প্রথম দিকে সে ভেবেছিল যে তার শারীরিক পরিবর্তন আড়ষ্ট করে রেখেছে মিটজিকে। কিন্তু একটু পরেই ব্যাপরটা খোলাসা করে দিল মিটজি। সিসিল মরগ্যান গ্রুপে ইতিমধ্যেই পল মরগ্যানের হাত ধরে কেউকেটা টাইপের কেউ একজন হয়ে উঠেছে। কিছুই জানে না এমন ভঙ্গিতে সিসিল জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কী গ্রুপে যোগ দেবার ব্যাপারে কিছু ভাবছো? আমি নিশ্চিত তুমি করার মতোও কিছু না কিছু নিশ্চয় পাওয়া যাবে হা, হা!”
আস্তে করে তাদেরকে নিশ্চয়তা দিল ডেভিড।
‘না, ধন্যবাদ। আমাকে নিয়ে তোমার চিন্তার কোন কারণ নেই সিসিল। আংকেল পল থেকে সব বুঝে নিতে পারো তুমি। আমার আশীর্বাদসহ।
‘গুড লর্ড, আমি এটা বলতেই চাইনি।’ তাড়াতাড়ি বলে উঠল সিসিল। কিন্তু বোকা মিটজি বলে উঠল, ‘ও সত্যিই বেশ ভালো করবে, ওয়ারিওর আর তোমার তো কখনোই এ ব্যাপারে আগ্রহ ছিল না, তাই না।’
এই সন্ধ্যার পর এ সম্পত্তির সাথে আর দেখা হয়নি তাদের। আর পল মরগ্যান নিজে আছেন ইউরোপে। তাই বেশি যন্ত্রণা ছাড়াই পারিবারিক কাজ শেষ করল ডেভিড। জাবুলানি যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করল সে।
বার্নি ভেন্টার এক সপ্তাহ তাদের সাথে কাটিয়ে জঙ্গলে এয়ারস্ট্রিপ ঠিক করে দিল এয়ার ক্রাফটের জন্য। এছাড়াও মনমত পারফরমেন্স দিল ডেভিডকে। অবশেষে জোড়া ইঞ্জিন বিশিষ্ট পাইপারি নাঙাজো পছন্দ করল তারা। ছয় আসন বিশিষ্ট বিমানটাতে আছে দুটো বড় বড় ৩০০ এইচ পি. লিকোমিং ইঞ্জিন আর ট্রাইসাইকেল আন্ডারকার্ট। কোমরে হাত রেখে চারপাশে থেকে জরিপ করল বার্নি।
যাক, সে মিরেজ নয়। ল্যান্ডিং হুইলে লাথি মেরে নিজের দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি আবার ডেভিডের দিকে তাকাল বার্নি।
‘আমি মিরেজ নিয়ে যথেষ্ট খেলা করেছি।’ জানিয়ে দিল ডেভিড। ওরা কামড় দেয়!
শেষ দিনে পার্লের কাছে একটা ফার্মে গাড়ি চালিয়ে ডেবরাকে নিয়ে গেল ডেভিড। কুকুরের বাচ্চা প্রসব করায় মালিকের স্ত্রী। কুকুরের ঘরগুলোর কাছে যেতেই একটা ল্যাব্রাডর কুকুরছানা সরাসরি এগিয়ে এলো ডেবরার কাছে। ডেবরার পায়ে ঠাণ্ডা নাক ঘসে গন্ধ শুঁকতে লাগল। মাথায় হাত বুলাতে চাইল ডেবরা। কয়েক মিনিট পর সামনে ঝুঁকে কুকুরছানার লোমের গন্ধ নিল।
‘পুরোন চামড়ার গন্ধ আসছে ওর গা থেকে। বলে উঠল ডেবরা। কেমন গায়ের রঙ ওর?
কালো। জানাল ডেভিড। জুলুদের মতো কালো।
‘এই নামেই ওকে ডাকবো আমরা।’ জানিয়ে দিল ডেবরা।
‘জুলু।
তুমি ওকে পছন্দ করতে চাও?’ জিজ্ঞেস করল ডেভিড।
না।’ হেসে ফেলল ডেবরা। ও আমাদেরকে পছন্দ করেছে।’
পরদিন সকালে উত্তর দিকে উড়ে যাবার সময় পেছনের সিটে বসে মনে হলো মন খারাপ করল জুলু। এক লাফ দিয়ে উঠে এলো ডেবরার কাঁধের উপর দিয়ে কোলে। এবার মনে হলো দু’জনের ভালই জমবে।
‘মনে হচ্ছে আমাকে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। করুণ সুরে জানাল ডেভিড।
বাদামী মালভূমি পার হয়ে মাটি ধপ করে খাড়া নেমে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে।
বুশ বাক রিজ আর চিকন সাপের মতো আঁকাবাঁকা সারি নদী দেখে পথ চিনে নিল ডেভিড। সমভূমি মাঝ দিয়ে পথ এগিয়েছে। খানিকটা উত্তরে কোর্স পরিবর্তন করল ডেভিড। দশ মিনিটের মাথায় দেখতে পেল নীল পাহাড়ের সারি।
‘এই তো আমাদের সামনেই। ডেবরাকে জানাল ডেভিড। বোঝা গেল তার উত্তেজনা প্রশমিত হলো ডেবরার মাঝেও। কুকুরটাকে নিজের কাছে চেপে ধরে ডেভিডের দিকে ঝুঁকে এলো।
কেমন লাগছে দেখতে?
বড় বড় কাঠের গাছ সারা পাহাড় জুড়ে। আর নিচে ধূসর পাথরের গম্বুজ। সেখানে ঘন আর অন্ধকার ঝোঁপঝাড়। আঁধারের মাঝে নরম আলো ছড়াচ্ছে পুল। ডেবরার কাছে বর্ণনা দিল ডেভিড।
‘আমার বাবা এদের নাম রেখেছিল “মুক্তোর মালা…।” এরকমই দেখতে তারা। পাহাড়ের পেছনে গড়নে জমি বেয়ে বৃষ্টির জল যাবার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এগুলো। আবার ঠিক হঠাৎ করে সমভূমির বালুর অংশে হারিয়ে গেছে। পাহাড়ের উপর দিয়ে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে নিচে নামতে লাগল ডেভিড। এর মাধ্যমেই জাবুলানির চরিত্রে বিশেষজ্ঞ যোগ হয়েছে। সমভূমির সমস্ত বন্য প্রাণীরা পানি পায় এখান থেকে। পশুপাখিরা শত মাইল পার হয়েও মুক্তোর তীরে আসে। প্লেন সমান করে থ্রটল পেছন দিকে টেনে দিল ডেভিড। নিচে নেমে আসতে লাগল এয়ারক্রাফট। এখানে আছে খড়ের চাল, সাদা দেয়াল। ফলে আবাসভূমি গরমকালে ঠাণ্ডা থাকে; ছায়া ঢাকা বারান্দা আর উঁচু উঁচু রুম-তোমার ভালো লাগবে।’
এয়ারস্ট্রিপ দেখে মনে হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর নিরাপদ। তার পরেও খানিকক্ষণ চক্রাকারে ঘুরে ল্যান্ডিংয়ে কাজ শুরু করল ডেভিড। গাছের ফাঁকে থাকা ছোট্ট পাকা ইমারতের তৈরি হ্যাঙ্গারে ট্যাক্সিইং করে গেল। হুইল ব্রেকে লাথি কষিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করল।
চলে এসেছি।’ ঘোষণা করল সে।
.
ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ককে ব্লক করে রেখেছে যে কয়টি এষ্টেট, তার একটি হলো জাবুলানি। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক অঞ্চল। এই এস্টেটগুলো উৎপাদনক্ষম নয়। শস্য ফলানোর উপযুক্ত নয়, কয়েকটিতে তো শুধু বন্য প্রাণী চড়ে বেড়ায়। কিন্তু অমূল্য হচ্ছে এর প্রাণিজগত আর বনভূমি এতটাই খালি জায়গা আর শান্তি এখানে যে ধনী ব্যক্তিরা কার্পণ্য করেনি। এখানে নিজেদের জন্য ভূমি ক্রয় করতে।
