তারেক রাসূল (স)-এর ফরমান তামীল করেছিলেন।’
স্পেনের বাদশাহ্ রডারিককে তার পাপ পরাজিত করেছিল। তার পরাজয় হয়েছিল শিক্ষনীয়। না জানে কত কুমারীর হৃদয়কে সে ভেঙ্গে করেছে খান খান। সে বিদ্রোহীদের ইস্তুরিয়া নাম্নী এক কিশোরীর অন্তর করেছিল চুরমার। তার ওপর তলোয়ার চালানোর পূর্বে বলেছিল তোমার বাদশাহীর ওপর ঘোড়া দৌড়ান হবে। তোমার সিংহাসন হবে চিরতরে ভূলণ্ঠিত।
রমণীদেরকে যখন তারেকের সম্মুখে উপস্থিত করা হলো তখন তিনি উম্মুক্ত ময়দানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যেসব কয়েদীরা লুকিয়েছিল তাদেরকে খুঁজে বের করা হচ্ছিল। তিন-চারজন কয়েদী তারেকের সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তাদের মাঝে একজন পোশাক-আষাক, চলা-ফেরা অন্য কয়েদীদের চেয়ে স্বতন্ত্র ছিল। সে তারেকের সামনে রমণীদেরকে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেল।
এক মুসলিম মুজাহিদ তাকে ধমক দিয়ে বলল, এখানে না দাঁড়িয়ে সামনে অগ্রসর হও।
কয়েদী : এ মেয়েদের মাঝে আমার ছোট বোন রয়েছে। তার সাথে একটু সাক্ষাৎ করতে দাও, আবার কবে দেখা হবে কিনা তার কোন ঠিক নেই। উক্ত মুজাহিদ ছিল বর্বর, দয়া-মায়া কাকে বলে সে তা জানত না। তাই তাকে দু’হাতে। ধাক্কা দিয়ে সম্মুখে যাবার জন্যে বলল।
‘এ হলেন আমার বড় ভাই।” এক সুন্দরী যুবতী তারেক ও জুলিয়নকে বলল, আমার সামনে কিছুক্ষণের জন্যে তাকে আসার অনুমতি কি আপনারা তাকে দেবেন?
তারেক মুজাহিদদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তাকে আসতে দাও। তার ভগ্নির সাথে শেষ মুলাকাত করে নিক।
কয়েদী মহিলাদের সীমানায় এসে আস্তে আস্তে তার বোনের দিকেঅগ্রসর হতে। লাগল। তার সাথে মুজাহিদ ছিল যাতে সিপাহ্ সালারের সামনে যেন কোন বেয়াদবী না করতে পারে। মুজাহিদদের হাতে ছোট ছোট বর্শা ছিল যা দুশমনের প্রতি নিক্ষেপ করা হতো। কয়েদীর বোন অতি দ্রুততার সাথে মুজাহিদের হাত থেকে একটি বর্শা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত বেগে তার ভায়ের বুকে বিদ্ধ করে দেয়। বর্শা বের করে আবার দ্বিতীয় বার আঘাত হানার জন্যে প্রস্তুত হলে এক মুজাহিদ তাকে বাধা দিয়ে তার হাত থেকে বর্শা কেড়ে নেয়। কিন্তু বর্শার এক আঘাতেই কয়েদী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিস্ক্রীয় হয়ে যায়।
জুলিয়ন স্পেনী ভাষায় যুবতাঁকে বলল, তুমি তোমার ভাইকে হত্যা করলে? সে হাতিয়ার অর্পন করে আত্মসপৰ্মণ করেছে এজন্যে হয়তো তাকে হত্যা করলে?
যুবতী : না, সে কারণে নয়। অনেক আগেই তাকে হত্যা করতাম কিন্তু তার কোন সুযোগ পাইনি। আপনারা যদিএর শাস্তি দিতে যান তাহলে দিতে পারেন। আপনাদের হাতে তলোয়ার রয়েছে, রয়েছে বর্শা তার মাধ্যমে আমাকে টুকরো টুকরো করতে পারেন।
যুবতীর কথা তারেককে বুঝিয়ে বলা হলো।
তারেক : তাকে বল, আমরা তাকে কোন শাস্তি দেব না। তাকে জিজ্ঞেস কর, তার ভাইকে হত্যা করল কেন?
যুবতী : আমার ভাই ফৌজে ভর্তি হয়েছিল সে পদোন্নতি চাচ্ছিল। সে লালসায় একদিন আমাকে ধোকা দিয়ে শাহী মহলে নিয়ে এসে হেরেমের রমণীদের সাথে সাক্ষাৎ করালে রমণীরা হেরেম পরিদর্শনের কথা বলে ভেতরে নিয়ে গিয়ে বন্দি করে। বুড়ো বাদশাহ আমাকে ক্রীড়নকে পরিণত করে। আজ দু’বছর ধরে আমি হেরেমে রয়েছি। হেরেমের রমণীদের কে আমি বার বার আমার ভাইএর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়ার কথা বলেছি কিন্তু তারা বলেছে, হেরেমের কোন আওরত বাহিরের কারো সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে না। তারা আমাকে বলেছিল তোমার ভাই পদমর্যাদা হাসিলের জন্যে তোমাকে হেরেমে পাঠিয়েছে।… আজ দু’বছর পর তার সাথে আমার হিসাব-নিকাশের মওকা মিলেছে।
সালার মুগীছে রূমী : যে ফৌজের মাঝে এমন ভাই থাকে তার পরিণাম এমনই হয়।
তারেক ইবনে যিয়াদ : এ যুবতীরা যদি নিজ বাড়ী যেতে চায় তাহলে কয়েদী বানিও না। এদের সকলকে তোমাদের সাথে রাখ। যেন কোন প্রকার কষ্ট না পায়। আমরা সম্মুখে অগ্রসর হব। যখন কোন লাড়কীর বাড়ী পাওয়া যাবে তখন তাকে তার আপনজনদের কাছে সোপর্দ করে আসবে।
***
দ্বিতীয়দিন তারেক ইবনে যিয়াদ তার আমীর মুসা ইবনে নুসাইরের কাছে একটি পয়গাম লেখান তাতে তিনি রডারিকের সাথে যুদ্ধের পূর্ণ বিবরণ দেন। তার শেষে লেখেন,
“এখন পর্যন্ত কোন শহর বিজয় করতে পারিনি তাই বিশেষ কোন তুহফাহ্ পাঠাতে পারলাম না। ত্রিশ হাজার জঙ্গী কয়েদী রয়েছে। আমার ধারণা আমীরুল মু’মিনীন ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল মালেক এ তুহফা খুবই পছন্দ করবেন। এ কয়েদীরা সর্বদা আপনার কাছেই থাকবে কারণ তাদের বাদশাহ্ সলীল সমাধিত হয়েছে ফলে তাদেরকে পণ দিয়ে মুক্ত করার বা অন্য কোন শর্তে ছাড়াবার কেউ নেই। আমাদের কোন কয়েদী স্পেনীদের হাতে নেই যার মুকাবালায় তাদেরকে মুক্ত করতে হবে এমনও নয়। আমীরে মুহতারাম! আরেকটি তুহফা আপনার দরবারে পেশ করছি তাহলে স্পেন বাদশাহ্র মাহবুব (প্রিয়) ঘোড়া “ইলয়া” আর তার সুসজ্জিত তলোয়ার। আমি এখন সম্মুখে অগ্রসর হচ্ছি, আমার কামিয়াবীর জন্যে মসজিদে মসজিদে দোয়া করাবেন।”
কয়েদী এবং বেকার ঘোড়া পাঠাবার জন্যে সমুদ্র জাহাজের প্রয়োজন ছিল। জুলিয়নের চারটি বিশাল জাহাজ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। মুসলমানদের কাছে বিকল্প আর বড় কোন জাহাজ ছিল না। ফলে কয়েদীদেরকে পাঠাবার জন্যে স্পেনীদের বড় কিশতী নেয়া হলো। কয়েদী আর বেকার ঘোড়ার সংখ্যা কম ছিল না। তিনদিন তিনরাত একাধারে পারাপারের কাজ অব্যাহত ছিল।
