শিক্ষা প্রাঙ্গণে, বাৎসরিক পরীক্ষার ভীতিপ্রদ পরিবেশ ব্যতিরেকে নানা ধরনের ছাত্র মূল্যায়ন সংক্রান্ত ভাবনা জেগে উঠেছিল। CBSE বা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন নম্বর প্রথার পরিবর্তে গ্রেড প্রথার প্রচলন ঘটাল। তার ফলে নম্বর নিয়ে ছাত্রদের মনে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে উঠল।
দেশকে ২০৩০-র মধ্যে তার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার জন্য শক্তি স্বনির্ভরতার বিষয়ে, আমি সৌরশক্তির মাধ্যমে ৫৫,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম বিদ্যুৎ নির্মাণকেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। ভারতবর্ষের শক্তির রূপরেখার প্রতি এক পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন। ভারতের কয়লার চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ পূর্ণ করা সম্ভব, যেখানে শক্তির চাহিদা ৫ শতাংশের বেশি হারে প্রতিবছর বাড়ছে, কয়লা উৎপাদন বাড়ছে খুব বেশি হলে ১ শতাংশ। আমাদের দেশের অনেক রাজ্যে দিনে আট ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকে। ফলে বিকল্প শক্তি সম্পদ উন্নয়ন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য আমাদের কয়লা, প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। জোর দিতে হবে দূষণমুক্ত শক্তি উৎপাদনের ওপর-যা সৌর, বায়ু, পারমাণবিক এবং জল থেকে উৎপাদিত হতে পারে। সরকার ২০২০ সালের মধ্যে ২০,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরশক্তি উৎপাদন নয়া মাত্রা ঘোষণা করেছে। সৌরশক্তির উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে অন্যান্য অনেক বিষয় সম্পৃক্ত। যেমন, উপযুক্ত মাধ্যমের বাছাইয়ের দ্বারা ফোটোভোলটেয়িক সেল এফিশিয়েন্সি বর্তমান ১৫ শতাংশ থেকে অন্ততপক্ষে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক আকারে গবেষণা প্রয়োজন। দিনের বেলা সৌরশক্তির ব্যবহার এবং রাতের বেলা জৈব-জ্বালানি ব্যবহার করে যাতে বিদ্যুৎশক্তি ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যায় সেজন্য উন্নয়নমূলক গবেষণার প্রয়োজন। গুজরাতে এক বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরশক্তি উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন ৩০ লক্ষ ইউনিট উৎপন্ন করা হয় এবং রাজ্য সরকার প্রতি ইউনিট পিছু পনেরো টাকা হারে কেনেন।
আজ ভারতবর্ষকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়েরই লক্ষ্য একই, যা দেশের উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব— পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত নাগরিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এইসমস্ত উদাহরণের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে দেশের নাগরিকের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যোগাযোগ রক্ষা এবং দেশের পক্ষে লাভজনক প্রভাব বিস্তার করায় রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।
জাতির উদ্দেশে আমার অভিভাষণ ছাড়াও সাংসদদের উদ্দেশে আমার ভাষণও সমানভাবে চলত। ১৯৯৯, ২০০০, ২০০১ এবং ২০০২ সালের অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী সাংসদদের সম্মান প্রদান উপলক্ষে ২০০৫ সালের ২১ মার্চ আমার অভিভাষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
আমি বলেছিলাম, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র বরাবরই ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। প্রকৃতপক্ষে এর ইতিহাস আমরা প্রাচীনকালেও খুঁজে পাই। আজকের জনপ্রিয় প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠনগুলোর সম্পাদিত একই ধরনের কার্যকলাপ প্রাচীনকালে ‘সভা’ এবং ‘সমিতি’ নামক সম্মানীয় গ্রামীণ প্রজাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পাদিত করত। স্বাধীনতা অর্জনে আমাদের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফলত: ভাবসত্তার স্বতঃচলমান ধারাবাহিকতা যা সর্বদা ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিদ্যমান। বহু ধর্ম, বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি সমন্বিত পৃথিবীর বৃহত্তম সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতবর্ষের অতুলনীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য আমরা গর্বিত। ভারতীয় ভোটদাতাদের বিচক্ষণতা এবং পরিণত মানসিকতা বিশ্বকে হয়তো বিস্মিত করেছে। ভারতবাসী সবসময় সচেতনভাবে মতদান করার চেষ্টা করে এবং আমাদের সংবিধানের দ্রষ্টা অনুযায়ী নিজেকে প্রমাণিত করে তারা সার্বভৌম এবং তাদের মধ্যে ক্ষমতার উৎস নিহিত আছে। মানুষের এক উন্নত ভারতে বাস করার অধিকার আছে, তাই উন্নয়নমূলক রাজনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনীতির দুটো মাত্রা আছে। এক হল রাজনৈতিক দলগুলির পরিচিত জগৎ যা স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অতএব, আজকের ভারতবর্ষের কী চাই? যেখানে দারিদ্র্যসীমার নীচে ২৬০ মিলিয়ন বা ২৬ কোটি মানুষ বাস করে এবং অশিক্ষার হার ৩৪ শতাংশ, আর ৩৬ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ কর্মপ্রার্থী। আমাদের লক্ষ্য হল দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও কর্মহীনতার অন্ধকার থেকে মুক্ত এক উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে ভারতবর্ষকে গড়ে তোলা। এই পরিস্থিতি উন্নয়নমূলক রাজনীতিকে অপরিহার্য করে তোলে।
আমাদের দেশের উন্নয়নমূলক রাজনৈতিক পরিবেশে আমি রাজনৈতিক দলকে এমন এক পরিস্থিতিতে দেখতে আগ্রহী যেখানে তারা একে অপরকে ছাপিয়ে উন্নতির লক্ষ্যে নিজের নিজের ইস্তাহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞাপন করবে। কয়েকটা দৃষ্টান্তমূলক রূপরেখার দ্বারা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা যাক—
১. ধরে নেওয়া যাক ক পার্টি বলল পনেরো বছরের মধ্যে আমরা ভারতবর্ষকে এক উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে নিয়ে যাব এবং প্রতি ৫ বছরের জন্য উন্নয়মুখী বিকাশ পরিকল্পনা করব এবং তাকে বাস্তবে রূপদান করব।
