কার্টিজ শেল খরচের কথা কেমন মনে হয়? জোর দিয়ে বলল ডেভিড।
হালকা ভাবে হাসল কনরাড। এগুলো তার পকেটেই থাকে। এটা বেশ চালাক পাখি। পুরো দেশে সে তো তার প্রমাণ ছড়িয়ে রাখবে না। যখন কাজ করে তখনি তাকে ধরতে হবে। না আমাদেরকে ওকে এর মাঝে টেনে আনতে হবে। ব্যবসায়ী সুলভ মনোভাব দেখা গেল তার মাঝে। ঠিক আছে, তুমি এমন কোন জায়গার কথা ভেবেছো যেখানে স্যামকে রাখা যায়?
‘আমার মনে হয় ওকে একটা কোপজেতে রাখতে হবে। মুক্তোর ছড়ার কাছে। রাস্তায় একটু ধুলা দেখতে পেলেও আমাদেরকে সিগন্যাল দেবে। জায়গাটার উচ্চতা টু-ওয়ে রেডিওকে প্রয়োজনীয় রেঞ্চ দেবে।’
লাঞ্চ করার পর নাভাজোর লাগেজ কম্পার্টমেন্টে নিজেদের ব্যাগ রাখল ডেভিড। ভৃত্যদেরকে দুই সপ্তাহের বেতন দিয়ে দিল অগ্রিম ‘ভাল থাকবে তোমরা।’ জানাল তাদেরকে। এই মাস শেষ হবার আগেই ফিরে আসব আমি।’
খোলা দরজা দিয়ে দেখা গেল ইগনিশনে চাবি ঝুলছে। এমন ভাবে ল্যান্ড রোভার নিয়ে হ্যাঙ্গারে পার্ক করল ডেভিড। প্রস্তুত হয়ে আছে যাত্রার জন্যে। এরপর উঠে পশ্চিমে হেডিং সেট করল। ব্যান্ডেলিয়ার হিল আর আমগাছগুলো পার হয়ে গেল। জীবনের কোন চিহ্ন দেখা গেল না। কিন্তু নিজের কোর্স ধরে রাখল ডেভিড। যতক্ষণ পর্যন্ত না দিগন্ত থেকে হারিয়ে গেল পাহাড় সারি। এরপর আবার ঘুরে দক্ষিণে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের সকুকুজা ক্যাম্পে এলো।
এয়ারস্ট্রিপে নিজের ট্রাকে অপেক্ষা করছিল কনরাড বার্গ সেসনার জন্যে। গেস্টরুমে তাজা ফুল রেখে দিল জেন। এখান থেকে উত্তর-পশ্চিমে পঞ্চাশ মাইল গেলেই জাবুলানি।
৬. লাল স্ট্যান্ডবাই হিসেবে
মনে হলো আবারো ‘লাল’ স্ট্যান্ডবাই হিসেবে স্কোয়াড্রনের কাজে নেমেছে ডেভিড। বড় গাছের শেডের নিচে নাভাজো পার্ক করা। রেডিও সেটও রাখা হয়েছে সুইচ অন অবস্থায়। সামের ট্রান্সমিটারের সিগন্যাল আসছে ভাসা ভাসা। পুলের উপরে পাহাড়ের মাথায় ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করছে সে।
বেশ গরম পড়েছে। পূর্ব দিক থেকে ঝড়ের আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।
এয়ারক্রাফটের উইংয়ে ছায়ায় বসে আছে ডেভিড, ডেবরা আর কনরাড বার্গ। ককপিটে গরমের জন্যে বসাই যাচ্ছে না। হালকা চালে খোশগল্পে মেতে থাকলেও সবার কান খাড়া হয়ে আছে স্যামের কাছ থেকে সংকেতের আশায়।
‘লোকটা আজ আসবে না। দুপুর হবার খানিক আগে জানাল ডেবরা। আসবে, নির্ঘাৎ আসবে। কনরাড শুধরে দিল ডেবরাকে। এই বাফেলোগুলোর লোভ সামলানো সোজা কথা নয়। হয়তো আজ না—-কিন্তু আগামীকাল বা তার পরে সে আসবেই।
উঠে দাঁড়াল ডেভিড। কেবিনের খোলা দরজা দিয়ে উঠে পড়ল। ককপিটের দিকে এগিয়ে গেল।
‘স্যাম?’ মাইক্রোফোনে ডেকে পাঠাল সে। আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? অনেকক্ষণ বিরতি। বোঝা গেল রেডিও ব্যবহার করতে হিমশিম খাচ্ছে স্যাম। এরপর আস্তে হলেও পরিষ্কার ভাবে শোনা গেল ওর গলা ‘আমি শুনতে পাচ্ছি নখোসি।’
‘কিছু দেখতে পেয়েছো?
কিছু না।
নজর রাখো তাহলে।
ইয়েবো, নখোসি।’
এয়ারস্ট্রিপে ঠাণ্ডা পিকনিক লাঞ্চ নিয়ে এলো জেন। টেনশন থাকা সত্ত্বেও পেট পুরে খেলো সকলে। এরপর হাত দিতে যাবে মিল্ক টার্টের প্লেটে, হঠাৎ করেই জীবন্ত হয়ে উঠল রেডিও। পরিষ্কার কণ্ঠে ঘোষণা করল স্যাম :
‘এসে গেছে!
‘রেড স্টান্ডবাই গো! যাও!”
চিৎকার করে উঠল ডেভিড। সবাই হুড়মুড় করে ঢুকলো কেবিনের দরজা দিয়ে। জেনের মিল্ক টার্টের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তে যাচ্ছিল ডেবরা। তাড়াতাড়ি তার হাত ধরে সিটে নিয়ে বসিয়ে দিল ডেভিড।
ব্রাইট ল্যান্স এয়ারবর্ন হয়ে উঠে পড়ছে। উত্তেজনায় হেসে উঠল ডেভিড। এরপর স্মৃতি এসে যেন ছুরি বসিয়ে দিল মুখে। মনে পড়ল ছয়ের কাটার ঘরে ঝুলে আছে জো। জোর করে মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেকে বর্তমানে ফিরিয়ে নিয়ে এলো। শূন্য চোখে তাকাল হেডিংয়ের দিকে। অলটিচ্যুডের জন্যে সময় নষ্ট না করে গাছের উপরে ডান দিকে রইল সমান্তরালভাবে।
তাদের পেছনে সিটে কুঁজো হয়ে বসে আছে কনরাড বার্গ। সবসময়ের চেয়েও বেশি লাল হয়ে আছে তার চেহারা। মনে হচ্ছে বেশি পেকে যাওয়া একটা টমেটোর মতো যে কোন মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে যাবে। ল্যান্ড রোভারের চাবি কোথায়? উদ্বিগ্ন স্বরে জানতে চাইল সে। ইগনিশনে আর ট্যাঙ্কিও ভর্তি হয়ে আছে।
‘আরো জোরে চালাতে পারো না? গর্জন করে উঠল কনরাড।
‘ওয়াকি টকি এনেছেন? মনে করিয়ে দিল ডেভিড।
‘এই যে! বিশাল হাতের মুঠোয় ধরে রেখেছে কনরাড। আরেক হাতে জোড়া ব্যারেলের ৪৫০ ম্যাগনাম দেখা যাচ্ছে পরিষ্কার ভাবে।
উঁচু গাছগুলোর মাথায় উঠে পড়ল ডেভিড। সীমান্ত বেড়ার উপর পৌঁছে গেল। সামনে পড়ে আছে জাবুলানির পাহাড়।
প্রস্তুত হোন, কনরাড়কে জানাল ডেভিড। নাভাজো নিয়ে উড়ে গেল এয়ারস্ট্রিপে; ট্যাক্সিইং করে এগিয়ে গেল পার্ক করে রাখা ল্যান্ড রোভারের দিকে।
ডেভিড ব্রেক কষে থামার সাথে সাথে লাফ দিয়ে নেমে গেল কনরাড। কেবিনের দরজা খুলেই দৌড় দিল ল্যান্ড রোভারের দিকে। সাথে সাথে থ্রটল খুলে দিল ডেভিড। এয়ারক্রাফটকে ঘুরিয়ে নিল। নাভাজো আবারো শক্তি ফিরে পাবার আগেই টেক-অফ করল।
উপরে উঠে পড়তেই দেখতে পেল এয়ারস্ট্রিপ ধরে ধুলার মেঘ উড়িয়ে গর্জনে ছুটে চলেছে ল্যান্ড রোভার।
