ডেভিডের পিতামহ যখন জাবুলানি ক্রয় করেছিল তখন প্রতি একরের জন্য মাত্র কয়েক শিলিং খরচ করতে হয়েছিল।
এরপর থেকে বছরের পর বছর ধরে পারিবারিক শিকার এস্টেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটি। পল মরগ্যানের এসব ব্যাপারে কোন আগ্রহ না থাকায় উত্তরাধিকার সূত্রে ডেভিডের বাবা তারপর এখন ডেভিড হয়েছে এ ভূমির মালিক। আর এখন এই আঠারো হাজার একর আফ্রিকান বনভূমির মূল্য ছাড়িয়ে গেছে কল্পনার সীমা।
তারপরেও গত পনের বছরে মরগ্যান পরিবার এটি তেমনভাবে ব্যবহার করেনি। ডেভিডের বাবা উৎসাহী আর আগ্রহী প্রকৃতির শিকারি ছিল। তার সাথেই এখানে কেটেছে ডেভিডের বেশির ভাগ ছুটি। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর জাবুলানি আসা ধীরে ধীরে কমতে কমতে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
শেষবার আসার পরেও প্রায় সাত বছর কেটে গেছে। সেবার কোবরা স্কোয়াড্রন থেকে তার সঙ্গী অফিসাররা এসেছিল এখানে।
তখনকার সময়ে এ জায়গার সর্বময়কর্তা ছিল স্যাম। কৃষ্ণ ওভারসিয়ার, বাটলার আর গেম রেঞ্জার।
স্যামের তদারকিতে সবসময় বিছানায় থাকতো পরিষ্কার নিজ পরিপাটি লিনেন, পালিশ করা মেঝে। দালানের বাইরের দেয়াল ছিল তুষারশুভ্র খড়ের চাল ও পরিচ্ছন্ন আর গোছানো। ডিপ ফ্রিজে সবসময় ভর্তি থাকতো স্টেক আর লিকার পূর্ণ থাকতে যত রকমের সম্ভব সব রকমের বোতল দিয়ে।
শক্ত হাতে ক্যাম্প চালাতো স্যাম। সাথে ছিল অর্ধডজন আগ্রহী আর প্রাণচঞ্চল সাহায্যকারী।
‘স্যাম কোথায়? ঘর থেকে হুড়োহুড়ি করে এয়ারক্রাফটের দিকে দৌড়ে আসা দু’জন ভূতত্যর কাছে এই ছিল ডেভিডের প্রথম প্রশ্ন।
‘স্যাম চলে গেছে।
‘কোথায়? উত্তরে দুর্বোধ্য আফ্রিকান কাঁধ ঝাঁকানি ছাড়া আর কিছু পাওয়া গেল না। লোকগুলোর পরণের কাপড় নোংরা আর সেলাইও প্রয়োজন। আচরণও কেমন কেমন, নিরুত্তাপ।
‘ল্যান্ড রোভার কোথায়?
‘মারা গেছে।
ঘরের কাছে হেঁটে গেল ডেভিড। সেখানে আরো বিস্ময় অপেক্ষা করছিল তার জন্য।
দালান দেখে মনে হলো এখনি ভেঙ্গে পড়ে যাবে। কালো খড় দেখে ফুটে উঠলো হতদরিদ্র দশা। দেয়ালগুলোতে শ্যাওলা। জায়গায় জায়গায় প্লাস্টার খসে পড়ায় ধূসর বাদামী দাগ। ভেতরে সর্বত্র ধুলা। এখানে-ওখানে পাখি আর সরীসৃপের মল। ছাদে বাসা বেধেছে এগুলো।
মশার জালে–যার মাধ্যমে চওড়া বারান্দায় কোন পোকা–মাকড় ঢুকতে পারতো না–মরিচা পড়েছে। জায়গায় জায়গায় ছিঁড়ে গেছে।
সবজি বাগানেও কোন ফসল নেই। পাশের বেড়া টুকরো টুকরো অবস্থায় ভেঙে পড়ে আছে। বাসার চারপাশেও বড় বড় আগাছা। শুধুমাত্র ল্যান্ড রোভারই নয় পুরো বাড়ির কোন যন্ত্রাংশই ঠিক ভাবে কাজ করছে না। পানির পাম্প, টয়লেট ফ্লাশ, বৈদ্যুতিক জেনারেটর, মোটর ভেহিকেল–কিছুই ঠিক নেই।
‘ভয়াবহ অবস্থা হয়ে আছে সবকিছুর সামনের সিঁড়িতে বসে মগ থেকে মিষ্টি চা খেতে খেতে ডেবরাকে জানাল ডেভিড। ভাগ্যিস নিজেদের সাথে জরুরি কিছু রসদ নিয়ে এসেছিল ডেভিড।
“ওহ, ডেভি। আমি দুঃখিত। আমিই তো আসতে চেয়েছি এই জায়গায়। চারপাশ এত চুপচাপ যে বেশ শান্তি এখানে। আমার মনে হচ্ছে আমার নার্ভগুলো নির্ভার হয়ে গেছে এখানে এসে।
‘দুঃখিত হয়ো না। আমি তো তা নই। বিশেষ দশকের দিকে এই পুরোন কুঁড়েঘরগুলো বানানো হয়েছিল–তখনো সেভাবে যত্ন নিয়ে বানানো হয়নি। গলার স্বরে বোঝা গেল নতুন প্রেরণা খুঁজে পেয়েছে ডেভিড। অনেক দিন যাবৎ ওর কণ্ঠে একটা দৃঢ়তা ভাব আর টের পায়নি ডেবরা। ভালোই হলো এতে। পুরোটা ভেঙে নতুন করে বানানোর অযুহাত পাওয়া গেল।
‘আমাদের নিজেদের মতো করে? জানতে চাইল ডেবরা।
‘ঠিক তাই। আনন্দ ঝরে পড়লো ডেভিডের কণ্ঠে। তাই হবে। ঠিক তাই।’
পরের দিন কাছাকাছি সবচেয়ে বড় শহর নেলস্ট উড়ে গেল তারা। এর পরের সপ্তাহ পরিকল্পনা আর জোগাড় যন্তর নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ভাবে কেটে গেল যে, তারা তাদের সব বড় বড় সমস্যার কথা ভুলেই গেল। একজন স্থাপত্যবিদের সহায়তায় অনেক যত্ন নিয়ে নিজেদের বিশেষ প্রয়োজনগুলোর কথা মাথায় রেখে নতুন বাসার নকশা ঠিক হলো-বাতাস চলাচল করে এরকম বড় সড় একটা স্টাডি ডেবরার জন্যে। ডেভিডের জন্য ওয়ার্কশপ আর অফিস। একজন অন্ধ রাধুনির জন্য সহজ ভাবে চলাচল যোগ্য নিরাপদ রান্নাঘর। রুম গুলোতে কোন বিপজ্জনক মোড় রইল না। সহজেই চেনা যায় এমন আকার আর সবশেষে একটা নার্সারি সেকশন। এ অংশের কথা ডেবরাকে জানাবার পর ডেভিডকে সে চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কোন একটা প্ল্যান করছে, যা আমাকে জানাওনি।
‘ধীরে ধীরে জেনে যাবে। ঠিক আছে? নিশ্চয়তা দিল ডেভিড।
গেস্ট হাউজ করা হলো আলাদা আর স্বয়ংসম্পূর্ণ। মূল বাসা থেকে দূরে রইল এটি। এর থেকেও প্রায় কোয়ার্টার মাইল পেছনে তৈরি করা হলো ভূত্যদের থাকার কোয়ার্টার। সামনে গাছের পর্দা আর পাথুরে ভূমি।
নেলস্প্রুটে একজন বিল্ডিং কন্ট্রাকটরকে ঘুষ দিল ডেভিড। ফলে সব কাজ ফেলে রেখে চারটা ভারী ট্রাকে করে নিজের লোকদের নিয়ে জাবুলানিতে এসে হাজির হলো কন্ট্রাকটর।
মূল ঘর নিয়ে কাজ শুরু করল তারা। এই ফাঁকে ডেভিড ব্যস্ত হয়ে পড়ল এয়ারস্ট্রিপ নিয়ে। এছাড়াও খানিকটা বেঁচে বর্তে আছে এমন যন্ত্র আর ওয়াটার পাম্পও ঠিক করে ফেলল। কিন্তু ল্যান্ড রোভার আর বৈদ্যুতিক জেনারেটর পুরো বদলে ফেলতে হলো।
