ভয়াবহ মরণ চিৎকার করে উঠল জুলু। সাথে সাথে চিৎকার করে আগে বাড়লো ডেবরা।
এক পা সামনে বাড়িয়ে দিল আক্কারস। ফলে হাত আর কনুই দিয়ে মাটিতে পড়ে গেল ডেবরা।
বাদ দিন, লেডি।’ হাসতে হাসতে ডেবরাকে মানা করল আক্কারস। বাধা দিতে গেলে আপনিও ব্যথা পাবেন।’
নরম পেটের মাঝে চোখা দাঁত ঢুকিয়ে মোচড় দিল বেবুন। এরপর সর্বশক্তি দিয়ে টান দিল। পাকস্থলীর পাতলা চামড়া ছিঁড়ে গেল সাথে সাথে। বেগুনি রঙের নাড়িভুড়ি বাইরে বের হয়ে এলো। ঝুলে রইল বেবুনের চোয়ালে।
আবারো আর্তনাদ করে উঠল কুকুরছানা। অন্ধের মতো নিজের পায়ের উপর উঠে দাঁড়াল ডেবরা।
‘ডেভিড!’ চিৎকার করে কেঁদে উঠল সে। ডেভিড সাহায্য করো।
দৌড় দালানের ভেতর থেকে বের হয়ে এলো ডেভিড। দরজায় দাঁড়িয়ে দেখে ফেলল পুরো দৃশ্য। দরজার পাশে স্তূপ করে রাখা লাকড়ি থেকে একটা তুলে নিয়ে এক লাফে পার হলো বারান্দা। তিন লাফে পৌঁছে গেল কুকুরছানার কাছে।
বেবুনটা ডেভিডকে আসতে দেখেই ছেড়ে দিল জুলুকে। আবারো এক লাফে উঠে গেল পোলের ভেতর। চোয়াল লাল হয়ে আছে রক্তে। উত্তেজনা আর বিজয়ীর ভঙ্গিতে লাফ ঝাঁপ শুরু করে নিল পশুটা।
হাতের লাকড়ি ফেলে দিয়ে আস্তে করে অসহায় কুকুরছানার দেহটা তুলে নিল ডেভিড। ল্যান্ড রোভারের কাছে গিয়ে নিজের বুশ জ্যাকেট দিয়ে বেঁধে দিল পেট। নিজের হাত দিয়ে নাড়িভুতি আবার ঢুকিয়ে দিল ভেতরে।
‘ডেভিড, কী হয়েছে? আকুতি জানাল ডেবরা। হাঁটতে হাঁটতে হিতে তাকে জানাল ডেভিড।
‘ভেতরে বসো।’ ডেবরাকে জানাতেই ল্যান্ড রোভারের প্যাসেঞ্জার সিটে উঠে বসল ডেবরা। কোলে তুলে নিল আহত জুলুকে। ড্রাইভারের সিটে গিয়ে বসল ডেভিড।
নিজের দোকানের দরজায় ফিরে গেল আক্কারস। কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। নকল দাঁত খুলে পড়ে গেল হাসির দমকে।
নিজের ঘরে বসে বেবুনটাও লাফাচ্ছে মাস্টারের মতো খুশিতে। মি. মরগ্যান। আপনার পেরেক নিতে ভুলবেন না।
ঘুরে আক্কারসের দিকে তাকাল ডেভিড। শক্ত আর গরম হয়ে উঠল তার চেহারা। গাল আর কপালের চামড়ায় যেন আগুন ধরে গেল। রাগে জ্বলে উঠল ঘন নীল চোখ জোড়া। নেমে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করল সে। পাশে ঝুলছে মুষ্টিবদ্ধ হাত।
তাড়াতাড়ি পেছন দিকে চলে গেল আক্কারস। দোকানের কাউন্টারের পেছনে পৌঁছে পুরাতন ডাবল ব্যারেলের শটগান হাতে তুলে নিল। মোটা মোটা বুড়ো আঙুল দিয়ে দুটো হ্যামার টেনে প্রস্তুত করে নিল গুলি করার জন্য।
‘সেল্ফ ডিফেন্স মি. মরগ্যান, উপস্থিত স্বাক্ষী আছে আমার। স্যাডিস্ট এর মতো তৃপ্তির স্বরে চিৎকার করে উঠল আক্কারস। আরেক ধাপ সামনে এগোলেই আপনাকে দেখে নেবো আমি।’
সিঁড়ির মাথায় থেমে গেল ডেভিড। বন্দুকটা ঠিক তার পেটের দিকে তাক করা।
‘ডেভিড তাড়াতাড়ি-ওহ, প্লিজ তাড়াতাড়ি। ল্যান্ড রোভার থেকে উদ্বিগ্ন স্বরে চিৎকার করে উঠল ডেবরা, কোলের কাছে দ্রুত নিস্তেজ হয়ে আসছে কুকুর ছানাটার শরীর।
‘আবার দেখা হবে আমাদের।’ রাগের চোটে কণ্ঠ জড়িয়ে গেল ডেভিডের।
মজাই হবে তাহলে।’ বলে উঠল আক্কারস। ঘুরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল ডেভিড।
রাস্তা দিয়ে ধুলার মেঘ উড়িয়ে ল্যান্ড রোভারকে চলে যেতে দেখার পর শটগান সরিয়ে একপাশে রাখল আকারস। সূর্যের আলোর নিচে উঠানে এলো। ঘর থেকে বের হয়ে এসে লাফ দিয়ে নিচে নামল বেবুন। কোমর উঁচিয়ে নাচতে লাগল বাচ্চাদের মতো।
পকেট থেকে মিষ্টি বের করে ভয়ঙ্কর হলুদ বিষদাঁতের মাঝে ঢুকিয়ে দিল আক্কারস।
বাছা আমার। দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠল। ছোট ছোট কুতকুতে বাদামী চোখ দিয়ে তাকিয়ে রইল বেবুনটা।
.
এবড়ো-থেবড়ো রাস্তা সত্ত্বেও ত্রিশ মাইল পেরিয়ে মাত্র পঁচিশ মিনিটে জাবুলানিতে পৌঁছে গেল ডেভিড। হ্যাঙ্গারের পাশে স্কিড করে গাড়ি থামলো। হাতে কুকুরছানা নিয়ে দৌড় দিল এয়ার ক্রাফটের দিকে।
ফ্লাইটের মধ্যে কোলের উপর রেখে জুলুকে আদর করতে লাগল ডেবরা। কিন্তু গাঢ় রক্তে ভিজে গেল ওর স্কার্ট। চুপচাপ পড়ে রইল জুলু, মাঝে মাঝে একটু একটু ফোপানি ছাড়া আর কোন শব্দ হলো না। ওয়ারলেস টেলিফোনের মাধ্যমে কথা বলে নেলস্প্রুটে নিজেদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে নিল ডেভিড। টেক অফ করার পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর পশু সার্জনের ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার শুইয়ে দেয়া হলো জুলুকে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অখণ্ড মনোযোগে কাজ করল সার্জন। ছিঁড়ে যাওয়া ধমনী আর পেটের পেশী সেলাই করা হলো।
খুব খারাপ ভাবে আহত হয়েছে জুলু। আর ইনফেকশনের ভয়টাই বড় হওয়ায় জাবুলানিতে ফেরার সাহস হলো না তাদের। পাঁচ দিন পরে আবার জাবুলানিতে উড়ে আসার পরেও দুর্বল রইল জুরু। কিন্তু বিপদ কেটে গেছে। ফ্লাইট কোর্স বদলে ব্যান্ডোলিয়ার হিলের ট্রেডিং স্টোরে এলো ডেভিড।
সূর্যের আলোয় আয়নার মতো চকচক করছে টিনের চাল। নিজের মাঝে ঠাণ্ডা রাগ আর প্রত্যয়ের ভাব টের পেল ডেভিড।
মানুষটা আমাদের জন্য হুমকি।’ জোরে জোরে উচ্চারণ করল সে। আমাদের প্রতি আর জাবুলানিতে আমরা যা করতে চাইছি তার প্রতি সত্যিকারের হুমকি এই লোক।
মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল ডেবরা। জুলুর মাথায় আস্তে আস্তে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। কেননা ডেভিডের মতোই সে নিজেও ভয়ঙ্কর রেগে আছে।
