‘ডু ইউ রিড মি, কনি?”
‘লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। স্পিকারে গমগম করে উঠল কনরাডের কণ্ঠস্বর। ডেভিড মোড় নিয়ে পাহাড়ের পেছনে গাছের ফাঁক দিয়ে দেখতে পাওয়া পাবলিক রোডের দিকে ঘুরে গেল।
অনুসরণ করে চলল সে। প্রায় পাঁচশ ফুট উপরে আছে। ভোলা পার্ক ল্যান্ডের চারপাশে খুঁজতে লাগল।
মাটি থেকে সবুজ ফোর্ড ট্রাককে দেখা না গেলেও আকাশ থেকে পরিষ্কার ভাবে চোখে পড়ল। আক্কারস ভাবতেই পারল না কী ঘটতে চলেছে।
কনি, পেয়েছি ট্রাককে লুজান স্ট্রিম থেকে তীরের দিকে আধা মাইলের মাঝে। ভাল হবে তুমি যদি ব্রিজের দিকে এগিয়ে যাও। এরপর শুকনো নদীর মাঝে নেমে গিয়ে চেষ্টা করা ট্রাক আসার আগেই ধরতে।
“ঠিক আছে, ডেভিড।’
মুভ ইট, ম্যান।
হুম। গাছের উপর দিয়ে ও ল্যান্ড রোভারের ধুলা দেখতে পেল ডেভিড। কনরাড নির্ঘাৎ প্যাডেলে পা চেপে রেখেছে শক্ত করে।
‘আমি চেষ্টা করব লোকটাকে হাতেনাতে ধরে তোমার হাতে তুলে দিতে।
‘তুমি পারবে।’
পাহাড়ের দিকে লম্বা টান নিল ডেভিড। চারপাশ দেখতে লাগল নিচে চকচক করছে পুল। হালকাভাবে প্রটল খুলে দিল ডেভিড। অনেক উপর থেকে দেখা গেল ছোট্ট একটা বিন্দু পাগলের মতো নাচানাচি করছে।
‘স্যাম।’ দেখতে পেল ডেভিড। যুদ্ধের নাচ নাচছে। কোর্স বদলে স্যামের একেবারে কাছ দিয়ে উড়ে গেল ডেভিড। উইন্ডমিলের মতো ঘোরা বন্ধ করে হাত বাড়িয়ে পশ্চিম দিকে দেখাল স্যাম। হাত নেড়ে স্বীকৃতি জানাল ডেভিড। এরপর পশ্চিমে নেমে গেল খানিকটা।
সামনের ছড়িয়ে আছে সমভূমি, ঠিন যেন চিতা বাঘের পিঠ। ঘন ঝোঁপঝাড় আর সোনালি ঘাস। আরো এক মিনিট উড়ে গিয়ে কালো একটা জমায়েত দেখতে পেল। তার সামনে দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। বাকি বাফেলোগুলো একত্রিত হয়েছে। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটছে।
বাফেলো। ডেবরাকে জানাল ডেভিড। দৌড়াচ্ছে। কিছু একটা সচকিত করে তুলেছে তাদেরকে। ডেভিডের পাশে চুপচাপ বসে আছে সে। কোলের উপর হাত রেখে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।
আহ! চিৎকার করে উঠল ডেভিড। পেয়েছি তাকে-হাতে রক্ত!
সামনের খালি জায়গাগুলোর একটার ঠিক মাঝখানে পোকার মতো দেখাচ্ছে মৃত বাফেলোর দেহটাকে। পেট অনাকৃত, পা ঝুলে আছে একপাশে।
চারজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে এর চারপাশে। নির্ঘাৎ কসাইয়ের কাজ শুরু হবে এখন। তিনজন আফ্রিকান, একজনের হাতে ছুরি।
চতুর্থজন হলে আক্কারস। এত লম্বা-চওড়া দেহ ভুল হবার কোন কারণ নেই। পরনে কালো ফেদোরা, টুপি আছে মাথায়। যে কাজে লেগেছে তার তুলনায় পোশাকটা বড় বেশি আনুষ্ঠানিক মনে হল। কিন্তু শার্টের উপর ব্রেস আছে আড়াআড়ি ভাবে।
ডান হাতে ধরে আছে একটা রাইফেল। এয়ারক্রাফটের শব্দ পেয়ে তাকাতে লাগল চারপাশে। এরপর আকাশের দিকে তাকিয়েই জমে গেল যেন।
‘শুয়োর কোথাকার। ওহ, কী যে করতে ইচ্ছে করছে আমার!’ ফিসফিস করে উঠল ডেভিড। রাগে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল সে।
‘হোল্ড অন! সাবধান করল ডেবরাকে। ঠিক খাড়াভাবে নেমে যেতে লাগল মানুষটার উপর। মৃত বাফেলোর চারপাশে জড়ো হওয়া দলটা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। এয়ারক্রাফট নেমে যেতে লাগল তাদের উপর। কিন্তু ডেভিড নির্বাচন করল টুপিওয়ালাকে। পোপেলারের পাখা স্পর্শ করল ঘাসের মাথা। দৌড়ে গেল আক্কারসের দিকে।
মনে হলো আক্কারসের উপর দিয়ে প্লেন চালিয়ে দেবে সে। অসম্ভব রেগে উঠল নিজের অবোধ প্রাণীদের উপর এহেন নির্যাতন দেখে। চাইল প্রপেলারের ব্লেড দিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলতে দুষ্ট লোকটাকে।
কাঁধের উপর দিয়ে পেছনে তাকাল আক্কারস। ভয়ে সাদা হয়ে গেল তার মুখ। গভীর আর গর্তে বসানো চোখগুলোতে ভয়ার্ত ছায়া দেখতে পেল- খুনীর মতো এগিয়ে আসছে ব্লেডগুলো। আর হয়তো ফুটখানেক দূরে। ঘাসের উপর লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল লোকটা।
এক ইঞ্চি উপর দিয়ে উড়ে গেল নাভাজো। আবার ঘুরিয়ে এদিকে আসতে লাগল ডেভিড। এবার পাখার মাথা দিয়ে ঘাসের ডগা কাটতে কাটতে এগোতে লাগল। আসার সময় দেখতে পেল উড়ে যাবার মতো দৌড় লাগাল আক্কারস। আর গাছের কিণার থেকে পঞ্চাশ কদম দূরে আছে।
সমান্তরাল ভাবে উঠে গেল ডেভিড। রাগে এখনো কাপঁছে সে। কিন্তু বুঝতে পারল গাছগুলোর কাছে পৌঁছানোর আগে তাকে ধরতে পারবে না সে।
বড়সড় একটা গাছের মোটা গুঁড়ির কাছে পৌঁছে কাঁধে রাইফেল তুলে নিল আক্কারস। এগিয়ে আসা এয়ারক্রাফটের দিকে তাক করল, যদি হাত কাঁপছে, কিন্ত রেঞ্জ কম আছে।
‘নিচে’, চিৎকার করে উঠল ডেভিড। উইন্ডশিল্ডের নিচে নামিয়ে দিল ডেবরার মাথা। থ্রটল খুলে খাড়াভাবে উঠে গেল উপর দিকে।
ইঞ্জিনের গর্জন ছাপিয়েও ডেভিডের কানে এলো এয়ারক্রাফটের ফিউজিলাজে আঘাত করা বুলেটের শব্দ।
‘কী হচ্ছে ডেভিড?’ আর্তনাদ করে উঠল ডেবরা। ও আমাদের দিকে গুলি ছুঁড়ছে। কিন্তু আমরা তাকে দৌড়াতে বাধ্য করেছি। নিশ্চয় ট্রাকের কাছে যাবে এখন। এতক্ষণে সেখানে পৌঁছে গেছে কনরাড।
গাছের ফাঁকে ফাঁকে কাভার নিয়ে দৌড়াতে লাগল আক্কারস। উপরে কর দিচ্ছে ডেভিড। বুঝতে পারল পালানোর জন্যেই দৌড়াচ্ছে প্রাণপণে আক্কারস।
‘ডেভিড, শুনতে পাচ্ছো আমার কথা?’ ককপিটের মাঝে গমগম করে উঠল কনরাডের স্বর।
কী হয়েছে, কনি?
‘আমরা সমস্যায় পড়েছি। ল্যান্ড রোভার পাথরের গায়ে ধাক্কা লেগেছে। পুরো জায়গা ভরে যাচ্ছে তেলে। পাম্প ফুটো হয়ে গেছে।
