গা মোছার সময় কাছেই দাঁড়িয়ে রইল ডেভিড মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল ডেবরাকে। মনে হলো এত মাসের বিচ্ছেদ এক মিনিটেই মিটিয়ে নিতে চাইছে। পরিষ্কার ভাবে ডেবরার কথা মনে করতে পারতো ডেভিড। তার পরেও বুঝতে পারল অনেক কিছুই ভুলে গিয়েছিল সে। যেমনটা মনে পড়ে তারচেয়েও নরম আর ঘন মেঘের মতো হয়ে গেছে ডেবরার চুল। দেহত্বকের চিক্কন ভাব ভুলে গিয়েছিল ডেভিড। আগের চেয়েও গাঢ় বর্ণের হয়ে গেছে। প্রায় তার চোখের মতো। নিশ্চয়ই প্রতিদিন অনেকটুকু সময় সূর্যের নিচে কাটায় সে। হঠাৎ করেই তোয়ালে ফেলে দিল ডেবরা। ঠিক করে নিল নিজের সংক্ষিপ্ত পোশাক। ডেভিড বুঝতে পারল কতটা প্রয়োজন তার এই মেয়েটাকে। এতটাই আকুতি জেগে উঠল যে বুকের মাঝে কিছুতেই তা আটকে রাখতে পারল না সে। হালকা পায়ে এগিয়ে গেল সে। তারপরেও জুতার নিচে শব্দ হতে লাগল অল্প অল্প।
সাথে সাথে তার দিকে ঘুরে তাকাল অনিন্দ্যসুন্দর একটা মুখ। কিছু শুনতে পাবার ভঙ্গিতে থেমে দাঁড়াল। চোখ দুটো হয়ে গেল বড় বড়। চোখের তারায় ফুটে উঠল বুদ্ধির ঝিলিক। মনে হলো ডেভিডকে দেখতে পেল ও দুটো। ডেভিডের মনে হলো ঘুরে চলে যেতে উল্টো দিকে।
‘ডেভিড? নরম স্বরে কথা বলে উঠল ডেবরা। তুমি এসেছো ডেভিড?
উত্তর দিতে চেষ্টা করল ডেভিড। কিন্তু স্বর ফুটলো না গলায়। দৌড়ে তার দিকে এগিয়ে এলো ডেবরা। দ্রুত, লম্বা লম্বা পা ফেলে। হাত বাড়িয়ে হাসি মুখে জানতে চাইল।
ধরে ফেলল ডেভিড। শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরল ডেবরা। কিছুটা রাগের ভঙ্গিতেও মনে হলো অনেকদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে তাকে।
‘আমি তোমাকে অনেক মিস্ করেছি ডেভিড। গলার স্বরে ফুটে উঠল রাগ। ওহ ঈশ্বর, তুমি কখনোই বুঝতে পারবে না আমি তোমাকে কতটা মিস করেছি।’
এই প্রথম কোন মানুষ তাকে দেখে দূরে সরে যায়নি–কোন সহানুভূতি বা অনুতাপ দেখায়নি–এত মাসের মধ্যে ডেভিডও বুঝতে পারল ও নরম হয়ে পড়েছে। শক্ত হাতে আলিঙ্গন করল ডেবরাকে।
অবশেষে দাঁড়িয়ে রইল ডেবরা। ডেভিডের মুখের উপর হাত বুলিয়ে নতুন রং নতুন আদল অনুভব করতে চাইল ডেবরা।
বুঝতে পারল মুখ সরিয়ে নিতে চাইছে ডেভিড। কিন্তু তাকে থামিয়ে দিয়ে নিজের মতো করে হাত বুলাতে লাগল ডেবরা।
‘আমার আঙুলগুলো বলছে যে তুমি এখনো অনেক সুন্দর–
‘মিথ্যে কথা বলছে তারা। ফিসফিস করে উঠল ডেভিড। কিন্তু ডেভিডের কথাকে পাত্তাই দিল না ডেবরা। কোমর দিয়ে ধাক্কা মারলো তাকে।
‘দক্ষিণ দিক থেকে আরো শক্তিশালী মেসেজ ভেসে আসছে আমার দিকে।’ নিঃশব্দে হাসল ডেবরা।
‘আমার সাথে দয়া করে আসুন স্যার।
ডেভিডের হাত ধরে হালকা পায়ে সিঁড়ি বাইতে লাগল ডেবরা। হাত ধরে যেন টেনে নিয়ে যেতে লাগল ডেভিডকে। অবাক হয়ে ডেভিড দেখল মেয়েটার স্বাচ্ছন্দ আর আত্মবিশ্বাসীর ভাব। কুঁড়েঘরে নিয়ে গেল ডেবরা ডেভিডকে। ঢোকার সাথে সাথে রুম হয়ে গেল আলো আঁধারে অন্তরঙ্গতাপূর্ণ।
লেক থেকে উঠে আসায় এখনো ভেজা আর ঠাণ্ডা ডেবরার শরীর। কিন্তু ডেভিডের স্পর্শে জেগে উঠতে সময় লাগল না। এমনভাবে মিলিত হলো দু’জনে যেন এতেই তাদের মুক্তি। এতদিনকার একাকিত্ব আর অন্ধকার কেটে গেল নিমেষের মাঝে।
শারীরিক ভালোবাসাও মনে হলো তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারল না। এমনি সময়েও একে অন্যের হাত ধরে রাখল দু’জনে। একসাথে গায়ে গা ঠেকিয়ে ঘুমালো। ঘুমের মাঝেও মনে হলো সচেতন রইল যেন আবার আলাদা না হয়ে যায়। কথা বলে, হাত ধরে রেখে, মাঝে মাঝেই ডেভিডের মুখে হাত বুলিয়ে দেয় ডেবরা। সোনালি রঙা চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে ডেবরা। এমনকি খাবার তৈরি করার সময়েও ডেবরার কাছে বা পিছনে দাঁড়িয়ে থাকে ডেভিড। মনে হলো যে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার ভয়ে একে অন্যের কাছ থেকে কিছুতেই আলাদা হতে চাইল না তারা।
দুই দিন কেটে যাবার পর কটেজ থেকে বের হলো দু’জনে। লেকের পাড়ে একসাথে হেঁটে বেড়ালো, জেটি থেকে সাঁতার কাটলো, সূর্যের তাপে স্নান করল। কিন্তু ইলা ছাদ থেকে তাদেরকে দেখতে পেয়ে হাত নাড়লেও প্রতিক্রিয়া হলো ডেবরার। ডেভিড জানতে চাইল।
‘ওর কাছে যাবো আমরা?’
না।’ তাড়াতাড়ি উত্তর দিল ডেবরা। এখনো না। আমি এখনো কারো সাথে তোমাকে শেয়ার করতে প্রস্তুত নই। আর একটু সময়, প্লিজ ডেভিড।
এরপর কেটে গেল আরো তিনটি দিন। সিঁড়ি বেয়ে দু’জনে উঠে এলো ইলার স্টুডিওতে। গগ্যার ছবির সামনে বসে আছে ইলা। আর কোন অতিথি নেই দেখে খুশি হলো ডেভিড আর ডেবরা।
‘আমি আরো ভাবছিলাম তোমার জন্য স্ট্রেচার আনাতে হবে ডেভিড। কিচিরমিচির শব্দে ডেভিডকে অভ্যর্থনা জানাল ইলা।
‘এভাবে বলো না তো ইলা।’ জানিয়ে দিল ডেবরা। লজ্জা পেয়ে গোলাপি হয়ে গেল সে। হেসে উঠল ইলা। এমনভাবে যে অন্য দু’জনও যোগ দিতে বাধ্য হলো।
তালগাছের নিচে বসল সবাই। মাটির জগ থেকে ওয়াইন নিয়ে নিল সকলে। আর বিরতি ছাড়াই চলল খাওয়া। হাসি-গল্প। ডেভিড আর ডেবরা একে অন্যকে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে ইলা’র মন্তব্যে কিছুই মনে করল না।
ডেবরার পরিবর্তন হলো একেবারে নাটকীয়। সমস্ত শীতলতা চলে গেছে কোথায় যেন। যে আবরণে ঢেকে রেখেছিল নিজের অনুভূতি সেটাও খসে পড়েছে। ভালোবাসার স্পর্শে আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে মেয়েটা।
