মেঝের দিকে চোখ নামিয়ে রাখল ডেভিড।
‘আমার হৃদয় বলা সত্ত্বেও হয়তো তোমার জায়গায় আমি হলে ওদের পিছু নিতাম না। এ কারণেই তোমাকে দোষারোপ করছি আমি। তোমার মাথা গরম। ভায়োলেন্স হলো বোকাদের আনন্দ আর বুদ্ধিমানদের শেষ ভরসা। এটি করার একমাত্র কারণ হলো যা তোমাকে তা রক্ষা করা–ভায়োলেন্সের অন্য কোন ব্যবহার কখনোই কাম্য নয়। তোমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছি আমি, তার অপব্যবহার করেছো তুমি। আর এর মাধ্যমে আমার ছেলেকে খুন করেছ, আমার দেশকে যুদ্ধের দোড়গোড়ার দাঁড় করিয়ে দিয়েছ।
নিজের ডেস্ক থেকে উঠে দাঁড়াল ব্রিগ। হেঁটে গিয়ে জানালার নিচে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল বাগানের দিকে। দু’জনেই চুপ করে রইল। মোচের উপর হাত বুলাতে বুলাতে ছেলের কথা ভাবতে লাগল ব্রিগ।
অবশেষে ভারী হৃদয়ে কাঁধ নাড়িয়ে রুমের মাঝখানে আবারো ফিরে এলো।
‘কেন আমার কাছে এসেছে তুমি? ডেভিডের কাছে জানতে চাইল ব্রিগ।
‘আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই– স্যার।
‘আমাকে জিজ্ঞেস করছো নাকি জানাচ্ছো? আবারো প্রশ্ন করল ব্রিগ। এরপর উত্তরের অপেক্ষা না করেই ডেস্কের কাছে গিয়ে বসে পড়ল, যদি তুমি এই ক্ষমতার অপব্যবহার করো–ওকে ব্যথা দাও বা অসুখী রাখো, মনে রেখো আমি তোমাকে খুঁজে বের করব।’
উঠে দাঁড়িয়ে মাথার উপর কাপড়ের টুপিটা ঠিক ঠিক বসিয়ে নিল ডেভিড।
‘আমরা চাই আপনি বিয়েতে আসুন। ডেবরা বিশেষ ভাবে এটা চেয়েছে– আপনি আর ওর মা।
মাথা নাড়ল ব্রিগ। ওকে জানিয়ে আমরা আসব।
.
জেরুজালেম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থনার স্থানটি উজ্জ্বল সাদা রঙে নির্মিত।
লাল পাপড়ির গাছটা ছেয়ে গেছে ফুলে। আর যতটা ভেবেছিল তার চেয়েও বড় হয়ে গেছে বিয়ের পার্টি। পরিবারের একদম কাছের মানুষ ছাড়াও এসেছে ডেবরার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী, স্কোয়াড্রন থেকে রবার্ট আর আরো জনা কয়েক ছেলে, ইলা কাঁদেশ, ডাক্তার ইদেলমান আর শিশুসুলভ চেহারার চোখের সার্জন, যিনি ডেবরাকে নিয়ে কাজ করেছেন, অ্যারন কোহেন আর আরো ডজনখানেক ব্যক্তি।
সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনা পেরিয়ে ডেভিডের ভাড়া করে রাখা অভ্যর্থনাকক্ষে পৌঁছায় সকলে। সবাই বেশ চুপচাপ। কোন হাসি তামাশা নেইই প্রায়। ডেভিডের পুরোন স্কোয়াড্রনের তরুণ পাইলটেরা তাড়াহুড়া করে ফিরে গেল বেসে। আর তাদের সাথে সাথে শেষ হয়ে গেল আনন্দের অভিনয়।
ডেবরার মা এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। আর ডেবরার আসন্ন প্রস্থানের কথা ভেবেও কাঁদতে লাগল মহিলা। শান্ত করার চেষ্টা করলো ডেবরা। যদিও কোন লাভ হলো না।
চলে যাবার আগে ডেভিডকে ডেকে একপাশে নিয়ে গেল ডাক্তার ইফেলমান।
‘ওর চোখের দিকে খেয়াল রেখো, কোন ঝাপসা ভাব, অতিরিক্ত লাল ভাব–কোন ধরনের ব্যথা, মাথাব্যথা–
‘আমি খেয়াল রাখবো।
করমর্দন করল দু’জনে। নতুন জীবনের জন্যে শুভ কামনা রইল। জানাল ডাক্তার।
এ পর্যন্ত সমস্ত কিছুর উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রাখল ডেবরা। কিন্তু একেবারে শেষমুহূর্তে আর পারল না। সে, তার মা আর ইলা কাঁদেশ হঠাৎ করেই লড বিমানবন্দরের বহির্গমন ফটকের কাছে এসে একে অন্যের কাঁধে মুখ গুঁজে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।
শক্ত আর অপ্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রইল ব্রিগ আর ডেভিড। মনে হলো ক্রন্দনরত কাউকে তারা চেনেই না। প্রথমবার সাবধানবাণী ভেসে আসতেই সংক্ষিপ্ত করমর্দন সেরে আস্তে করে ডেবরার হাত ধরে ঢুকে গেল ডেভিড, দরজার ভেতরে।
অপেক্ষারত বোয়িংয়ের সিঁড়িতে উঠে গেল একবারও পেছন দিকে না তাকিয়ে। বিশাল উড়োজাহাজ উড়ে গেল আকাশে। ঘুরে গেল দক্ষিণ দিকে। আর মনে হলো হারানো কিছু একটা খুঁজে পেল ডেভিড; শেষ ক’দিনের উদ্বেগ পড়ে রইল বহু নিচে, মাটির কাছাকাছি। নতুন কিছুর সম্ভাবনায় আচ্ছন্ন করে তুলল তাকে।
আস্তে করে চাপ দিল ডেবরার হাতে।
হ্যালো দেয়ার, মরগান। ডেভিডের কথা শুনে ওর দিকে তাকিয়ে খুশি খুশি মুখে হাসল অন্ধ মেয়েটা।
.
উত্তরে জাবুলানিতে যাবার আগে কেপ টাউনে সময় কাটানোর প্রয়োজন হলো।
মাউন্ট নেলসন হোটেলে স্যুইট নিল ডেভিড। আর এখানে বসেই অনুপস্থিতির জন্য জমে যাওয়া হাজারো কাজ শেষ করতে উদ্যত হলো ডেভিড।
তার ট্রাস্ট ফান্ডের দায়িত্বে থাকা অ্যাকাউন্ট্যান্ট দশ দিন সময় চাইল। এই দশ দিন সিটিং রুমে বসে কাগজপত্রের উপর কাজ করেই সময় কাটালো।
এই দুই বছরে ব্যয়ের তুলনায় আয়ের পরিমাণ আরো বেড়ে গেছে। আর এই অর্থ পুনরায় কোথাও বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তৃতীয় ট্রাস্ট ফান্ড ও শীঘি বুঝিয়ে দেয়া হবে তাকে। সেসব আনুষ্ঠানিকতাও বাকি আছে।
ডেভিডের সম্পদের পাহাড় দেখে হতম্ভব হয়ে গেল ডেবরা।
‘তুমি তো প্রায় একজন মিলিয়নিয়ারই হয়ে গেছ।’ বিস্মিত কণ্ঠে বলে উঠল ডেবরা।
‘হুম, আমি তো আর যেমন তেমন নই।’ একমত হলো ডেভিড। নিজের সম্পর্কে ওর রসিকতা শুনে স্বস্তি পেল ডেবরা।
মিটজি এলো তার নতুন স্বামীকে নিয়ে। যাই হোক ভাল কাটলো না সন্ধ্যাটা! মিটজি চেষ্টা করল এমন ভাব করতে যেন কিছুই বদলায়নি। কিন্তু পরিষ্কার বোঝা গেল যে “ওয়ারিওর ডেকে চললেও তার মনোভাবের পরিবর্তন। হয়েছে।
সন্তানসম্ভবা মিটজি এতটাই বেসাইজ হয়ে গেছে শারীরিক ভাবে যে। অবাক হয়ে গেল ডেভিড। প্রায় অর্ধেক সময় কেটে যাবার পর প্রকৃত কারণ উপলব্ধি করল ডেভিড।
