আমি তাকে দেখে নেব।’ নরম স্বরে বলে উঠল ডেভিড। স্মৃতিতে ভেসে উঠল ব্রিগের কণ্ঠস্বর।
‘ভায়োলেন্সের একমাত্র অযুহাত হলো তোমার যা, তাকে নিরাপত্তা দেয়া।
খাড়া ভাবে আবার উল্টো দিকে ঘুরে গেল প্লেন। ফিরে গেল জাবুলানির ল্যান্ডিং স্ট্রিপে।
.
কনরাড বার্গ ডেকে পাঠাল ওল্ড বাক জিন খাবার জন্য। এছাড়াও ডেভিডকে জানাল যে বোর্ড জাবুলানিকে প্রাইভেট নেচার রিজার্ভ ঘোষণার জন্য তার আবেদন মঞ্জুর করেছে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও শীঘ তৈরি হয়ে যাবে।
‘তুমি কী চাও আমি বেড়াটা এখনি সরিয়ে নেই?
না।’ চিন্তিত স্বরে উত্তর দিল ডেভিড। থাকুক। আমি চাই না আক্কারসকে ভয় দেখাতে।
ঠিক আছে। একমত হলো কনরাড।
‘তাকে দেখে নেব আমরা। জুলুকে নিজের কাছে ডেকে নিল আর ক্ষতস্থান পরীক্ষা করে দেখল। বাঞ্চোত, কোথাকার।’ বিড়বিড় করে অপরাধীর ভঙ্গিতে তাকাল ডেবরার দিকে।
‘স্যরি, মিসেস মরগ্যান।
‘আমি এ ব্যাপারে একমত নই, মি. বার্গ। নরম স্বরে জানাল ডেবরা। কথা বলার সময় তার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকে জুলু। এক পাশে মাথা নাড়ল সেও।
প্রতিটি তরুণ জিনিসের মতো, দ্রুত সেরে উঠল জুলু।
মুক্তোর ছড়ার কাছে পাহাড়ের পাদদেশে ঘন হয়ে থাকা মারুলা গাছে ফুল এলো। লাল লাল ফুলগুলো সত্যি দেখার মতো দৃশ্য বটে।
প্রায় প্রতিদিন ডেভিড আর ডেবরা দুজনে একসাথে ঘুরে আসে মারুলা বন থেকে। পুল পর্যন্ত হেঁটে আসে। ধীরে ধীরে নিজের শক্তি ফিরে পাচ্ছে জুলু। তাই প্রায় সময়ই পানি নিয়ে খেলা করে সেও।
এরপর আস্তে আস্তে নারী মারুলার গায়ে সবুজ রঙের তাল আকৃতির ফলগুলো পেকে হলুদ হয়ে গেল আর সেই সুগন্ধে ভারী হয়ে উঠল সন্ধ্যার বাতাস।
সাবি থেকে নেমে এলো প্রথম দলটা। সবার প্রথমে বৃদ্ধ দুটো পুরুষ। চল্লিশ বছর ধরে মুক্তার ছড়ার কাছে বাৎসরিক তীর্থে আসে এগুলো। সাথে আছে পনেরোটা শাবকসহ গাভী, পায়ে পায়ে দৌড়াতে লাগল আর কম বয়সী অনেকগুলো।
দক্ষিণ দিক থেকে নেমে এলো ওগুলো। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ল। খোলা জায়গা থেকে দেখে মনে হয় ভূতের মতো ধূসর রঙের ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে ফলের চারপাশে। সাধারণত লম্বা একটা গাছে নজর আটকে যায় পুরুষ হাতির। মোটা কান্ডের গায়ে মাথা ঠেকিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে এপাশ-ওপাশ করতে করতে হঠাৎ করে হেঁচকা টানে মাটির দিকে টেনে ধরে গাছটা। উপরের দিকের কয়েকটা কচি পাতাতেই তার মন ভরে যায়। এরপর দু’একটা বাকল মুখে পুরে উত্তরে হাঁটা ধরে।
এরপর কনরাড বার্গের বেড়ার কাছে এসে পুরুষ দুটো পরীক্ষা করে দেখে সব কিছু। কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে দাঁড়ায় যেন আলোচনা করছে। বিশাল ধূসর কানগুলো নাড়তে থাকে। আর কয়েক মিনিট পর পর শুড় দিয়ে বালি তুলে নিজেদের পিঠে ছুঁড়ে ফেলে মাছি তাড়ায়।
এই চল্লিশ বছর ধরে যাতায়াতের কল্যাণে নিজেদের রিজার্ভের সব চেনা হয়ে গেছে তাদের। গেম ফেন্সের কাছে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারল যে এটা ভাঙা অপরাধ হবে। এছাড়া তাদের সুখ্যাতিও নষ্ট হবে।
কনরাড বার্গ ডেভিডের সাথে নিজের হাতিদের বুদ্ধি বিবেচনা নিয়ে কথা বলার সময় প্রচণ্ড সিরিয়াস ছিল। এমন ভাব করল যেন তারা স্কুল বয়।
চিন্তিত মুখে বৃদ্ধ পুরুষ হাতি দুটি ফিরে গেল নিজের বাহিনীর কাছে। কী করা যায় এ ব্যাপারে ধৈর্য সহকারে আলোচনা শুরু করল তারা। তিন দিন ধরে হাতির পালটা বেড়ার কাছে এলো আর গেল। অপেক্ষা করল। বিশ্রাম নিল এরপর হঠাৎ করেই পশ্চিমা বাতাস ধেয়ে এলো তদের দিকে। বয়ে নিয়ে। এলো মারুলা জামের সুগন্ধ।
রাস্তার ধারে ল্যান্ড রোভার পার্ক করে আনন্দে হেসে উঠল ডেভিড।
কনির বেড়ার জন্য এত কিছু।
নিজের সম্মানবোধে বা ধ্বংসের আনন্দে একটাও বয়স্ক হাতি অন্যের তৈরি করা ফুটো দিয়ে ঢুকলো না।
সবাই নিজের মতো করে বেড়ার জায়গা ঠিক করে নিল। কংক্রিটের মাঝে শক্ত কাঠ পুঁতে রাখা। কোন সমস্যা ছাড়াই মাটির সাথে মিশে গেল সবগুলো। প্রায় এক মাইল জুড়ে ভেঙে পড়ে গেল সব বেড়া।
প্রতিটি হাতি পুলের কাউকে ব্যবহার করে পেঁচানো তারের নগ্ন ফলা এড়িয়ে এলো।
এরপর সারারাত ধরে পুলের পাশে চলল ভোজ। হলুদ জামগুলো খেয়ে নিয়ে ভূরিভোজ শেষ হলো সকালবেলা। এরপর আবারো সুশৃংখল ভাবে বেড়ার কাছে ফিরে এলো দলটা। চাইল বেড়া ঠিক করে দাঁড় করিয়ে দিতে। হয়তো অপরাধবোধে ভুগতে লাগল অথবা আশা করল পুরো কাটার জন্য অন্য কোন দলকে অভিযুক্ত করবে কনরাড বার্গ।
যাই হোক, ভাঙা বেড়া দিয়ে সহজেই এপাশে চলে এলো অন্য দলগুলো।
এলো শক্তিশালী বাফেলার মতো শিংওয়ালা নীল রঙের মোটা মাথা আর কেশবওয়ালা প্রাণী। এরপর এল জেবরা।
অবশিষ্ট বেড়ার কাছে এসে ডেভিডের সাথে দেখা করল কনরাড বার্গ। নিজের ট্রাক থেকে লাফিয়ে নেমে সতর্কতার সাথে পার হলো বেড়া। তাকে অনুসরণ কলো আফ্রিকান রেঞ্জার স্যাম।
ধ্বংসলীলা দেখে মাথা নাড়তে লাগল কনরাড।
‘এটা বৃদ্ধ মাহোম্মেদ আর ওর একচোখওয়ালা বন্ধুর কাজ। আমি যেখানেই দেখি চিনবো তাদের পায়ের ছাপ। এমন শয়তান একেকটা তাড়াতাড়ি ল্যান্ড রোভারে বসে থাকা ডেবরার দিকে তাকাল কনরাড।
‘ঠিক আছে, কোন সমস্যা নেই মি. বার্গ।’ ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে তাকাল ডেবরা।
