আমরা রাষ্ট্রপতি ভবনে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতা তৈরি করতে পেরেছিলাম। কার্যত অধিবেশন এবং বৈঠকের সুবিধা ব্যবস্থা করার ফলে দূরতম অঞ্চলের বিভিন্ন সংগঠনের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমরা চিন্তাউদ্রেককারী আদানপ্রদান করতে সক্ষম হতাম। রাষ্ট্রপতি মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে আমি বারোটা রাজ্য বিধানসভার উদ্দেশে অভিভাষণ দিয়েছিলাম এবং রাজ্যের সমৃদ্ধির লক্ষ্যের কথা বলেছিলাম—তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষ, তথ্য নিবেশ, চিন্তাদায়ী আলোচনা দ্বারা সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে পনেরো দিন থেকে একমাস লেগে যেত। এই প্রস্তুতির জন্য ভিডিও অধিবেশন রাষ্ট্রপতি ভবনের মাল্টিমিডিয়া বন্দোবস্ত থেকে সাধারণত রাত আটটা থেকে মাঝরাত অবধি চলত যখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শদানের জন্য সাধারণভাবে পাওয়ার আশা করা যেত। এই ব্যবস্থায় যেসমস্ত রাজ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল তা হল: জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, গোয়া, কর্নাটক, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, মিজোরাম, মেঘালয়, সিকিম এবং পুদুচেরি।
সমৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য নির্বাচনের জন্য কিছু মাপকাঠি তার সামাজিক-অর্থনৈতিক রূপরেখা অধ্যয়ন করে স্থির করা হয়েছিল। যেমন, মাথাপিছু রোজগার, শিক্ষাহার, দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা, বেকারত্বের হার, শিশুমৃত্যু হার, প্রসূতি-মৃত্যু হার এবং সে রাজ্যের কৃষি, শিল্প এবং সেবামূলক পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে বলা চলে, বিহারের ক্ষেত্রে মিশন বা লক্ষ্য চিহ্নিত করেছিল— ১. কৃষি এবং পশুপালন উৎপাদনে মূল্য সংযোজন, ২. শিক্ষা ও শিল্পোদ্যোগ, ৩. মানবসম্পদ, ৪. নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৫. স্বাস্থ্য পরিষেবা লক্ষ্য, ৬. বন্যা ব্যবস্থাপন, ৭. পর্যটন, ৮. পরিকাঠামো, ৯. বিশেষ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, ১০. ই-গভর্ন্যান্স।
২০১০ সালের মধ্যে বিহারের মাথাপিছু উপার্জন ৬৩০০.০০ টাকা (২০০৫-০৬) থেকে বাড়িয়ে ৩৫,০০০.০০ করার জন্য এবং এছাড়াও, ২০০৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন বেকার-আধা বেকারের বৃহদাকারে রোজগারের উপায়ের পথপ্রদর্শনে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য দশটি লক্ষ্যের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। ২০১৫-র মধ্যে ১০০ শতাংশ শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিহারকে নির্দিষ্ট অভিমুখে এগোতে হবে। সরকার অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং আমি সন্তুষ্ট যে বিহার আজকের দিনে দেশের দ্রুততম উন্নয়নশীল রাজ্য। উপরন্তু, উপার্জনের জন্য বহির্রাজ্য অভিমুখী মানুষের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে বিহারে বৃহদায়তন মূল্যযুক্ত কর্মসংস্থান সৃজন শুরু হয়েছে।
বিধায়কবৃন্দের কাছ থেকে সু-সহযোগিতা ছিল। প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রাজ্যে অনেক ক্রিয়া-কেন্দ্রিক কার্যসূচির প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। বিধানসভায় অভিভাষণ দেওয়ার পর আমি রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের উদ্দেশে এবং একই বিষয়ে বণিকসভার উদ্দেশে অভিভাষণ দিয়েছি।
কেরলে ‘মালয়লা মনোরমা’ পত্রিকা কেরলের সমৃদ্ধি লক্ষ্য মালয়লাম ভাষায় অনুবাদ করেছিল। জেলাভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করেছিল এবং কোন পদ্ধতিতে মিশন বা লক্ষ্য সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োগ করা সম্ভব সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের মতামত চাওয়া হয়েছিল এবং সে সুপারিশগুলো বিধানমণ্ডলে প্রেরণ করা হয়েছিল। অন্যান্য রাজ্যেও প্রচারমাধ্যম এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল এবং আমি বিভিন্ন রাজ্য সংগঠন থেকে অজস্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলাম।
.
আমার স্বপ্ন লক্ষ কোটি মানুষ সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সাধারণ সূত্রে গ্রন্থিত হোক। আমাদের মহান মহাকাব্যগুলো আমাদের গৌরবময় অতীতের কথা স্মরণ করায় এবং সুন্দর ভবিষ্যতের আশা পোষণ করে।
০৬. অন্য সকলের কাছ থেকে শিক্ষা
৬. অন্য সকলের কাছ থেকে শিক্ষা
“আমি যেন নিঃসহায় মানুষের রক্ষাকর্তা হতে পারি
সর্ব পর্যটকের জন্য পথের দিশারী হতে পারি;
যারা (জল) পার হতে চায়
তাদের সবার জন্য আমি যেন একটা সেতু, একটা নৌকা, একটা জাহাজ হতে পারি।”
-আচার্য শান্তিদেব
৮ম শতকের বৌদ্ধগুরু
সকল মানুষের মন কীভাবে মিলিত হয়ে সাফল্যকে প্রতিষ্ঠাদান করে তা আমায় মোহিত করে। এ খুব সহজ পন্থা নয়, আশানুরূপ সিদ্ধিলাভের ঘাটতির কারণ হিসেবে বলা চলে এতে নানা মতের সমাবেশ। রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নসাধন কালে দলবদ্ধভাবে আমাদের অনেক কাজ করতে হত। আমি কাজ করতে করতে মানুষের ভাবনাচিন্তার পদ্ধতিগুলো কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে এবং তাঁদের কাছ থেকে শিখতে শুরু করি। ইন্ডিয়া ২০২০কে স্পষ্টরূপে বাস্তবে রূপদানের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার পদ্ধতি এই অভ্যাসকে আরও জোরালো করেছিল। রাষ্ট্রপতি হিসেবে এবং পরবর্তীকালে অভিজ্ঞ এবং অনভিজ্ঞ মানুষের আদর্শ, মতামত এবং সমালোচনা থেকে লাভবান হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সব ধরনের মতামত ও জিজ্ঞাসা মানবোন্নয়নে পথপ্রদর্শনকারী জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ও পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের হাজার হাজার ঘটনার মধ্যে সামান্য কিছু ঘটনার উল্লেখ করতে চাই, যা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করেছে।
