‘হ্যালো, ডেভিড। ব্রিগ বলছি। আমাদের আকাশসীমায় অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে কেউ। মনে হচ্ছে আরেকটা সিরিয়ান। ছাব্বিশ হাজারে আমাদের সীমান্তের কাছাকাছি আসছে আর প্রায় তিন মিনিট লাগবে। আমরা গিডন প্ল্যানে অ্যাটাক করব। তোমার নতুন হেডিং ৪২° আর আমি চাই তুমি ডেকের ডান পাশে থাকবে।’
মাথা নেড়ে তৎক্ষণাৎ ঘুরে মিরেজের নাক নিচে নামিয়ে দিল ডেভিড। গিডন প্ল্যান মানে হলো অনেক নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া। ফলে শত্রুর রাডার খানিকটা অস্পষ্ট কাজ করবে পৃথিবীর উপরিভাগের নোংরা’র জন্য। ফলে একেবারে টার্গেটের নিচে স্টর্ম ক্লাইম্ব করার আগপর্যন্ত তাদের অস্তিত্ব বোঝা যাবে না।
প্রায় মাটির কাছাকাছি নেমে এলো ডেভিড। পাহাড়ের উপর দিয়ে ওঠানামা করতে করতে এগোচ্ছে। এতটাই নিচু দিয়ে যে স্পষ্ট দেখা গেল কালো পারসীয় জাতের ভেড়া। ভয় পেয়ে পূর্ব দিকে জর্দানের দিকে দৌড় লাগাল ভেড়াগুলো।
‘হ্যালো ব্রাইট ল্যান্স, মরুর ফুল বলছি-আমরা তোমাকে ট্র্যাক করছি না। ভালোই হলো। মনে মনে ভাবল ডেভিড। তার মানে, শত্রুও তার দেখা পাচ্ছে না। টার্গেট খানিকটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। কো-অর্ডিনেট জানিয়ে দিল ব্রিগ–’নিজের কনট্যাক্ট স্ক্যান করো।’
প্রায় সাথে সাথে কথা বলে উঠল জো। লিডার, আমি টু বলছি। দেখতে পেয়েছি।’
নিজের রাডার স্ক্রিনে চোখ নামালো ডেভিড। জোর কথা মতো রেঞ্জ আর বিয়ারিং মিলিয়ে দেখল। এতটা নিচু দিয়ে উড়ে যাবার সময় এরকম মনোসংযোগে ব্যাঘাত হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক। যাই হোক স্পষ্ট দেখতে পেল ডেভিড নিজেও।
আরো কয়েক সেকেন্ড উড়ে গেল তারা। এরপরই নিজের লুমিনাস চশমা তুলে নিল ডেভিড।
‘পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। রেঞ্জ ৯৬ নটিক্যাল মাইল। সমান তালে এগিয়ে আসছে। উচ্চতা ২৫৫০০ ফুট।
নিজের অতি পরিচিত রাগের দেখা পেল ডেভিড। মনে হলো পেটের ভেতর নড়াচড়া শুরু করল কুণ্ডুলি পাকিয়ে ঘুমিয়ে থাকা সাপ।
‘টু, টার্গেট ল করেছি। ইন্টারসেপ শন স্পিডে ছুটে যাচ্ছি।’
সুপারসনিক গতিতে ছুটে চলল মিরেজ। সামনে অনিন্দ্যসুন্দর পর্বতমালার সারি রূপালি আর ধূসর বর্ণ নিয়ে এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে চাইলে যে কোন কিছু কল্পনা করে নেয়া যায় সুউচ্চ কোন টাওয়ার, গর্বিত কোন মানব শরীরের উদ্ধত ভঙ্গি, দাবার বোর্ডের ঘোড়া সওয়ার, একপাল নেকড়ে, এরকম আরো বহু কিছু–তাদের মাঝে গভীর খাদগুলোতে ব্রিজ তৈরি করেছে রঙিন রংধনু। শত শত আছে এমন। হরেক রকমের রং, যেন পিছু ধাওয়া করল মিরেজের। এর অনেক উপরে অসহ্য রকমের নীল হয়ে আছে আকাশ। দ্রুত ধাবমান যুদ্ধপ্লেনের উপর চমকাচ্ছে সূর্যের আলো। এখানে টার্গেটের দেখা পাওয়া গেল না। তার মানে উপরে পর্বতের মেঘের ভাঁজে লুকিয়ে আছে। আবারো রাডার স্ক্রিনে তাকাল ডেভিড। স্ক্যান থেকে রাডার বের করে টার্গেটের উপর লক করল। আর যত এগিয়ে আসছে অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হচ্ছে সে।
তাদের সমান্তরালে উড়ছে টার্গেট প্লেন। স্টারবোর্ড সাইড থেকে বিশ মাইল সামনে। তাদের অনেক উপরে তাদের গতির অর্ধেকের খানিকটা বেশি, গতি নিয়ে উড়ে যাচ্ছে। টার্গেটের পেছন দিকে সূর্য। আক্রমণের হিসেব কষতে লাগল ডেভিড।
‘স্টারবোর্ডের দিকে ঘুরে যাচ্ছি।’ জোকে সতর্ক করে দিল ডেভিড। পাশাপাশি চলে এলো দু’জনে। রেঞ্জ আর বিয়ারিং বলে চলল জো। বোঝ গেল এটা হেলেদুলে পেট্রোলে বের হয়েছে। খোশমেজাজে টহলদারি করছে। ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে পেটের নিচে শিকারির অস্তিত্ব সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই তার।
টু, দিস ইজ লিডার। সার্কিটে অস্ত্র ভরে নাও।
রাডার স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই উইপন কনসেলের মাস্টার সুইচে চাপ দিল ডেভিড। চালু করল এয়ার টু-এয়ার সাইড উইন্ডার মিসাইল, প্রতিটি পাখার নিচে ঝুলে আছে এগুলো। আর সাথে সাথে ইয়ারফোন শুনতে পেল নরম স্বরে হিসহিস শব্দ শুরু হলো। এর মানে মিসাইলগুলো এখন সুবোধ বালক হয়ে আছে কোন রকম ইনফ্রারেড জাতীয় রশ্মির দেখা পায়নি এখনো। পাবার সাথে সাথে শব্দ বেড়ে যাবে, গরগর করতে করতে ঘুরতে শুরু করবে। শিকারি কুকুরের মতো লম্ফঝম্ফ শুরু করে দেবে। ভলিউম কমিয়ে দিল ডেভিড, যেন তার নিজের কান ঝালাপালা হবার হাত থেকে বেঁচে যায়।
এরপর কামানের সুইচ সিলেক্ট করল ডেভিড। ঠিক তার সিটের নিচে রাখা জোড়া ৩০ এমএম অস্ত্রকে নিজ নিজ পড়ে প্রস্তুত করে রাখল। জয়স্টিকের মাথায় রাখা ট্রিগার আগে বাড়লো। আঙুল দিয়ে স্পর্শ করল ডেভিড।
‘টু, দিস ইজ লিডার। আমি সামনে বাড়ছি। এটা জোর জন্য সতর্কতা। এর মানে হলো জো যেন তার পুরো মনোসংযোগ রাডার স্ক্রিনে ঢেলে দেয় আর ডেভিডকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করে।
টার্গেট এখন দশটার ঘরে। রেঞ্জ ২-৭ নটিক্যাল মাইল।
সতর্কতার সাথে তল্লাশি শুরু করল ডেভিড। চারপাশে খোঁজা শেষ করে পৃথিবী পৃষ্ঠের কোন উঁচু মাথা অথবা মেঝের ভেতরেও নাক ঢুকিয়ে দিল। যেন শিকারি নিজেই না আবার শিকার বনে যায়।
এরপরই দেখতে পেল তাদের। হঠাৎ করেই অনেক উপরে মেঝের মাঝ থেকে বের হয়ে এলো পাঁচটি প্লেন। আর সাথে সাথে নিজ পরিপাটি চাদরের মতো সমান্তরাল হয়ে গেল। তখনি আবার রেঞ্জ জানিয়ে দিল জো।
