‘যেমনটা জিজ্ঞেস করেছি, কী করতে পারি আপনার জন্য? ধীরে ধীরে চিবোতে লাগল লোকটা। প্রতিটি কামড়ে দাঁতের আওয়াজ পাওয়া গেল।
‘আমার পেরেক আর রং দরকার। ল্যান্ড রোভার থেকে নামল ডেভিড।
‘শুনেছি নেলস্প্রুটে সব কেনাকাটা সেরেছেন আপনি। হিসেবী দৃষ্টিতে ডেভিডের দিকে তাকিয়ে রইল আক্কারস। মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল ডেভিডের ক্ষত-বিক্ষত চেহারা। ডেভিড দেখল লোকটার গর্তে বসানো চোখ দুটোর রং মেটে সবুজ।
‘আমার মনে হয় বন্যপ্রাণীকে খাঁচায় পুরে রাখা বা শিকলে বেঁধে রাখা নিয়ে আইন আছে। প্রায় সাথে সাথে আক্কারসের উপর রেগে গেল ডেভিড। কণ্ঠে পরিষ্কার বোঝা গেল তার ঝাঁঝ। আবারো ধীরেসুস্থে চিবোতে চিবোতে হাসল আক্কারস।
“আপনি আইনজীবী-তাই না?
‘এমনি জিজ্ঞেস করলাম।
‘আমার অনুমতিপত্র আছে–দেখবেন?
মাথা নাড়ল ডেভিড। ফিরে হিব্রুতে কথা বলতে লাগল ডেবরার সাথে। দ্রুত লোকটার বর্ণনা দিল ডেভিড।
‘আমার মনে হয় লোকটা বুঝতে পেরেছে যে আমরা কেন এখানে এসেছি। সমস্যা বাধাতে চাইছে।’
‘আমি গাড়িতেই থাকছি। জানাল ডেবরা। ঠিক আছে। বারান্দার সিঁড়িতে পা দিল ডেভিড।
‘পেরেক আর রং?’ আক্কাসকে জিজ্ঞেস করল ডেভিড।
‘ভেতরে যান।’ হাসছে এখনো লোকটা। কাউন্টারের পেছনে একজন নিগার সাহায্যকারী আছে আমার। সেই-ই আপনার দেখাশোনা করবে।
একটু দ্বিধা করেও ভেতরে ঢুকলো ডেভিড। কার্বালিক সাবান, কেরোসিন আর গমের গন্ধ আসছে ভেতর থেকে। তাকগুলো পূর্ণ হয়ে আছে সস্তা দরের মুদি মালামালে। আরো আছে ওষুধ, কম্বল, সুতির ফুলেল নকশা করা কাপড়। ছাদ থেকে ঝুলছে সেনাবাহিনীর মতো বড় জুতা, কোট, কুড়ালের মাথা, ঝড়ের সময় ব্যবহার উপযোগী লণ্ঠন। মেঝে ভর্তি হয়ে আছে টিনের ট্রাংক, ময়দার পাত্র, গম আরো শ’খানেক জিনিস, যে কোন গ্রামের ডিলারের কাছেই সাধারণত যা থাকে। আফ্রিকান অ্যাসিস্ট্যান্টকে খুঁজে পেয়ে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিল ডেভিড।
বাইরে সূর্যের আলোয় ল্যান্ড রোভার থেকে নেমে গাড়ির গায়ে হালকা ভাবে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো ডেবরা। সাথে লাফ দিয়ে নামল জুলু। বারান্দার কাছের দেয়ালের দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রইল। সাদা প্লাস্টারের গায়ে হলুদ ইউরিনের জেট চালাচ্ছে অন্যান্য কুকুর।
নাইস উগ। বলে উঠল আকারস।
‘ধন্যবাদ।’ নগ্ন ভাবে মাথা নাড়ল ডেবরা।
আক্কারস তাড়াতাড়ি তার পোষা বেবুনের দিকে তাকাল। অভিব্যক্তি হয়ে উঠল শিয়ালের মতো ধূর্ত। মানুষ আর জটার মাঝে চোখাচোখি হয়ে গেল বিশেষ একটা ফন্দি। নার্ভাস ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল বেবুন। এরপর উঠে নিজের ঘরে চলে গেল পোলের মাথায়।
হেসে সাবধানে আরেক স্লাইস মাংস কেটে নিল আক্কারস।
‘জাবুলানি ভালো লাগছে আপনার?’ ডেবরাকে প্রশ্ন করল আক্কারস। একই সাথে মাংসের টুকরাটা বাড়িয়ে ধরল জুলুর দিকে।
‘আমরা বেশ ভালো আছি এখানে। শক্তভাবে উত্তর দিল ডেবরা। বাড়িয়ে ধরা মাংস ওকলো জুলু। লেজ নাড়তে লাগল। কোন কুকুরই আসলে এর মায়া ছাড়তে পারবে না। আগ্রহ ভরে নিল কুকুরটা। আরো দু’বার জুলুকে মাংসের টুকরো দিল আক্কারস্। চকচকে চোখে নরম সিল্কের মতো মুখ বেয়ে গড়াতে লাগল লালা।
বারান্দার শেডের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলারা মনে হলো মজা পেতে শুরু করল এবার। আগেও এরকম হতে দেখেছে একটা কুকুরের সাথে। আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রইল সকলে। ডেভিড দালানের ভেতরে, তাকে দেখা যাচ্ছে না। কিছুই জানে না ডেবরা, দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ।
আক্কারস বড়সড় একটা মাংসের টুকরা কেটে ধরল জুলুর সামনে। কিন্তু জুলু নিতে এলে হাত সরিয়ে নিল। এতক্ষণে মাংসের স্বাদ বুঝে গেছে জুলু। চাইল নিয়ে নিতে। আবারো শেষমুহূর্তে তার সামনে থেকে সরিয়ে নিল আক্কারস। জুলুর ভেজা কালো নাকে অস্বস্তি ফুটে উঠল। নরম কানগুলো দাঁড়িয়ে গেল।
সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো আক্কারস। হাঁটা ধরল, পিছু নিল জুলু। আবারো তার সামনে ধরা হলো মাংসের টুকরা। এরপর নরম স্বরে বলে উঠল আক্কারস, নাও তো দেখি বাছা।’ আর মাংসের টুকরাটা ছুঁড়ে ফেলে দিল বেবুনের ঘরের নিচে। সামনের দিকে লাফ দিল জুলু। এখনো শক্ত হয়ে উঠেনি ওর পা তাই খানিকটা টালমাটাল হলো। গিয়ে পড়ল বেবুনের মাটি খামচে তৈরি করা বৃত্তের ভেতর। পোলের নিচে গিয়ে ক্ষুধার্ত ভাবে মাংসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল জুলু।
ঘর থেকে বের হয়ে এলো বেবুন। বাতাসে ভেসে নেমে এলো পনের ফুট লম্বা পোল থেকে নিচে। পা ফাঁক করে চোয়াল খুলে গিয়ে গরগর শব্দ করতে লাগল। বাঁকানো, ধারালো, হলুদাভ দাঁতগুলো হয়ে উঠল ভয়ঙ্কর। নিঃশব্দে মাটিতে পা দিয়ে দাঁড়াল বেবুন। এগিয়ে গেল বেচারা অসহায় কুকুর ছানাটার দিকে। ঘাড়ে উঠেই জুলুর উপর চাপিয়ে দিল পুরো নব্বই পাউন্ডের বোঝা।
পড়ে গেল জুলু। বিস্মিত হয়ে গড়াতে লাগল কিন্তু উঠে দাঁড়ানোর আগেই আবারো তাকে ধরল বেবুনটা।
ডেবরা শুনতে পেল জুলু কেঁদে উঠল। এগোতে লাগল সামনে, অবাক হয়েছে কিন্তু কী ঘটছে বুঝতে পারছে না।
পেট উপর দিকে দিয়ে শুয়ে আছে জুলু। পেট হয়ে গেল উন্মুক্ত। সিঙ্কের মতো কালো কালো পশমে ভর্তি। পেনিস তখনো পুরোপুরি প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। এক লাফে তার উপর চড়ে বসল বেবুন। শক্তিশালী পা দিয়ে চেপে ধরে রাখল জুলুকে মাটির সাথে। জুলুর পেটে বসিয়ে দিল লম্বা হলুদ বিষদাত।
