‘ওর চুল’, জানতে চাইল ডেবরা।
‘হ্যাঁ, আমার তাই মনে হয়েছে। নরম, ঘন আর গাঢ় রঙের। কানের পাশে বেশি। পিছনে কোকড়া।
মাথা নেড়ে হাসল ডেবরা। ভাল লাগল শুনে যে ও চুল কাটেনি। দু’জনেই আবার চুপচাপ হয়ে গেল। তারপর প্রায় ফিসফিস করে বলে উঠল ডেবরা, কী বলেছে ও? কী চায়?
‘তোমাকে একটা মেসেজ দিয়েছে।
‘কী?
পুরোপুরি ডেভিডের ভাষায় হুবহু বলে গেল ইলা। শেষ করার পর নিজের ডেস্কের সামনের দেয়ালের দিকে ঘুরে তাকাল ডেবরা।
‘প্লিজ এখন যাও, ইলা। আমি একটু একা থাকতে চাই।’
ও আমাকে বলেছে তোমার উত্তর জানাতে। আমি ওর কাছে প্রমিজ করেছি যে আগামীকাল সকালে ওকে ফোন করব।’
‘আমি পরে যাবো তোমার কাছে কিন্তু এখন আমাকে একটু একা থাকতে দাও প্লিজ। ইলা দেখল উজ্জ্বল অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পড়ল ডেবরার বাদামী গালের উপর।
চলমান পাহাড়ের মতো উঠে দাঁড়াল ইলা। চলে গেল দরজার কাছে। পেছনে শুনতে পেল কান্নার শব্দ, কিন্তু তাকাল না সে। পাথরের জেটি পার হয়ে ছাদে উঠে গেল। নিজের ক্যানভাসের সামনে বসে হাতে তুলে নিল ব্রাশ। শুরু করল ছবি আঁকা। বড় বড় আঁচড়ে ফুটে উঠল রাগ আর নিষ্ঠুরতা।
নিজের প্রেশার স্যুটের ভেতর ঘেমে নেয়ে উঠল ডেভিড। উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করছে টেলিফোনের পাশে। কু-রুমের দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির প্রতিটি কাটা অনুসরণ করছে চোখ দিয়ে।
দশটার দিকে সে আর জো চলে যাবে রেড স্ট্যান্ডবাই হিসেবে হাই অলটিচড়ে হাতে মাত্র সাত মিনিট সময় আছে আর। এখনো ফোন করেনি ইলা।
হতাশায় ছেয়ে গেল ডেভিডের মন। বুকের মাঝে জমে উঠল রাগ আর ক্ষোভ। ইলা প্রতিজ্ঞা করেছিল দশটার আগেই ফোন করবে।
কাম অন, ডেভি। দরজার কাছ থেকে ডেকে উঠল জো। ভারী মন নিয়ে উঠে দাঁড়াল ডেভিড। জোর পিছন পিছন চলল ইলেকট্রিক ক্যারিয়ারের দিকে। জোর পাশের আসনে উঠে বসতেই শুনতে পেল কু-রুমের ফোন বেজে উঠল।
‘দাঁড়াও।’ ড্রাইভারকে থামিয়ে দিল ডেভিড। দেখতে পেল রবার্ট ফোন তুলে কথা বলছে আর কাঁচের প্যানেলের মাঝ দিয়ে হাত নেড়ে ওকে ডাকছে।
‘তোমার ফোন ডেভি। দৌড়ে কু-রুমে গেল ডেভিড।
‘আমি দুঃখিত, ডেভিড। বহুদূর থেকে যেন ভেসে এলো ইলার কণ্ঠস্বর।
‘আমি অনেকক্ষণ থেকে চেষ্টা করছি। কিন্তু এখানকার এক্সচেঞ্জ
“ঠিক আছে, ঠিক আছে। ইলাকে থামিয়ে দিল ডেভিড। এখনো রেগে আছে সে।
কথা বলেছিলে ওর সাথে?
‘হ্যাঁ ডেভিড। বলেছি। তোমার মেসেজ দিয়েছি ওকে।
কী উত্তর দিয়েছে ও?’ তাড়াতাড়ি জানতে চাইলো ডেভিড।
‘কোন উত্তরই দেয়নি।
‘এসব কী ইলা! নিশ্চয় বলেছে কিছু একটা।
‘ও বলেছে’ দ্বিধায় ভুগছে ইলা,
–আর এগুলোই ওর শব্দ–”মৃত কেউ জীবিতের সাথে কথা বলতে পারে না। ডেভিডের জন্য আমি এক বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেছি।”
দুই হাত দিয়ে রিসিভার আঁকড়ে ধরল ডেভিড। তারপরও কাঁপতে লাগল। কিছুক্ষণ পরে আবারো কথা বলে উঠল ইলা।
‘তুমি এখনো লাইনে আছো?
হাঁ, ফিসফিস করে উত্তর দিল ডেভিড।’ ‘আমি আছি এখানে।
আবারো চুপ করে গেল দুজনে। অবশেষে কথা বলল ডেভিড।
‘তো তাহলে এটাই।
হ্যাঁ। আমার বলতে ভয় লাগছে যে এটুকুই সব, ডেভি।
দরজার ওপাশ থেকে কাঁচের ভিতর দিয়ে মাথায় টোকা দিল জো।
‘অ্যাই ডেভি। শেষ করো এবার। সময় হয়ে গেছে চলো।’
‘আমাকে যেতে হবে, ইলা। ধন্যবাদ, যা করেছে সব কিছুর জন্য।’
‘গুড বাই, ডেভিড। ফোন রেখে দেবার পরেও ইলার কণ্ঠের সহানুভূতির ভাষা কানে বাজতে লাগল ডেভিডের। মিরেজের বাঙ্কারে জোর পাশের সিটে বসে মনে পড়ল আগুনে ঘি পড়ল। ধা ধা করে মাথায় চড়ে গেল রাগ।
জীবনে প্রথমবারের মতো মিরেজের ককপিটে বসেও শান্তি পেল না সে। ফাঁদে আটকা পড়া জন্তুর মতো হাসফাস করতে লাগল। রাগের চোটে ঘামতে লাগল দরদর করে। আর প্রতিটি পনের মিনিটের প্রস্তুতিপর্ব মনে পড়ল ঘণ্টার চেয়েও দীর্ঘ।
নিচে গ্রাউন্ড ক্রুরা খেলা করছিল। ডেভিড দেখতে পেল তারা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে, মজা করছে। তদের খুশি দেখে রাগে মনে হলো অন্ধ হয়ে যাবে ডেভিড।
‘মাথা মোটা গর্দভের দল! মাইক্রোফোনে চিৎকার করে উঠল ডেভিড। মাথার উপরে থাকা লাউড স্পিকারে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল শব্দগুলো। ল্যান্স স্কোয়াড্রনের চীফ ইঞ্জিনিয়ার তাড়াহুড়ো করে ককপিটে তার পাশে উঠে তাকিয়ে রইল। আমার স্ক্রিনে ধুলা পড়েছে। হাত দিয়ে ইশারা করল ডেভিড। ‘তুমি কেমন করে ভাবলে যে তোমার ব্রেকফাস্টের নোংরা লেগে আছে এমন একটা স্ক্রিন নিয়ে আমি মিগ চালাব।’
ডেভিডের এহেন আচরণের কারণ ছোট্ট একটু কার্বন কণা যেটা ক্যানোপির চকচকে ভাবকে খানিকটা ধোঁয়াশা করেছে। চীফ ইঞ্জিনিয়ার তাবি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পরিষ্কার করল সবকিছু।
কিন্তু ডেভিড়ের মতো টপ বয়ের পক্ষে ব্যাপারটা বেশ অশোভন হয়ে গেল। হাঁ হয়ে গেল সবাই। যাই হোক, রেড স্ট্যান্ডবাইয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে জানে সবাই। তাই এর পাইলটদের নার্ভ সম্পর্কেও সচেতন সবাই।
“ঠিক আছে।’ ডেভিড বুঝতে পারল খানিকটা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে সে। নিচে নেমে যাবার আগে হাসল তাবি।
ঠিক সেই মুহূর্তে ইয়ারফোনে ক্লিক শব্দের সাথে সাথে শোনা গেল ব্রিগের কণ্ঠ। “রেড” স্ট্যান্ডবাই, যাও! গো!
পুরোপুরি মনোযোগ ঢেলে দিয়ে উত্তর দিল ডেভিড, হ্যালো, মরুর ফুল, ব্রাইট ল্যান্স, এয়ারবরণ অ্যান্ড ক্লাইম্বিং।
