জিমি : তুমি যদি অনুমতি দাও তাহলে আমি তাকে হত্যা করতে পারি, তারপর দু’জন নিরাপদে শহর থেকে বেরিয়ে যাব।
মেরী : না জিমি! না, তুমি ধরা পড়ে যাবে। আমি নিজের জন্যে কোন চিন্তা করি না, আমিতো মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করতে চাই। তবে তোমার জন্যে আমার চিন্তে হয়।
আরো বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। জিমি বারবার কেবল পাদ্রীকে হত্যার কথা বলতো। স্পেনের রাজধানী টলেডোতেও কোন শাসনকর্তা ছিল না। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কেউ রাজ কার্য সম্পাদনও করছিল না।
সাত সকালে শহরের ফটক খুলে দেয়া হতো আর গভীর রজনী নাগাদ তা ঐভাবে উম্মুক্ত থাকতো।
টলেডোর এ অবস্থা সম্পর্কে তারেক ইবনে যিয়াদ অবগত ছিলেন না। জুলিয়ন ও আওপাস তাকে বলেছিল, টলেডোতে প্রবেশ করা বড়ই কঠিন হবে। রডারিকের উত্তসূরীরা জীবনবাজী রেখে শহর হিফাজতের জন্যে লড়ে যাবে ফলে অবরোধ বেশ লম্বা হবার সম্ভাবনা।
***
মেরী জিমিকে লক্ষ্য করে বলল, দিনের বেলা তোমাকে আমি সব কথা বলতে পারিনি। আমাদের পাদ্রী প্রধান গীর্জাতে ধন-সম্পদ লুকিয়ে এসেছে। সে আমাকে এত মুহব্বত করে যে তার পূর্ণ বিবরণ আমাকে সে দিয়েছে।
জিমি : সে সম্পদের সাথে আমাদের কি সম্পর্ক?
মেরী : সে সম্পদ্ধ আমাদের হস্তগত করতে হবে।
জিমি : তোমার দেমাগ ঠিক নেই। আমরা সম্পদ আরোহণ করে কি করব? সে সম্পদ বা কোথায় রাখব?
মেরী : তাবৎ সম্পদ আমরা উঠাব না; বরং আমাদের প্রয়োজন মত আরোহণ করব। শহরে আমাদের বাড়ীতে থাকব। আমাদের বাড়ী খালী পড়ে রয়েছে। বাড়ীর সবাই চলে গেছে।
জিমি : মুসলমানরা আসলে পরে কি করবে?
মেরী : আমরা মুসলমান হয়ে যাব। শুনেছি ইসলাম গ্রহণ করলে মুসলমানরা খুব ভাল ব্যবহার করে।
জিমি তো আর ফেরেশতা নয় যে তার সম্পদের লালসা ছিল না। তাছাড়া মেরীর প্রেম তো ছিলই তাই সে টলেডো প্রত্যাবর্তনের জন্যে প্রস্তুত হলো।
কাফেলা গভীর নিদ্রায় নিমজ্জিত। জিমি ধীর পদে তার ঘোড়ার কাছে গিয়ে তা নিয়ে ফিরে এলো মেরীর কাছে। তারপর মেরীকে সম্মুখে বসিয়ে ঘোড়া হাঁকিয়ে দিল। কাফেলার কোন সদস্য বিন্দুমাত্র খবরও পেলনা যে এক অশ্ব দু’সোয়ারী নিয়ে তাদের ছেড়ে চলে গেল।
পূর্ব দিগন্তে আলোর ঝলক উঠতেই কাফেলা রওনা হবার জন্যে তৈরী হলো। মেরী ও জিমিকে না পেয়ে প্রধান পাদ্রী ঘোষণা করে দিল। “সে লাড়কী তার বিবি, বেটী কিছুই না, সে চলে গেছে তাতে এতো হৈ চৈ করার কি আছে; এ ধরনের আরো নানা কথা বলে অন্য পাদ্রীরা তামাশা করতে লাগল। তার পছন্দ হয়েছে চলে গেছে এতে ভাল হয়েছে, সফরে এত সুন্দর ললনা না থাকাই ভাল। আমাদের সাথে আরো মেয়ে আছে তারাও যদি পালিয়ে যায় তাহলে কোন অসুবিধা নেই বরং আরো ভাল। এসব কথা শুনে প্রধান পাদ্রী নিশ্চুপ হয়ে গেল। কাফেলা রওনা শুরু করল। তারা রোমের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। রোমে ছিল তাবৎ গীর্জার মারকাজ ও পোপের হেড কোয়ার্টার।
সকাল হতে না হতেই মেরী ও জিমি টলেডোতে পৌঁছে গেল। তারা শহরের প্রধান ফটক খোলার অপেক্ষায় রইল। ফটক খোলার সাথে সাথে তারা শহরে প্রবেশ করল। মেরী জিমিকে নিয়ে তার নিজ আবাসস্থলে ফিরে গেল। সেখানে গিয়ে দেখল ঘরের আসবাব পত্র সব ঠিক ঠাক পড়ে আছে যেন ঘরের মানুষ কিছুক্ষণের জন্যে বাহিরে গেছে এখনই ফিরে আসবে।
গভীর রজনী। দু’জন পায়দল হেঁটে চলল প্রধান গীর্জার দিকে। তাদের ধারণা ছিল গীর্জার গেইটে তালা লাগান থাকবে কিন্তু তারা গেইট উম্মুক্ত পেল। গীর্জার ভেতর নিবিড় অন্ধকার। এর চেয়ে আরো বেশী আঁধার হলেও জিমি-মেরী গীর্জায় প্রবেশ করতে পারবে, কারণ গীর্জার প্রতিটি আনাচে-কানাচ সম্পর্কে তারা পূর্ণ ওয়াকিফ।
মশাল, খঞ্জর ও কোদাল হাতে তারা আন্ডার গাউন্ডের প্রবেশ দ্বারে পৌঁছে গেল। তারপর মশাল জ্বালিয়ে নিচে চলে গেল। মেরী বলল, দেখলে আমরা কত সহজে এখানে পৌঁছে গেলাম।
জিমি : এখানে যে বিপুল পরিমান মাল-সম্পদ রয়েছে তা সবতো আমরা উঠাতে পারব না।
মেরী : যতটুকু পারি ততটুকু নিয়ে যাব।
জিমি : এখানে আমি কিছুই রেখে যাব না। যা পারি তা নিয়ে তোমাদের ঘরে রেখে এসে পুনরায় আবার আসব। সমস্ত ধন-সম্পদ তোমাদের ঘরে পুঁতে রাখব। মুসলমানরা যদি আসে তাহলে আমরা বাহ্যত মুসলমান হয়ে যাব ফলে তারা আমাদের বাড়ীতে আক্রমণ করবে না। বাড়ীর অভ্যন্তরে আমরা ঈসায়ী ধর্ম পালন করব।
মেরী : ধর্মের প্রতি আমার কোন আগ্রহ নেই। কেউ মুসলমান হোক বা খ্রীস্টান তা আমার কাছে সমান সমান। তুমি খনন কাজ শুরুকর। খনন করার প্রয়োজন ছিল না। মাটি সরানোর প্রয়োজন ছিল। জিমি অতি দ্রুত মাটি সরাতে লাগল। এক স্কুপের মাটি প্রায় শেষ হয়ে গেছে অল্প কিছু বাকী। আরো কিছু মাটি সরাতেই জিমি লাফ দিয়ে পিছু হটে এলো, যেন ফনাদার সর্প বের হয়ে হঠাৎ তার ওপর হামলা করেছে।
মেরী : কি হলো, অমন করছ কেন?
জিমি : সামনে এসে তুমিও দেখ কেমন খাজানা।
মেরী : মশাল হাতে গর্তের কাছে গিয়েই চিৎকার মেরে উঠল। গর্তে তিনটি লাশ পড়ে আছে। লাশের সাথে কোন মাথা নেই, কেবল ধড় পড়ে আছে। মেরী কাঁপতে কাঁপতে জিমিকে জড়িয়ে ধরল।
জিমি : লাশের গায়ের রক্ত এখনো শুকোয়নি। মনে হচ্ছে যেন সবেমাত্র কেউ তাদেরকে হত্যা করে দাফন করে গেছে।
