আগুপিছু হয়ে পুরো বেড়া দেখল স্যাম। তারপর এসে তাদের কাছে। দাঁড়াল।
‘হ্যালো, স্যাম। অভিবাদন জানাল ডেভিড। অনেক সাধ্য-সাধনার পর সে বিশ্বাস করল যে এই ক্ষত-বিক্ষত বিভৎস চেহারার লোকটাই হলো সেই সুদর্শন ডেভিড যে কিনা শিখেছিল কেমন করে বন্য একটা মৌমাছির চাকে হাত ঢুকাতে হয় মৌমাছিকে বিরক্ত না করে।
হাসিমুখে ডেভিডকে স্যালুট করল স্যাম। নিজের ইউনিফর্মকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছে সে। তার বয়স ধারণা করা বেশ কঠিন, কেননা নাগুনিদের মতো বড়সড় মসৃণ চাঁদপানা মুখ–আফ্রিকার অভিজাত যোদ্ধা জাতি–কিন্তু মাথার উপরে পুরো সাদা চুল। ডেভিড শুনেছে যে জাবুলানিতে চল্লিশ বছর কাজ করেছিল সে। তাই ধরে নেয়া যায় যে বয়স ষাটের কাছাকাছি।
দ্রুত কনরাডের কাছে রিপোর্ট দিল সে। প্রাণীদের বর্ণনা আর সংখ্যাও বলে দিল যেগুলো জাবুলানিতে ঢুকেছে।
বাফেলোর একটা দলও এসেছে। তেতাল্লিশটা আছে। সাধারণ জুলু ভাষায় বর্ণনা করল স্যাম, ডেভিড যেটা শিখতে চেষ্টা করছে। এগুলোই লাঙ্গুলেনের কাছে রিপাপ বাঁধে পানি খেয়েছিল এর আগে।
তার মানে এগিয়ে আসছে আক্কারস। এদের যে কোন বাফেলোই সুস্বাদু বিলটংয়ের জন্য যথেষ্ট। শুকনো মুখে তাকিয়ে রইলো কনরাড।
‘কতক্ষণ পরে সে জানতে পারবে যে বেড়া ভেঙ্গে পড়েছে? জানতে চাইল ডেভিড। দ্রুত র্যাপিড ফায়ারের ভঙ্গিতে স্যামের সাথে আলোচনা সেরে নিল কনরাড। প্রথম কয়েকটা বাক্য তো বুঝতেই পারল না ডেভিড। যাই হোক অবশেষে তর্জমা করে দিল কনরাড।
‘স্যাম বলছে যে ইতিমধ্যেই ওহ জানতে পেরেছে যে তোমার সব ভূত্য আর তাদের স্ত্রীরা আক্কারসের দোকান থেকে সদাইপাতি কেনে। লোকটা ভূতদেরকে টাকা দেয় এ তথ্য জানানোর জন্য। এর মানে স্যামের ধারণা যে তাকে মারার বন্দোবস্তও আক্কারস করেছিল। গভীর রাতে সুনসান রাস্তায়। তিন মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছে স্যামকে এছাড়া ঘর পুড়িয়ে দিয়ে জাবুলানি ছাড়া করতে চেয়েছে স্যামকে, আক্কারস।
এর মানে স্যাম আমাদের সাথে, তাই না? একমত হলো ডেভিড। বৃদ্ধ স্যাম চায় আমরা যেন আক্কাসকে ধরি—এ ব্যাপারে ও একটা প্ল্যানও করে রেখেছে।
তাই নাকি, শুনি তো কী?
‘যেহেতু রাতে তুমি আছো জাবুলানিতে তাই রাতের বেলা কিলিং ল্যাম্প নিয়ে অপহরণের চেষ্টা হয়তো করবে না আক্কারস। এ ব্যাপারে সব কৌশল সে জানে। আমরা তাকে কখনোই পাকড়াও করতে পারব না।’
‘তো?
তাই তুমি তোমার চাকরদেরকে বলবে যে দুই সপ্তাহের জন্য কেপটাউন যাচ্ছে। ব্যবসার কাজে। তুমি বাসা ছাড়ামাত্র খবর পাবে আক্কারস। বিশ্বাস করবে পুরো জাবুলানি তার হাতের মুঠোয়। এক ঘণ্টা ধরে প্রতিটি খুঁটিনাটি আলোচনা সেরে মাথা নেড়ে আলাদা হলো সকলে।
বাসায় গাড়ি চালিয়ে ফিরে আসার সময় খোলা জঙ্গল থেকে বের হবার সময়ে লম্বা ঘাসের মাঝে দিয়ে তুষারকণার মতো উজ্জ্বল সাদা কিছু একটা উড়তে দেখল ডেভিড।
‘কিছু একটা আছে এখানে। তাড়াতাড়ি ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল ডেভিড। চুপচাপ অপেক্ষা করতে লাগল। এরপরেই ঘাসের মাঝে নড়াচড়া দেখল সে।
‘আহ, বাফেলো!’ উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠল ডেভিড। গাছের কিনারে ল্যান্ড রোভার দেখে থেমে গেল চারজনের ছোট্ট দলটা। মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে দেখল ল্যান্ড রোভার। কিন্তু ভয় পেল না।
এরপর লম্বা লম্বা ঘাসের মাঝ দিয়ে একের পর এক বের হয়ে এলো দলের বাকিরা। প্রত্যেকে একবার করে ল্যান্ড রোভার দেখে নিয়ে নিজের কাজে লেগে গেল। মোট তেতাল্লিশটা। যেমনটা ধারণা করেছিল স্যাম। এদের মাঝে সুদর্শন কয়েকটা পুরুষের ওজন না হলেও ২০০০ এল বি হবে আর লম্বায় সাড়ে পাঁচ ফুট। বিশাল শিংগুলো মাথার মাঝ থেকে উঠে নিচের দিকে বেঁকে গেছে। মাথাগুলো কালো আর চকচকে।
আলো না মরা পর্যন্ত পুরো লিটার ছবি তুলল ডেভিড। সন্ধ্যা নামার পর চলে গেল তারা। রাতের খাবারের আগে ওয়াইনের বোতল খুললো ডেভিড। সিঁড়ির ধাপে বসে একসাথে দুজনে মিলে পান করল আর শুনল রাতের গুঞ্জন নিশাচর পাখির ডাক, উড়ন্ত পোকার শব্দ, অন্যান্য ছোট-ছোট প্রাণীর নিঃশব্দ চলাচলের আওয়াজ।
‘তোমার মনে আছে একবার আমি বলেছিলাম যে তুমি হচ্ছ বখে যাওয়া ছেলে, বিয়ের জন্য মোটেই উপযুক্ত নও? মোলায়েম স্বরে জানতে চাইল ডেবরা। চুল ভর্তি মাথা রাখল ডেভিডের কাঁধে।
‘আমি কখনোই ভুলবো না এটা।
‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এ মন্তব্য তুলে নিতে চাই।’ বলে চলল ডেবরা। আস্তে করে নিজের দিকে ডেবরার মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে লাগল ডেভিড। নিজের চেহারার উপর ডেভিডের দৃষ্টি অনুভব করে হাসলো সে। লজ্জা মেশানো হাসি। আমি একটা ছোট্ট ছেলের প্রেমে পড়েছিলাম। বখে যাওয়া ছোট ছেলে যে কিনা শুধুমাত্র তীব্র গতির গাড়ি আর স্টার্টের কথা চিন্তা করতো।–’ বলে উঠল ডেবরা। কিন্তু এখন আমার পাশে আছে মানুষ, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।’ আবারো হাসল সে। আর আমি তার এদিকটাই বেশি পছন্দ করছি।’
নিজের দিকে টেনে নিয়ে ডেবরাকে কিস করল ডেভিড। একটু ক্ষণ চুপ করে থাকার পর আবারো কথা বলে উঠল ডেবরা।
‘এই বন্য প্রাণীরা—এগুলো তোমার কাছে অনেক কিছু
‘হ্যাঁ?’ উৎসাহ দিল ডেভিড।
‘আমি বুঝতে পারছি। যদিও আমি কখনো এগুলোকে দেখিনি, আমার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
