মেরী : তাদেরকে কতল করা হয়েছে কেন?
জিমি : এরা হয়তো খাজানার খবর জানত। তাই তারা খানাজা নিতে এসেছিল আর পাদ্রী মনে হয় কিছু পাহারাদার রেখে গেছে তারা এদেরকে হত্যা করে অথবা এরা বেশী সংখ্যক লোক এসেছিল এদের বাকী সাথীরা শরীক কমানোর জন্যে এদেরকে হত্যা করেছে।
মেরী : তাহলে তো খাজানা আর নেই।
জিমিঃ তুমি সরে যাও আমি আরেক স্তূপের মাটি সরিয়ে দেখছি। জিমি দ্বিতীয় স্তূপের মাটি সবে সরানো শুরু করেছে হঠাৎ এক ব্যক্তি তলোয়ার হাতে দৌড়ে এসে জিমির ওপর আক্রমণ করে বলতে লাগল, এ খাজানা আমার। এর কারণে আমি একাকী এখানে রয়ে গেছি।
তলোয়ারের আঘাতে জিমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। হামলাকারী মেরীর প্রতি আক্রমণের জন্যে উদ্যত হতেই মেরী তার হাতের জ্বলন্ত মশাল তার মুখের ওপর ছুঁড়ে মারল। মশালের আগুনে তার চেহারা পুড়ে গেল। তলোয়ার হাত থেকে পড়ে গেল। সে বেহুঁশ হয়ে বসে পড়ল মাটিতে।
মেরী মশাল তুলে নিয়ে দ্বিতীয়বার আবার তার চেহারার ওপর ছুঁড়ে মারল। চেহারা আরো ঝলসে গেল। তারপর সে মাটিতে পড়ে গেলে মেরী তার খঞ্জর বের করে আক্রমণকারীর বুকে আঘাত হানল।
জিমি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে বলল, মেরী! দ্রুত এখান থেকে পালিয়ে যাও।
মেরী : না, তোমাকে এখানে রেখে আমি আদৌ যাব না। মেরী জিমির কাছে গিয়ে তার মাথা কোলে নিতেই জিমি নিঃশ্বেস ত্যাগ করে চিরতরে বিদায় নিলো। আক্রমণকারী আগেই মারা গেছে।
মশাল গালিচার ওপর পড়ে জ্বলছে। খাজানার স্তূপের উপর দুটো লাশ পড়ে আছে। তাদের শরীর হতে রক্ত বেয়ে পড়ছে।
মেরী ভয়ে থর থর করে কাঁপছিল। হঠাৎ তার মনে হলো আরো কেউ আসতে পারে। হয়তো গির্জাতেই কেউ আছে। সে মশাল ফেলে রেখেই আন্ডার গ্রাউন্ড হতে ওপরে উঠে এলো। নিচের সিঁড়ির দরজা বন্ধ করে ধীরে ধীরে চলতে লাগল। নিকষ কালো আঁধার। সে যদি গীর্জা সম্পর্কে ওয়াকিফ না হত তাহলে কোন কিছুর সাথে ঠোকর খেয়ে পড়ে থাকত। গীর্জা হতে বেরিয়েই সে দৌড়াতে লাগল।
স্পেনের রাজধানীতে নিথর নিস্তব্ধ ভীতিকর রজনী। শহরের অধিকাংশ বাড়ী শূন্য পুরীতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা একজন যুবতী রমণীর জন্যে বড়ই ভয়ংকর। সে নিজেকে আরো সাহসী করে রওনা হয়ে এক সময় নিজ বাড়ীতে পৌঁছে গেল। বাড়ীতে পৌঁছে ঘরের ভেতর হতে দরজা বন্ধ করে দিল।
৭১২ খ্রীস্টাব্দের পড়ন্ত বিকেল। আমীরে আফ্রিকা মুসা ইবনে নুসাইর ১৮ হাজার লস্কর নিয়ে স্পেনের দক্ষিণ সীমান্তে অবতরণ করলেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মুসা ইবনে নুসাইর তারেক ইবনে যিয়াদের সাহায্যে স্পেনে পৌঁছননি। স্পেন বিজয় নায়ক তারেক ইবনে যিয়াদকে অবহিত করা হচ্ছিল। তারেকের বিজয় সংবাদ খলীফা ওয়ালীদের কাছে পৌঁছেছিল। স্বয়ং খলীফা তারেকের কাছে পত্র প্রেরণ করেছিলেন। তারেক ছিলেন মুসার আজাদকৃত গোলাম। তার আজাদকৃত গোলামকে স্পেন বিজেতা বলা হবে এটা হয়তো মুসা ইবনে নুসাইর স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি।
ঐতিহাসিকরা লেখেন, সে সময় মুসা ইবনে নুসাইরের বয়স হয়েছিল আশি বছর। বুদ্ধির প্রখরতা কমে এসেছিল। তাই তার অধীনত ও মুশীরদের পরামর্শে তিনি সাধারনতঃ কাজ করতেন। এসব পরামর্শ দাতারাই তাকে বুঝিয়ে ছিল যে, স্পেনের মত বিশাল সাম্রাজ্যের বিজয় নেতা হিসেবে আপনার একজন সাধারণ কৃতদাসকে অভিহিত করা হবে এটা সমীচীন নয়। আপনার জন্যে অসম্মানও বটে। তাছাড়া তারেক ছিলেন অনারব বর্বর মুসলমান। আর মুসা ছিলেন আরব। আর অনারবদের প্রতি আরবদের হেয় দৃষ্টি সব সময় ছিল এবং এখনও আছে। তাই মুসা ইবনে নুসাইর হয়তো বিষয়টা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন নি। ফলে তিনি নিজে বিশাল সৈন্য সামন্ত নিয়ে রওনা হয়েছিলেন স্পেন পানে।
তারেক ইবনে যিয়াদ যেসব এলাকা জয় করে সম্মুখে অগ্রসর হয়েছিলেন তার মাঝে দুটো প্রসিদ্ধ এলাকা মেদুনা-শেদুনা ও কারমুনা ছিল। মুসা ইবনে নুসাইরের গোয়েন্দারা তাকে খবর দিয়েছিল যে, তারেক ইবনে যিয়াদ দুই শহরে রাজকার্য। পরিচালনার জন্যে খ্রিস্টানদের নিয়োগ করেছেন। তারেকের এটাও কমতি ছিল যে, রাজকার্য পরিচালনার মত উপযুক্ত লোক তার ফৌজে ছিল না। মুসা ইবনে নুসাইর অবগত হলেন ঐ দুই শহরে খ্রিস্টানরা বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মুসা ইবনে নুসাইর হঠাৎ করে ঐ দুই শহরে সৈন্য-সামন্ত নিয়ে হাজির হয়ে শহর নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আরবী গভর্নর নিয়োগ করলেন। মুসা ইবনে নুসাইরের কৃতিত্ব তো এতটুকুই ছিল যে, দুটো শহরে হয়তো বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠতেছিল তিনি তা নিভিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দামেস্কে খলীফার দরবারে খবর পাঠান হলো তিনি ঐ দু’শহর জয় করেছেন।
মুসা ইবনে নুসাইর যখন ইসাবেলা শহরের দিকে অগ্রসর হলেন তিনি যুদ্ধের সম্মুখিন হলেন। তারেক ইবনে যিয়াদ এসব ছোট খাটো শহর ছেড়ে দিয়েছিলেন কারণ তার কৌশল ছিল টলেড়ো হলো রাজধানী এমনিভাবে কর্ডোভা ও গ্রানাডা স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর এ তিনটা শহর হাতে এলে বাকীগুলো এমনিতেই এসে যাবে। তখন দুশমনরা মনোবল হারিয়ে ফেলে রনে ভঙ্গ দেবে। যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে তারেকের এটা বিরাট বড় বিচক্ষণতা ছিল।
মুসা ইবনে নুসাইর ধারনা করেছিলেন, অতি সহজেই তিনি ইসাবেলা হস্তগত করতে পারবেন কিন্তু সেখানে গিয়ে যখন শহর অবরোধ করলেন তখন বুঝতে পারলেন তার ধারণা ঠিক নয় এবং এত সহজে শহর কজা করা যাবে না।
