আমি আগে থেকেই সেই রাজ্যের রাজা- ইসহাক জবাব দেন- এটি আমাদের স্বাধীন রাজ্য।
ওটা সুদানের ভূখণ্ড- তাকে বলা হলো- একদিন সেখানকার লোকদেরকে বন্দী করে ফেলবো কিংবা ধ্বংস করে দেবো।
আগে তোমরা এলাকাটা দখল করো- ইসহাক বললেন- সেখানকার মুসলমানদেরকে নিরস্ত্র করো। তোমরা তাদেরকে তোমাদের ফৌজে শামিল করতে পারবে না। ঐ এলাকায় তোমাদের পতাকা নিয়ে দেখাও। তারপর দেখো, তারা তোমাদের ফৌজে শামিল হয় কিনা।
ইসহাককে কয়েদখানায় রাখার পরিবর্তে একটি সুরম্য কক্ষে রাখা হলো, যেটি কোনো এক রাজপুত্রের মহল বলে মনে হলো। এক সুদানী সালার তাকে উক্ত কক্ষে প্রবেশ করিয়ে নিজের তরবারীটা উভয় হাতে নিয়ে হাঁটু গেড়ে তার সমুখে বসে তরবারীটা তার সমীপে পেশ করে বললো- আপনি আমাদের বন্দী নন, অতিথি।
আমি এই তরবারী গ্রহণ করবো না- ইসহাক বললেন- আমি অতিথি নই, বন্দী। আমি পরাজিত। আপনার থেকে আমি তরবারী সেভাবেই নেবো, যেভাবে আপনি আমার থেকে নিয়েছেন। তরবারী তরবারীর জোরে নেয়া হয়।
কিন্তু আপনি আমাদের শত্রু নন। সুদানী সালার বললো।
আমি আপনার শত্রু- ইসহাক মুচকি হেসে বললেন- তরবারীর বিনিময় এমন সুরম্য কক্ষে নয়- যুদ্ধের ময়দানে হয়ে থাকে। আমি আপনার কৃতজ্ঞতা আদায় করছি যে, আপনি আমাকে এতোটুকু সম্মান করলেন।
আমরা আপনাকে আরো বেশী সম্মান করবো- সালার বললো- আপনার সিংহাসন খার্তুমের সিংহাসনের সমপর্যায়ের হবে।
আর কিয়ামতের দিন আমার মসনদ থাকবে জাহান্নামের অতল তলে। ইসহাক বললেন।
আমি দুনিয়ার কথা বলছি।
কিন্তু মুসলমান, কথা বলে আখেরাতের- ইসহাক বললেন- যা হোক, বলুন আপনার পর আর কে আসবেন এবং কী উপহার নিয়ে আসবেন?
যে আসে আসুক- সালার মুচকি হেসে বললো- আমিও সৈনিক আপনিও সৈনিক। আমি আপনার সৈনিক সুলভ কীর্তির মূল্যায়ন করতে এসেছিলাম। কিন্তু আপনি আমার মনটা ভেঙ্গে দিলেন।
আপনি আমার সৈনিক সুলভ কীর্তি দেখলেন কখন?- ইসহাক বললেন আমি তো যুদ্ধ করার সুযোগই পেলাম না। আমার সেনাদল মরুভূমির এমন, একটি স্থানে গিয়ে উপনীত হয়, যেখানে পানির কোনো চিহ্ন ছিলো না। তিন চার দিনেই মরুভূমি আমার পদাতিক ও অশ্বারোহী সৈনিক এবং ঘোড়াগুলোকে হাড়িতে পরিণত করে ফেলে। তারা জিহ্বা বের করে পানির অনুসন্ধান করতে শুরু করে। এই অবস্থায় আপনার একটি বাহিনী আমাদের উপর হামলা করে বসে এবং আমরা ধরা পড়ে যাই। মরুভূমি আমাদেরকে পরাজিত করেছে। আপনি আমার তরবারীর পরাকাষ্ঠা কোথায় দেখলেন যে, আমাকে কৃতিত্বের পুরস্কার প্রদান করছেন?
আমাকে অবহিত করা হয়েছে, আপনি বীরযোদ্ধা। সালার বললো। শোনা কথায় বিশ্বাস করতে নেই- ইসহাক বললেন- কাল সকালে আমাকে একটি তরবারী দেবেন। আপনিও একটি নেবেন। তারপর আপনার আমার মোকাবেলা হবে। তখন আশা করি, আমি আপনার তরবারী গ্রহণ করে নেব। কিন্তু সে সময়ে আপনি জীবিত থাকবেন না।
সালার আরো কি যেন বলতে ইচ্ছা করলো। কিন্তু তাকে থামিয়ে দিয়ে ইসহাক বললেন- মন দিয়ে শোনো, সম্মানিত সালার! কাল তোমরা আমাকে যে কয়েদখানায় নিক্ষেপ করবে আজই তা করে ফেলো। তোমার এই সুদর্শন কয়েদখানায় মাতাল হয়ে আমি ঈমান বিক্রি করবো না।
কয়েকখানার নোংরা পরিবেশের পরিবর্তে আপনি এই হৃদয়কাড়া পরিবেশেই ভালোভাবে চিন্তা করতে পারবেন- সালার বললো- আমি আশা করি; আপনার সম্মুখে যে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, আপনি তা ভেবে দেখবেন। একজন সৈনিক ভাই মনে করে আমার এই পরামর্শটা মেনে নিন যে, নিজের ভবিষ্যণ্টা অন্ধকার করবেন না। খোদা আপনার ভাগ্যে রাজত্ব লিখে রেখেছেন। সুযোগটা নষ্ট করবেন না।
আমার আল্লাহ আমার ভাগ্যে যা কিছু লিখে রেখেছেন, আমি তা ভালোভাবে জানি- ইসহাক বললেন- আর তোমার খোদা কী লিখে রেখেছেন, তাও জানি। তুমি চলে যাও, আমাকে ভাবতে দাও।
সালার চলে যায়। কিছুক্ষণ পর খাবার এসে হাজির হয়। খাবার নিয়ে এসেছে তিনটি মেয়ে- অতিশয় রূপসী যুবতী মেয়ে, অর্ধনগ্ন। নানা রকম উন্নতমানের খাবার, যা ইসহাক কখনো স্বপ্নেও দেখেনি। সঙ্গে সুদর্শন সোরাহীতে মদ। ইসহাক তার প্রয়োজন অনুপাতে আহার করে পানি পান করে। দস্তরখান তুলে নেয়া হয়। দুটি মেয়ে চলে যায়। একটি তার কাছে থেকে যায়। ইসহাক মেয়েটির প্রতি তাকায়। মেয়েটি অবজ্ঞা মিশ্রিত মুচকি একটা হাসি দেয়।
আমাকে কি আপনার ভালো লাগছে না? মেয়েটি জিজ্ঞেস করে।
তোমার ন্যায় কুৎসিত মেয়ে আমি এই প্রথম দেখলাম। ইসহাক বললেন।
মেয়েটির চেহারার রং বদলে যায়। সে তো অত্যন্ত রূপসী মেয়ে। ইসহাক তার বিস্ময় ভাব বুঝতে পেরে বললেন- রূপ থাকে লাজে। নারী যদি উলঙ্গ হয়ে যায়, তাহলে তার আকর্ষণ শেষ হয়ে যায়। উলঙ্গপনা তোমার জাদুময়তা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি এখন আর তোমার মুঠোয় যাবো না।
আমাকে দেখেও কি আপনি আমার প্রয়োজন অনুভব করছেন না। মেয়েটি বললো।
আমার দেহের তোমার কোনো প্রয়োজন নেই- ইসহাক বললো- আমার আত্মার একটি প্রয়োজন আছে, যা তুমি পূরণ করতে পারবে না। তুমি চলে যাও।
আমার প্রতি নির্দেশ, আমি আপনার কাছে থাকবো- যুবতী বললো ব্যত্যয় করলে শাস্তিস্বরূপ আমাকে হাবশীদের হাতে তুলে দেয়া হবে।
