১-৩ নটিক্যাল মাইল।’ কিন্তু টার্গেটের অডিটলাইন এতটাই তরতাজা যে কোন সন্দেহই রইল না যে দলটা মিগ ২১ জে।
‘টার্গেট দেখতে পেয়েছি আমি।’ জোকে জানিয়ে দিল ডেভিড। পাঁচটা মিগ ২১ জে। সাদামাটা কণ্ঠে ঘোষণা করল ডেভিড। কিন্তু এটা মিথ্যে হলো। অন্তত এবার তার বোবা রাগ ভাষা খুঁজে পেল। আকার আর রং বদলে হয়ে গেল কালো থেকে উজ্জ্বল আর ছুরির মতো তীক্ষ্ণ।
‘টার্গেট এখনো আক্রমণাত্মক। জো নিশ্চিত করল যে ওগুলো এখনো ইস্রায়েলি ভূমিতে আছে। কিন্তু ডেভিডের মতো নিরুত্তাপ শোনাল না ওর গলা। ফ্যাসফ্যাসে আওয়াজে ডেভিড বুঝে গেল জোর মনের মাঝেও ঝড় বইছে।
আরো পনের সেকেন্ড পরে শত্রুর পশ্চাদদেশে ঘুরে যাবে তারা। অবস্থানটুকু চিহ্নিত করে ডেভিড তাকিয় দেখল যে সামনে ভালো জায়গা রয়েছে এর জন্য।
শান্তভাবে এগিয়ে চলেছে শত্রু প্লেনবহর। লেজের নিজে বিপদ সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে আছে এখনো। সামনের স্ক্যানিং রাডারে কোন অস্তিত্বই নেই। ডেভিড বা জোর সূর্যের দিকে এগিয়ে চলেছে দলটা। ওখানে পৌঁছে ডেভিডও আক্রমণে নামবে। খাড়া উঠে গিয়ে শক্রর বহরের গায়ে আঘাত করবে। সামনের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল যে এক্ষেত্রে ভাগ্যও তাকে সহায়তার জন্যে এগিয়ে এসেছে। বিশাল উঁচু একটা মেঘ এমনভাবে এগিয়ে আসছে যে তার আড়ালে ঢাকা পড়ে ভালোভাবেই লাফ দিতে পারবে ডেভিড। নিজেকে কাভার করে এগোবে সে, ঠিক যেমনভাবে আফ্রিকার বোয়া শিকারিরা বন্য ষাড় নিয়ে লড়াই করে।
‘টার্গেট ফোর্স বদল করছে স্টার বোর্ডের দিকে। সাবধান করে দিল জো। সামনের দিকে ঘুরে যাচ্ছে মিগের বহর। সিরিয়ান সীমান্তে ধার ঘেঁষে চলতে শুরু করল। নিজেদের কাজ শেষ করেছে। অবিশ্বাসীদের মুখে ইসলামের রঙের ছিটে মেরেছে। এখন ফিরে যাচ্ছে নিরাপত্তা বলয়ে।
নিজের ভেতর ঠাণ্ডা রাগের ছোঁয়া পেল ডেভিড। মনোযোগ হয়ে উঠল আরো তীক্ষ্ণ। লাফ দেবার আগে আরো কয়েক সেকেন্ড সময় নিল। তারপর এসে পড়ল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। গলার স্বর একটুও কাঁপল না। ডেকে উঠল জো। কে ‘টু লিডার বলছি, ক্লাইম্ব দিতে যাচ্ছি।’
‘টু কনফর্মিং।
কন্ট্রোলে হালকা হয়ে বসল ডেভিড। আর এত দ্রুত প্লেন লাফ দিল যে মনে হলো পেট থেকে পশ্চাৎদেশ আলাদা হয়ে যাবে। প্রায় তৎক্ষণাৎ রাডার ইমেজ দেখতে পেল মরুর ফুল। যেহেতু ডেভিড প্লেন নিয়ে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠে গেল।
হ্যালো, ব্রাইট ল্যান্স। আমরা তোমাকে দেখতে পাচ্ছি। বন্ধু বা শত্রুকে দেখাও।
ডেভিড আর জো দু’জনেরই বসে স্টার্ম-ক্লাইম্বের চাপ সহ্য করছে। কিন্তু নির্দেশ পেয়ে নিজেদের আইএফএফ সিস্টেম চালু করতেও ভুলল না। আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে তাদের চারপাশের রাডার ইমেজ যে কোন গড়ন আলাদা আলাদা ভাবে ফুটে উঠবে।
“ঠিক আছে–তোমাদের আই এফ এফ পেয়েছি।’ জানাল ব্রিগ। মেঘের মাঝে ঢুকে সামনে এগোতে লাগল ডেভিড আর জো। এতটাই কাছে দেখাতে লাগল রাডার ইমেজ যে শক্র বহরের প্রতিটি প্লেন স্পষ্ট দেখতে লাগল ডেভিড।
‘টার্গেড গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্টারবোর্ডের দিকে টার্ন নিচ্ছে। তাড়াতাড়ি সতর্ক করে দিল জো।
ডেভিড নিশ্চিতভাবে জানে যে শত্রু বহর তাদের অস্তিত্ব টের পায়নি। কাকতালীয় ভাবেই মোড় নিয়েছে। স্কিনে তাকিয়ে দেখতে পেল প্রয়োজনমতো উচ্চতা পেয়ে গেছে সে। শত্রু বহরের থেকে দুই মাইল উপরে আছে সে। পেছনে সূর্য। এটাই মোক্ষম সময়।
ফাইনাল অ্যাটাক প্যার্টানের জন্য ঘুরে যাচ্ছি। জোকে জানাল ডেভিড। এগোতে লাগল দুজনে।
সামনে নির্ভার মনে উড়ে যাচ্ছে টার্গেট। সাইড উইডার মিসাইল শত্রুর উপস্থিতি স্বরূপ হালকা ইনফ্রারেড টের পেয়েছে। ডেভিডের ইয়ারফোনে মৃদু গর্জন শুরু করল তারা।
এখনো চারপাশে ঘন ধূসর মেঘ; এরপর হঠাৎ করেই খোলা পরিষ্কার আকাশে বের হয়ে এলো দু’জনে। তাদের ঠিক নিচেই সূর্যের আলোয় চকচক করছে রূপালি মিগ বহর। সুন্দর খেলনার মতো দেখতে প্লেনগুলোর গায়ে লাল, সাদা আর সবুজ রঙের নকশা। জ্যামিতিক নকশা কাটা পাখা।
ধীরেসুস্থে ভি-ফর্মেশনে উড়ছে প্লেনগুলো। সেকেন্ডের মাঝে তাদেরকে দেখে নিল ডেভিড। চারজন উইংম্যানই সিরিয়ান { বোঝা গেল যে তেমন কোন কন্ট্রোলের ধার ধারছে না। ওড়ার ভঙ্গিতেও কোন দেখনসই, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি নেই। খুব সহজেই কাবু করা যাবে এগুলোকে।
যাই হোক, লিডারের প্লেনের ফিউজিলাজে তিনটা লাল রিং দেখে বোঝা গেল যে এটা রাশান ইনস্ট্রাকটর। শিরার বয়ে চলেছে বাজপাখির রক্ত। শক্ত আর ধূর্ত আর কালো মাম্বার মতই রাগ।
‘পোর্ট টার্গেট দুটো এনগেজ করছি। জোকে নির্দেশ দিল ডেভিড। হেডফোনে মিসাইলের গর্জন বেড়ে গেল। নিজে শক্রর অস্তিত্ব টের পেয়ে খুনের নেশায় পাগল হয়ে উঠেছে ওগুলো।
কমান্ড নেটের সুইচ অন্ করল ডেভিড। হ্যালো মরুর ফুল, টার্গেটের উপর আঘাত করার নির্দেশ চাইছে ব্রাইট ল্যান্স।
প্রায় সাথে সাথে উত্তর এলো। ডেভিড ব্রিগ বলছি– দ্রুত কথা বলছে ব্রিগ,_আক্রমণ করবে না। আমি আবারো বলছি, টার্গেট ছেড়ে দাও তারা আমাদের জন্য হুমকি নয়। আক্রমণ স্থল ত্যাগ করো।’
হতভম্ব হয়ে গেল ডেভিড। নিচে মেঘের উপত্যকার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল পেছনে পড়ে আছে জর্দানের বাদামী ভূমি। ভূমির উপর দিয়ে মাত্র একটা লাইন পার হওয়ায় বদলে গেছে তাদের ভূমিকা। কিন্তু টার্গেট এখনো হাতের কাছে। সহজেই আঘাত করা যাবে।
