মাত্র অর্ধেক ঘোরা শেষ করে তারপরেই আবার কোন চিন্তা না করে উল্টো দিকে ঘুরে গেল। প্রতিবাদ জানাতে চাইল মিরেজ। গতি গেল কমে। রাশানটা দেখতে পেয়েই চলে এলো ডেভিডের স্টারবোর্ড কোয়ার্টারের দিকে। জয়স্টিক পুরো সামনের দিকে ঠেলে দিল ডেভিড। মাধ্যাকর্ষণের চাপে মাথা থেকে যে রক্ত সরে গিয়েছিল এখন সেটা শরীরের উপর দিকে বইতে লাগল। চোখের সামনে নাচতে লাগল বিভিন্ন রং। প্রেশারের ফলে নাকের নিচে একটি শিরা দপদপ করতে লাগল। তারপরই তার অক্সিজেন মাস্ক ভরে গেল রক্তে।
রাশানটা এখনো তার পেছনে লেগে আছে।
মুখ ভর্তি রক্ত নিয়েই চিৎকার করে উঠল ডেভিড। আবারো সর্বশক্তি দিয়ে টেনে ধরল জয়স্টিক। আবারো মনে হলো রক্ত সরে গেল মাথা থেকে। সেকেন্ডের মাঝে লাল থেকে সব কালো রং ভাসতে লাগল চোখের সামনে। রাশান মিগ এখন ওর উপরে। উপরের দিকে গুতো দিল ডেভিড। শত ভাগের এক ভাগ সেকেন্ড সময় দেরি করাতেই নিজের কামান থেকে গুলি ছুড়লো ডেভিড। খোলা আকাশে মনে হলো বাগানের হোস পাইপ থেকে পানির মতো গুলিবৃষ্টি শুরু হলো। পাইলটের কেবিনে উজ্জ্বল আলো জ্বলে উঠতে দেখল ডেভিড। ঘুরে উল্টো দিকে চলতে লাগল ডেভিড। রাশান ককপিট থেকে উড়তে দেখা গেল সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডুলি।
আমি পেরেছি; উচ্ছস্বিত হয়ে ভাবতে লাগল ডেভিড। ভয় চলে গিয়ে আবারো ফিরে এলো রাগ। ভয়ঙ্কর রাগ। আবারো মিরেজ নিয়ে উপরে উঠে গেল ডেভিড। কামানের গান সাইটের মাঝখানেই দেখা গেল রাশান মিগ।
এক সেকেন্ডের জন্য গুলি ছুড়লো ডেভিড। শেল গিয়ে আঘাত করল মিগ এর রূপালি ফিউজিলাডে।
একটু মোড় ঘুরেই সোজা ছুটলো রাশান মিগ। সম্ভবত কন্ট্রোলে বসে আছে মৃত পাইলট।
আবারো এক সেকেন্ডের জন্যে গুলি ছুড়লো ডেভিড। ভেঙ্গে চুরে পড়তে লাগল মিগ। ডেভিডের দিকে উড়ে আসতে লাগল অচেতন কিছু আবর্জনার অংশ। কিন্তু মেশিনের সাথে রয়ে গেল রাশান। আবারো দুই সেকেন্ডের জন্য গুলি ছুড়লো ডেভিড। এবার নিচের দিকে নেমে গেল মিগের নাক। রূপালি বর্শার মতো নেমে যেতে লাগল নিচে। ডেভিড তাকিয়ে দেখতে লাগল অন্তত মার্ক ২ এর বেশি গতি নিয়ে ছুটতে লাগল রাশান মিগ। এরপরই ধুলা আর ধোঁয়া ছুটিয়ে বোমার মতো আঁছড়ে পড়ল সিরিয়ার সমভূমিতে।
আফটারবার্নার বন্ধ করে ফুয়েল গজের দিকে তাকাল ডেভিড। শূন্য হবার কাটার খানিকটা উপরে হালকা রেখা দেখা গেল। বিপদ টের পেল ডেভিড। শত্রুভূমির উপর মাত্র পাঁচ হাজার ফুট উঁচুতে আছে সে।
মূল্যবান ফুয়েলটুকু নষ্ট করে পশ্চিমে ছুটলো ডেভিড। ইন্টারসেপশন স্পিড় নিয়ে উড়তে লাগল। চেষ্টা করছে দ্রুত সরে যেতে আর উপরে স্বর্গের দিকে তাকিয়ে চাইল খুঁজে দেখতে জো বা অন্য কোন মিগের দেখা পাওয়া যায় কিনা। যদিও সে ধারণা করল যে এতক্ষণে নিশ্চয়ই আল্লাহর সাথে মোলাকাত হয়ে গেছে সিরিয়ানগুলোর। অথবা মায়ের সাথে ফিরে গেছে।
ব্রাইট ল্যান্স, টু, দিস ইজ লিডার। শুনতে পাচ্ছো?
‘লিডার, দিস ইজ টু’, প্রায় সাথে সাথে উত্তর দিল জো।
‘আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি। ঈশ্বরের দোহাই ওখান থেকে সরে এসো।’
‘আমার অবস্থান কী?
‘আমরা সিরিয়ার ভেতর পঞ্চাশ মাইল পর্যন্ত চলে এসেছি। বেসের জন্য ফোর্স ২৫০°।
‘তোমার কী অবস্থা?
‘আমি একটাকে খতম করেছি। আরেকটার পিছনে আছি। এরপর ব্যস্ত হয়ে গেছি তোমার উপর চোখ রাখতে।
চোখ পিটপিট করল ডেভিড। অবাক হয়ে খেয়াল করল যে কপাল থেকে ঘাম গড়িয়ে হেলমেটে পড়ছে। আর পুরো মাস্ক চটচটে হয়ে গেছে নাকের ক্ষত থেকে পড়া রক্তে। হাত আর কাঁধ এখনো ব্যথা হয়ে আছে। মাতালের মতো হালকা লাগছে মাথা। কন্ট্রোলের উপর থাকা হাত দুটো কাঁপতে লাগল। দুর্বল বোধ হলো।
‘আমি দুটো মেরেছি–একটা ডেবরার জন্য আর আরেকটা হান্নাহর জন্য।’
‘চুপ করো, ডেভি।’ চিন্তিত স্বরে জানাল জো। এখান থেকে কীভাবে বের হবে সে চিন্তা করো। তুমি এখনো ফ্ল্যাক আর গ্রাউন্ড মিসাইলের রেঞ্জে আছে। লেজ জ্বালিয়ে নাও আর চলল।
‘নেগেটিভ।’ উত্তর দিল ডেভিড। আমার ফুয়েল শেষ হয়ে এসেছে। কোথায় তুমি?
ছয়টার কাঁটার ঘরে, ২৫০০০ ফুট উঁচুতে। উত্তর দিতে দিতে নিজের সিটে বসে সামনে ঝুঁকে অনেক নিচে ডেভিডের দিকে তাকাল জো। ধীরে ধীরে উঠে আসছে এটি অনেক ধীরে আর অনেক নিচুতে।।
ডেভিডের জন্য ভয় পেল জো। নিজের মাস্কের ভেতরে হাসফাস করতে লাগল। দ্রুত চারপাশে চোখ বুলাতে লাগল বিপদের আশংকায়। দুই মিনিটের মাঝে নিরাপদ স্থানে চলে যাবে তারা। কিন্তু এই দুই মিনিট মনে হলো হয়ে গেল শত বছরের মতো দীর্ঘ।
প্রথম মিসাইলটা অল্পের জন্য মিস্ করল ডেভিডকে। গ্রাউন্ড ক্রুরা নির্ঘাৎ ভুল করে ডেভিডকে সুযোগ দিয়েছে লঞ্চ প্যাড দিয়ে উড়ে যাবার।
‘মিসাইল, বামে চলে যাও। মাস্কের ভেতর গর্জন করে উঠল জো। যাও। গো! গো!’ দেখতে পেল তৎক্ষণাৎ ঘুরে গেল ডেভিড।
‘এটা তোমাকে হারিয়ে ফেলেছে!’ পাগলের মতো শূন্যপানে মিসাইলটাকে এগোতে দেখে মন্তব্য করল জো।
শিকারের খোঁজে একটুখানি এদিক-ওদিক হেলেদুলে অবশেষে বিস্ফোরিত হয়ে গেল মিসাইলটা।
‘চলতে থাকো, ডেভি। উৎসাহ দিল জো। কিন্তু খেয়াল রেখো, আরো আসছে।’
দু’জনেই দেখতে পেল মাটি ছাড়ল দ্বিতীয় মিসাইলটা। আরো দেখা গেল একগাদা জড়ো হয়ে আছে ভূমির উপর। পাথরের খাঁজ থেকে ডেভিডের ছোট্ট মেশিন লক্ষ্য করে উড়ে আসতে লাগল সার্পেন্ট।
