তোরনি অঞ্চলের গ্রামের তরুণরা মিডল বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়েছিল, রাজ্য সরকার তাতে সম্মত হয়েছিল।
তোরনি গ্রামের পরিদর্শন আমায় এমন এক ক্ষেত্রের সন্ধান দিল যা গ্রামীণ ও নাগরিক বিভেদের সীমারেখা মুছে, সংযোগসাধনের প্রয়োজনীয়তা সমন্বিত উন্নয়নের ভিন্ন মাত্রা জানায়।
রামেশ্বরমে আমার জন্ম এবং বেড়ে-ওঠা। ওখানকার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে আমি মাঝে মাঝে ভাবনাচিন্তা করতাম গ্রামগুলোর কীভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব যাতে যথেষ্ট পরিমাণে উপার্জনের ব্যবস্থা হয়। আমার কর্মজীবন বৃহত্তর শহরেই গড়ে উঠেছিল কিন্তু আমি দূরদূরান্ত গ্রামে যাওয়ার অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম। আমরা যখন ইন্ডিয়া ২০২০ কার্যক্রমের উন্নয়ন করছিলাম দেশের ৬০০,০০০ সংখ্যক গ্রামের উন্নয়ন সবচেয়ে জরুরি হয়ে দেখা দিল। যখন আমার বন্ধু অধ্যাপক পি ভি ইন্দিরেসান PURA-ভাবনা নিয়ে এলেন, আমার স্মৃতিপথে পুরনো কথা জেগে উঠল। ওঁর সঙ্গে এবং এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বেশ কিছু আগ্রহী ব্যক্তির সঙ্গে আমি বিশদভাবে আলোচনা করেছিলাম।
আমি সৌভাগ্যবান যে, একটি চিকিৎসাদলের উদ্যোগে মধ্যপ্রদেশের চিত্রকূট PURA, তামিলনাড়ুর ওয়ালামের পেরিয়ার PURA-র, নানাজি দেশমুখের এবং মহারাষ্ট্রের লোনি PURAর মেডিকাল গ্রুপের সংস্পর্শে এসেছিলাম। সর্বোপরি তত্ত্ব সাহেব কোরের পথপ্রদর্শনকারী কার্যকলাপের অধীনে মহারাষ্ট্রের ওয়ারনা PURA আকৃতি লাভ করেছিল। গ্রামীণ উন্নয়নের এই অভিজ্ঞতা সমগ্র রাষ্ট্রের PURA ব্যবস্থা উদ্ভাবনার ভিত্তি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি শহরাঞ্চলের চাইতে বেশি গ্রামীণ অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। এই ভ্রমণের দরুন আমার যে পর্যবেক্ষণ তা PURA প্রতিষ্ঠান গড়তে আরও সাহায্য করেছিল।
যখনই আমরা কোনও শহরবাসীর সঙ্গে আলাপচারিতা করি অবধারিতভাবে তাঁদের মধ্যে অনেকেই সাম্প্রতিককালের বর্ধিত দূষণের পরিস্থিতি, জীবনের দ্রুত গতিবেগ, মানুষের ভিড় ও অন্যান্য অসুবিধার কথা বলে থাকেন। কিন্তু তবুও তাঁরা নিজেদের গ্রামে ফিরে যাবার ঝুঁকি নিতে চান না। অন্যদিকে, গ্রামের মানুষজন তাঁদের নিজেদের পরিবেশ পছন্দ করা সত্ত্বেও বাসগৃহ পরিত্যাগ করে আরও উন্নততর জীবনের আশায় শহরে ভিড় জমান। আমরা কি এমন কোনও সমাধান খুঁজে বার করতে পারি যার দরুন গ্রামবাসীরা, বিশেষত তরুণরা গ্রামীণ পরিবেশে বাস করেও তাঁদের উপার্জনক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারেন? পাশাপাশি আমরা কি নগরবাসীর কাছে গ্রামগুলো শুধুমাত্র পর্যটন বা বাণিজ্যিক কারণ ছাড়া সম্ভাব্য পরিযানের উপযোগী আকর্ষণীয় করতে পারি? এই ধরনের ভাবনাচিন্তাই PURA-র নির্মাণের ভিত্তি।
গ্রামীন উন্নয়নকে সরকারি, বেসরকারি এবং জাতীয় ক্ষেত্রগুলি আংশিকভাবে গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ— অতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, রাস্তা বা বাড়ি নির্মাণ বা নির্দিষ্ট কোনও গ্রামীণ অঞ্চলে যোগাযোগ সূত্র রক্ষা করা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বেশ কয়েক দশক ধরে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে প্রাথমিক পদক্ষেপের সূচনা ভালই হয়, যেমন অবিশ্রাম বর্ষণ ক্ষণকালের জন্য অজস্র জলস্রোত তৈরি করে। যখনই বৃষ্টি থেমে যায় সব জলধারা শুকিয়ে যায়, কারণ অতিরিক্ত জল সঞ্চয় করার মতো কোনও জলাশয় তৈরি হয়নি। এবারই প্রথম PURA এক অখণ্ড কর্মসংস্থান সৃষ্টি অভিমুখী মজবুত উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সম্মুখীন হল যেখানে জনবসতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সরাসরি এবং বৈদ্যুতিন সংযোগ এবং বিপণনের সুযোগ আছে। এই মুহূর্তে নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থার বিবর্তন বা উদ্ভাবন প্রয়োজন যা ‘কার্যকরী’ ভূমিকায় কাজ করবে এবং সমস্তরকম বিকাশ ঘটাবে।
উন্নত ভারতবর্ষের জন্য গ্রামীণ উন্নয়ন যে অত্যন্ত জরুরি আমরা সবাই তা উপলব্ধি করি। গ্রামীণ উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ হল:
১. গ্রামগুলি আবশ্যিকভাবে উপযুক্ত রাস্তা এবং প্রয়োজনানুসারে রেলপথে সংযুক্ত হওয়া উচিত। স্থানীয় অধিবাসী এবং অতিথিদের জন্য স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং অন্যান্য স্বাচ্ছন্দ্যের পরিকাঠামো থাকা উচিত। একে বলা যাক ‘বাস্তবিক’ সংযোগসাধন।
২. এই জ্ঞান উদ্ভাবনা কালে, দেশজ জ্ঞান প্রযুক্তিগত কৌশল, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার দ্বারা সংরক্ষিত এবং বর্ধিত করা প্রয়োজন। গ্রামগুলি তাদের সর্বোত্তম শিক্ষক দ্বারা উপযুক্ত শিক্ষার অধিকারে অধিকারী হওয়া উচিত। তারা অবশ্যই যথার্থ চিকিৎসা পরিষেবা এবং কৃষি, মৎস্যচাষ, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যান সংক্রান্ত বৃত্তির আধুনিকতম তথ্যের দ্বারা লাভবান হবে। অর্থাৎ তাদের ‘বৈদ্যুতিন’ সংযোগসাধনের অধিকার পাওয়া উচিত।
৩. একবার বাস্তবিক এবং বৈদ্যুতিন সংযোগসাধন সক্ষম হওয়া মানে জ্ঞানের সংযোগসাধনে সক্ষম হওয়া। এগুলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ঘটানোর যোগ্যতাকে সহজসাধ্য এবং উৎপাদিত দ্রব্যের জন্য বাজারের সন্ধান করতে পারে। দ্রব্যমান সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন কর্মে অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক মতামত বিনিময়, যোগ্যতম যন্ত্রপাতি পেতে সাহায্য স্বচ্ছতার বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি ও অবসরকালীন সময়ের যথাযোগ্য ব্যবহার করতে পারে, এবং একেই আমরা বলতে পারি জ্ঞানের সংযোগসাধন।
