খ পার্টি বলে, আমরা এক স্বচ্ছ কর্ম প্রক্রিয়ার দ্বারা ১২ বছরের মধ্যে ভারতবর্ষকে এক উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করব।
গ পার্টি হয়তো ভিন্ন নির্দেশক-সহ জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের উন্মোচন করতে পারে এবং বিশ্ব রঙ্গমঞ্চে আমাদের ভূমিকা সম্পর্কিত ধারণায় অসাধারণ বুত্পত্তি দেখাল। এটা হয়তো ভারতবর্ষের নির্দিষ্ট সময়ের (X) মধ্যে ইউনাইটেড নেশনের সিকিউরিটি কাউন্সিলের আজীবন সদস্য হওয়া আশ্বাসদানের পথনির্দেশ হতে পারে।
২. আমার রূপরেখার দ্বিতীয় দৃশ্যে-ক পার্টি বলল যে তারা এমন এক রাষ্ট্র স্থাপন করবে যেখানে কোনও বেকারত্ব নেই। এ কারণে তারা এমন এক সুসংগঠিত কর্মপ্রক্রিয়া প্রচলন করতে চায় যেখানে কর্মপ্রার্থীর তুলনায় নিয়োগকর্তার সংখ্যা অধিক হবে।
খ পার্টি বলবে তারা এমন এক পরিবেশ এবং সুসংগঠিত কর্মপ্রক্রিয়া দান করবে যেখানে আদালতে কোনও মামলা অমীমাংসিত থাকবে না এবং আইনশৃঙ্খলা সমস্যা ভীষণভাবে কমে যাবে ও দেশের নাগরিক এক সুখশান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করবে।
গ পার্টি বলে যে, কোনও ভারতীয়কে ক্ষুধা নিয়ে রাত্রিযাপন করতে হবে না। এদের একটা লক্ষ্য আছে যা নিশ্চিত করবে যে, বিশ্বকে বাস করার পক্ষে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সুন্দর করার জন্য ভারতবর্ষের প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের দিকে সমগ্র বিশ্ব তাকিয়ে আছে। ভারতের লক্ষ্য হবে বিশ্বশান্তি।
৩. তৃতীয় রূপরেখা—ক পার্টি বলবে, তারা আশ্বাসদান করছে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সীমান্তবর্তী সংঘর্ষ দশ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
খ পার্টি বলবে তারা পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্তরকম সীমান্তবর্তী সংঘর্ষর সমাধান করবে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে এক সুসমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
গ পার্টি বলবে তাদের উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বাণিজ্য কোনওরকম সীমান্ত অনুশাসন মানবে না। বাণিজ্যে সমৃদ্ধি আসবে, সমৃদ্ধি আনবে শান্তি।
যখন বিশেষ কোনও দলকে জনগণ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রয়োগের সুযোগ দেয় এবং অন্যান্য সদস্যদের সমর্থনে সেটা বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র ও জনগণ সংসদীয় সদস্যর মহৎ ক্রিয়ার দ্বারা আশীর্বাদধন্য হয়। গণতন্ত্র প্রত্যেককে একটা সুযোগ দেয় যাতে সে কর্মের দ্বারা প্রমাণ করতে পারে রাষ্ট্রের লক্ষ্যকে সে কতটা ভালভাবে উপলব্ধি করেছে।
দারিদ্র্য সম্পূর্ণ দূরীভূত করার প্রয়োজনীয়তা, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক এবং জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বে সকলকে সুযোগ দান করার প্রয়োজনীয়তা ও আজকের জটিল দুনিয়ায় দেশ এবং জাতিকে সুরক্ষা দান করার প্রয়োজনীয়তা-এই বহুবিধ প্রয়োজনীয়তাগুলো দেশকে ‘রাজনীতির স্বার্থে রাজনীতি’ থেকে আমাদের জানা উন্নয়নমূলক রাজনীতির দিকে ধীরে ধীরে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা মেটাবে।
সংসদের অনুসরণীয় এমন অনেক জাতীয় বিষয় আছে যা দলগত আদর্শের ঊর্ধ্বে। এইসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি দেশকে এক উন্নত রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে চলে, যেমন— বিশুদ্ধ জলের সংস্থান, অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসংযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের আশ্রয়ের সংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কম্পিউটার ব্যবহার পরিকল্পনা ও জাতীয় সুরক্ষা। সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে আলোচনা ও তর্কালোচনা দ্বারা ঐকমত্য স্থাপিত হয় যা ভারতবর্ষকে উন্নত অবস্থায় দ্রুতগতিতে পৌঁছনোর রাস্তায় নিয়ে যাবে। অতএব দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সংসদ তার ক্ষমতাকে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবে ব্যবহার করা উচিত।
সুতরাং বলা যেতে পারে সাংসদদের ভূমিকা তাই ভীষণ তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে এবং এটা খুবই প্রয়োজনীয় যে প্রতিটি সদস্যর আকাঙ্ক্ষা এবং আদর্শ এমন একটা উন্নীত স্তরে আনবেন যার জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ সত্ত্বেও আমি যেমন সংসদ সদস্যদের বলেছিলাম এমন কিছু উলঙ্গ সত্য আছে যা আমরা স্বীকার করতে চাই না। সেগুলো নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে আমার কোনও দ্বিধা নেই, আমি বলেছিলাম, কারণ আমি আপনাদেরই একজন। আপনারা যেমন সংসদের সদস্য, আমিও তেমনি। আপনাদের মতো আমিও সংসদীয় ব্যবস্থার সাফল্য সম্পর্কে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আমাদের ভোট পদ্ধতি পরবর্তীকালে অত্যন্ত চাপযুক্ত হয়েছে। আসুন, আমরা নিজেদের প্রতি সৎ হই। আসনসংখ্যা বৃদ্ধির বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কিছু বিধানমণ্ডলের আসনের তথাকথিত বাণিজ্যিকতা, যা হয়তো সন্দেহপূর্ণ এবং অগণতান্ত্রিক উপায়ে অধিকৃত হয়েছে তা জনগণের মনে আমাদের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সন্দেহ তৈরি করেছে। যখন রাজনীতি নিজেই রাজনৈতিক হঠকারী হয় তখন রাষ্ট্র বিধ্বংসী পথে অবশ্যম্ভাবী আকস্মিক দুর্ঘটনা এবং ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। এই ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। ভারতবর্ষ যাতে পরিণত, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, প্রাণোচ্ছল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকে থাকে এবং আমাদের সংবিধানের রচয়িতাদের দ্বারা যে আশা-আকাঙ্ক্ষা অভিনিবেশ সহকারে এবং কার্যকরভাবে সংরক্ষিত— সেই আশা পূরণে নিজেদের উন্নীত করার এবং আমাদের আত্মপরীক্ষার সময় এসেছে।
ভারতীয় সংস্কৃতির ভাবসত্তা, মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষিত করে যে জীবনযাপন পদ্ধতি মানুষ তা ব্যাকুলভাবে কামনা করে। সঠিক নীতি প্রয়োগ, আইন এবং সমাজ সংক্রান্ত রূপান্তরের মাধ্যমে সংসদ তাদের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে। আমরা এমন কিছু নীতি এবং পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে থাকি যার বেশিরভাগ অবিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। যার ফলে প্রণোদনা এবং সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত ও অবদমিত হয়, অথচ ভারতের নাগরিক নির্ভরযোগ্য এবং কর্ম-অনুকূল পরিবেশে অতুলনীয় সাফল্য প্রদর্শন করেছে।
