“না।” ইউহাওয়া চমকে উঠে বলে– “আমি তোমার দেহের পূজারী। বিয়ে হয়ে গেলে এই ভক্তি-শ্রদ্ধা ও অনুরাগ আর থাকবে না।”
“আমার অনেক মেয়ে, ছেলে নেই একটিও।” যারীদ উদাস ভাবে তাকে জানায়– “আমি দ্বিতীয় বিবাহ করতে ইচ্ছুক। আমি পুত্র চাই।”
ইউহাওয়া গভীর চিন্তায় ডুবে যায়। কি জবাব দিয়ে তাকে শান্ত করবে ভেবে পায় না। যারীদের ব্যথা তাকে ব্যথিত করে। যেভাবেই হোক যারীদের এই ইচ্ছা সে পূরণ করতে চায়। দীর্ঘ চিন্তার পর একটি উপায় তার মাথায় আসে।
“লাঈছ বিন মোশান নামে আমাদের এক শ্রদ্ধাভাজন লোক আছেন।” ইউহাওয়া বলে তিনি বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী। তার হাতে এক অস্বাভাবিক শক্তি আছে। আমার বিশ্বাস, তিনি নিজ জ্ঞান ও ক্ষমতাবলে প্রথম স্ত্রীর গর্ভেই তোমাকে পুত্র-সন্তান দান করবেন। আমার সাথে এস। তিনি আমার দীক্ষাগুরু।”
যারীদ তার সাথে লাঈছ বিন মোশানের নিকট যেতে প্রস্তুত হয়ে যায়।
♣♣♣
অল্পদিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে দু’পুরুষ কিংবা দু’নারীর মত গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একান্তে বসলে তাদের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরোধী আলোচনাও হত। ইসলামের স্রোতধারা রোধে তারা পরিকল্পনাও করত। কিন্তু মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই সংক্রান্ত পদক্ষেপে যারীদ আগ্রহ দেখাত না। এটা আবার ইউহাওয়া ভালো মনে করত না। ইউহাওয়া তাকে উত্তেজিত ও প্ররোচিত করতে থাকে।
“তুমিই আমার ধর্ম।” যারীদ বিন মুসাইয়্যিব নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর ভঙ্গিতে একদিন ইউহাওয়াকে বলে– “তুমি আমার স্ত্রী হও বা না হও, তোমাকে না দেখে আমি থাকতে পারব না।”
“যারীদ একটি গোপন কথা তোমাকে বলি শোন। আমার পক্ষে কারো স্ত্রী হওয়া সম্ভব নয়। পিতা আমার জীবনকে ইহুদীদের স্বার্থে ওয়াক্ফ করে দিয়েছেন। লাঈছ বিন মোশান আমার এই করণীয় ধার্য করে দিয়েছেন যে, আমি যে করেই হোক ইসলামের শত্রু বৃদ্ধি করে যাব। আমার অন্তরে আমার ধর্ম ছাড়া একমাত্র তোমার মহব্বত রয়েছে। আমাকে তোমার বলে জানবে।”
একদিন যারীদ ইউহাওয়ার সাথে লাঈছ বিন মোশানের কাছে যায়। ইউহাওয়া প্রথমেই তাকে লাঈছের সামনে না নিয়ে বাইরে বসিয়ে রেখে নিজে ভিতরে প্রবেশ করে। যারীদের পরিচয় দিয়ে সে লাঈছকে পরিষ্কার ভাষায় জানায় যে, যারীদকে সে ভালবাসার দেবতা জ্ঞান করে। সে আরও জানায়, এই যারীদই তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। যারীদকে এখানে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যও তাকে জানায় যে, যারীদের কন্যা সন্তান অনেক। পুত্র-সন্তান একজনও নেই।
“যারীদের স্ত্রীর গর্ভে পুত্র-সন্তান দেয়ার ক্ষমতা আপনার আছে কি?” ইউহাওয়া ব্যগ্র কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে।
লাঈছ বিন মোশান বলে– “কেন নয়? আগে তাকে দেখতে হবে। এরপর চিন্তা করে বলব, তার সমস্যার সমাধান কিভাবে করা যায়। তাকে আমার কাছে আসতে বল।”
ইউহাওয়া বাইরে এসে যারীদকে ভেতরে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে বাইরে অপেক্ষা করে। দীর্ঘ সময় পরে লাঈছ তাকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে ইউহাওয়াকে ভেতরে ডেকে নেয়।
“যে ব্যক্তি তোমার ন্যায় সুন্দরী-রূপসী নারীর সাথে এতদিন উঠা-বসা করেও ভালবাসার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারে, সে নিঃসন্দেহে খুবই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোক” লাঈছ নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে মন্তব্য করে– “অথবা সে এতই দুর্বলমনা যে, সে তোমার রূপের জাদুতে পূর্ণাঙ্গভাবে বন্দি হয়ে তোমার গোলামে পরিণত হবে।”
“যারীদ অবশ্যই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোক।” ইউহাওয়া জোর দিয়ে বলে।
“যারীদের ভিতরগত সত্তাটি খুব দুর্বল।” লাঈছ বিন মোশান বলে– “তোমার ব্যাপারে তার সাথে আমার কোন কথা হয়নি। আমি তার সত্তায় ডুবে গিয়ে জেনেছি। লোকটি তোমার মধ্যে বন্দি।”
“পবিত্র গুরুজী।” ইউহাওয়া উদ্বেগের সাথে জানতে চায় তার সম্পর্কে এমন কথা আপনি কেন বলছেন? আমার ইচ্ছা, কেবল তাকে একটি ব্যবস্থা করে দেয়া। আমি তাকে এতই ভালবাসি যে, তার পুত্র-সন্তানের ব্যবস্থা অন্যপন্থায় না হলে আমিই তার পুত্রের গর্ভধারিণী হবো।”
“না বেটি।” লাঈছ দৃঢ়তার সাথে বলে–“তোমার গর্ভ থেকে তার পুত্র-সন্তান জন্ম নিবে না। ইহুদীদের খোদা যে পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য আমার এবং তোমার কাঁধে অর্পণ করেছেন, তা পালনে সে অন্যতম সহায়ক হবে।”
ইউহাওয়া অবাক হয়ে নীরবে লাঈছ বিন মোশানের চেহারার দিকে চেয়ে থাকে।
“তুমি যাকে ভালবাসার দেবতা ভাবছ সেই তথাকথিত নবুওয়াতের দাবিদারকে কতল করবে।” লাঈছ ক্রুর হেসে বলে– এ কাজে যারীদের সমকক্ষ আর কেউ হতে পারে না।”
ইউহাওয়া জিজ্ঞাসা করে– “এটা কি আপনার নিছক ভবিষ্যদ্বাণী? এ কিভাবে হত্যা করবে?”
“তাকে আমিই প্রস্তুত করছি” লাঈছ বলে।
“এ প্রস্তুত হবে না।” ইউহাওয়া বলে– “সে অনেকবার আমার কাছে বলেছে, তার কোন নির্দিষ্ট ধর্মমত নেই। মুহাম্মাদকে সে শত্রু ভাবে না। হত্যা-লুণ্ঠন তার একেবারে না পছন্দ।”
“অনায়াসেই সে সবকিছু করবে।” বুড়ো লাঈছ বলে –“তার দেমাগ থাকবে আমার নিয়ন্ত্রণে। তুমি আমাকে সহযোগিতা করবে। একেবারে তিন দিন সে সূর্যের মুখও দেখবে না। এরপর যখন তাকে নিয়ে আসা হবে তখন তার মুখ থেকে শুধু এ কথাই বের হবে যে, নবীর দাবিদার কোথায়? আমি তাকে প্রাণে বধ করব।
