদ্ধরা আমাদের সাথে বেঈমানী করার কারণে মুসলমানরা সিস্তান কব্জা করতে সক্ষম হয়েছে। এখন তুমিও ধর্মের বাহানা দিয়ে ওদের পথই অনুসরণ করছ। কোন ধরনের প্রতিরোধ না করে স্বেচ্ছায় অস্ত্র সমর্পণ করেছ সেসব মুসলমানরা তোমাদের কন্যা জায়াদের নিয়ে আমোদ স্ফুর্তি করছে। নানা, ওরা এমন করে না বিজয় রায়। বলল রাজা কাকা। আমি খোজ নিয়েছি। ওদের ব্যাপারে তোমাদের এই অভিযোগ ঠিক নয়। মুসলমানরা যদি নাও করে, তবে আমরাই তোমাদের কন্যা জায়াদের নিয়ে স্ফুর্তি করব। হুমকির সুরে বলল বিজয় রায়। তোমরা কি ভুলে গেছ, রাজা দাহিরের অনুগ্রহে রাজত্ব করছ তোমরা। তুমিও যদি আমাদের সাথে বেঈমানী করো, তাহলে তোমার খান্দানের কোন একটা শিশুকেও জ্যান্ত রাখা হবে না। তোমরা আমার সহযোগিতা করো, আমাকে সিস্তানের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ দাও। তুমি কি জানো না, রাজা দাহির আমার ওপর কতটা নির্ভর করে।
সে কথা তো জানি, কিন্তু বলল, এই অবস্থায় আমি কি করতে পারি? উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল রাজা কাকা। তোমার ইচ্ছা পরিবর্তন করতে হবে। বলল বিজয় রায়। চুন্না বংশের লোকেরা তোমার প্রজা। এরা খুবই দুর্ধর্ষ ও লড়াকু। ওই বংশের যুবকদের দিয়ে একটি বাহিনী গঠন করে আমার সাহায্যের জন্যে বলল।
বদলে গেল রাজা কাকা। সে বিজয় রায়ের কথায় প্রভাবিত হয়ে গেল। সে বিজয় রায়ের সাথে বিন কাসিমের অগ্রাভিযান ও সামরিক চাল সম্পর্কে আলাপ চারিতায় মগ্ন হয়ে গেল। এক পর্যায়ে তারা বিন কাসিমকে পরাজিত করার পরিকল্পনা করতে শুরু করল।
মুহাম্মদ কাসিম এদিকে অগ্রসর হবে এটা কিভাবে জানা যাবে? জিজ্ঞাসু কণ্ঠে বলল বিজয় রায়। মুসলিম বাহিনী এদিকেই আসবে এমনটি মনে করে আমি দুর্গবন্দি হয়ে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত নই। আমি ময়দানে ওদের মোকাবেলা করবো, উন্মুক্ত ময়দানেই সিস্তানে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাই। রাজা দাহির অবশ্য নির্দেশ দিয়েছেন দুর্গবন্দি হয়ে লড়াই করতে। এর ফলে আমরা একটির পর একটি দুর্গ মুসলমানদের দখলে দিতে বাধ্য হচ্ছি। সিস্তানের
পরাজয় আমাকে অস্থির করে তুলেছে। আমি বুঝতে পারছি না সিস্তান থেকে কিভাবে মুসলমানদের বিতাড়িত করব। আমরা খবর নেয়ার জন্যে গোয়েন্দা পাঠাব, প্রস্তাবের সুরে বলল রাজা কাকা। আমার কাছে এমন কোন মেয়ে নেই, যাকে গোয়েন্দা কাজে পাঠানো যায়। এ কাজের জন্য দুইজন সুন্দরী তরুণী দরকার।
সুন্দরী তরুণির প্রয়োজন হলে আমার কাছে বলো। আমার নিজের খান্দানের মধ্যে সুন্দর সুন্দর শিক্ষিত চতুর তরুণী আছে। রাজা কাকসার সাথে পরিকল্পনার পর বিজয় রায় তার নিজ খান্দানের মহিলা ও তরুণীদের ডেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে দুই সুন্দরী তরুণী স্বেচ্ছায় গোয়েন্দা অভিযানে বের হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করল। কাকা এই তরুণীদেরকে তাদের কর্ম পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিল। কাকা বুঝতে পারেনি সে যে কাজের জন্য এই তরুণীদের পাঠাচ্ছে বাস্তবে এ কাজটি তার ধারণা মতো অতোটা সহজ সাধ্য নয়। কাকা মনে করেছিল হিন্দুস্তানের রাজা মহারাজারা যেমন সুন্দরী তরুণী দেখলেই তাকে রাজমহলের অলংকারে পরিণত করে মুসলিম সেনাপতিরাও এমন সুন্দরী রূপসীদের দেখে নিজেদের দীনধর্ম কর্তব্য ভুলে যাবে।
তরুণিরা তাদের ভিতর থেকে সকল গোপন রহস্য উদঘাটন করে সাবাড় করে দেবে। রাজা কাকা তার দেখা অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিন কাসিম সম্পর্কে চিন্তা করেছিল। সে জানতো মহা ভারতের মন্দিরগুলোতে পুরোহিত মণি ঋষিরা পর্যন্ত যৌন লিলা চরিতার্থ করতে নারী পুরুষকে একই সাথে রাখে। এবং তাদের ব্যভিচার কর্মকে ধর্মের আচরণে ঢেকে রাখে। কাকা আরো ভেবেছিল দূর দেশে দীর্ঘ দিন নারী সম্ভোগ থেকে দূরে থাকা মুসলিম সেনাপতিরা সুন্দরী ললনাদের কাছে পেয়ে নিজেদের ক্ষুধা দমিয়ে রাখতে পারবে না। অবশ্য মানবিক চাহিদাও এটাই প্রত্যাশা করে। মহা ভারতের ইতিহাসও তাই বলে যে, বিজয়ী রাজা মহারাজারা বিজিত রাজ্য দখল করে সেখানকার প্রজাদের কাছে প্রথম যে উপঢৌকন প্রত্যাশা করে তা হলো সেখানকার সুন্দরী ললনা।
হিন্দু রাজা মহারাজারা বিজিত রাজ্যে প্রবেশ করে প্রথমেই সেখানকার নারীদের ওপর আগ্রাসন চালাত। বাহ্যিক দৃষ্টিতে সে সময়ের পারিপার্শিকতায় রাজা কাকা যা ভেবেছিল তা যথার্থই ছিল কিন্তু সে বুঝতে পারেনি যে, বিন কাসিম পার্থিব স্বার্থের মোহে ভারত অভিযানে বের। হননি, তিনি এ উদ্দেশেও যুদ্ধের নেতৃত্ব দেননি, জয়ী হলে লোকে তাকে বিজয়ী বীর বলবে এবং বিজিত রাজ্যের সাধারণ লোকজন তার সামনে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে।
