‘হ্যাঁ, একমত হলো ইলা। কিন্তু এতে সিদ্ধান্ত বদলায়নি। যে সিদ্ধান্তটা আমার মনে হয় ঠিক আছে।
‘আমার নিজের কথাই বর্ণনা করেছে সে, ইলা। যা কিছু আমি অনুভব করতাম এবং এখনো করি কিন্তু যা কখনো ভাষায় বলতে পারতাম না।’
‘এটা বেশ সুন্দর আর সত্যি। কিন্তু কেন বুঝতে পারছে না যে এতে ওর সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়েছে।
কিন্তু আমি ওকে ভালোবাসি। ইলা আর ও আমাকে। চিৎকার করে উঠল ডেভিড।
‘ও চায় এনভাবেই সব ঘটুক। ও চায় না সব শেষ হয়ে যাক। ও চায় না সব নষ্ট হয়ে যাক।আবারো কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল ডেভিড। কিন্তু শক্ত হাতে তাকে থামিয়ে দিল ইলা। ও জানে আর কখনোই তোমার সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে পারবে না। নিজের দিকে তাকাও ডেভিড, তুমি এখনো তরুণ আর প্রাণশক্তিতে ভরপুর ও তোমাকে পিছনে ধরে রাখবে আর কোন এক সময় বিরক্ত হয়ে উঠবে তুমি।
আবারো বাধা দিতে চাইল ডেভিড। কিন্তু বিশাল মুঠি দিয়ে হাত চেপে ধরল ইলা। তুমি শিকলে বাঁধা পড়ে যাবে, কখনো ছেড়ে যেতে পারবে না ওকে। ও অসহায়। তোমার সারা জীবনের বোজা হয়ে যাবে ও–চিন্তা করো ডেভিড।’
‘আমি ওকে চাই।’ জেদী স্বরে বিড়বিড় করে উঠল ডেভিড। ওর সাথে দেখা হবার আগে কিছুই ছিল না আমার জীবনে আর এখনো নেই।
‘আস্তে আস্তে বদলে যাবে সব। হতে পারে ও তোমাকে কিছু শিখিয়েছে। তরতাজা অনুভূতি তরুণ বয়সের মতোই হারিয়ে যায়। ও চায় তুমি খুশি হও, ডেভিড। ও তোমাকে এতটাই ভালোবাসে যে মুক্তিই তোমাকে উপহার দিয়েছে। ও তোমাকে এতটাই ভালোবাসে যে তোমার খাতিরে এটুকুও ছেড়ে দিতে রাজি সে।’
‘ওহ গড।’ গুঙ্গিয়ে উঠল ডেভিড। যদি একবার তাকে দেখতে পেতাম। ছুঁতে পেতাম কয়েক মিনিট কথা বলতে পারতাম।
বিশাল ধড় নাড়াতে লাগল ইলা। ঝনঝন করে উঠল সব গহনা।
‘ও এতে একমত হবে না কিছুতেই।
‘কেন ইলা আমাকে বল কেন?’ আবারো গলা চড়ালো ডেভিড।
‘ও ততটা শক্ত নয়। জানে যে তুমি কাছে গেলে ও ভেঙ্গে পড়বে আর দু’জনের জন্য আরো বড় কোন বিপর্যয় ডেকে আনবে।’
এরপর পাশাপাশি চুপচাপ বসে রইল দু’জনে। তাকিয়ে রইল লেকের দিকে। গোলান হাইটসের উপর দিয়ে উঠে গেছে মেঘের সারি, শীতের রোদ পড়ে আরো সাদা হয়ে ভাসছে। নীল আর ধূসরের ছায়া মেখে উড়ে আসছে লেকের উপরে। ছাদের ওপাশ থেকে একঝলক ঠাণ্ডা বাতাসে খানিকটা কেঁপে উঠল ডেভিড।
নিজের অবশিষ্ট বীয়ার শেষ করল সে। আস্তে আস্তে আঙুল দিয়ে হাতের মাঝে ঘুরাতে লাগল গ্লাস।
‘আমি যদি কোন মেসেজ দেই, ওকে পৌঁছে দেবে প্লিজ?
‘আমার মনে হয় না’
‘প্লিজ ইলা, শুধু এই মেসেজটা।
মাথা নাড়ল ইলা।
‘ওকে বলো ও বইতে যতটা লিখেছে ঠিক ততটাই ভালোবাসি আমি ওকে। ওকে বলো যে এর উপরে ওঠাটাই যথেষ্ট হয়েছে। ওকে বলল যে আমি অন্তত একবারের জন্য চেষ্টা করার সুযোগ চাই।
চুপচাপ ডেভিডের কথা শুনল ইলা। মনে হলো শব্দের সন্ধানে বাতাসে হাত বাড়ালো ডেভিড, যা বললে রাজি হবে ডেবরা।
‘ওকে বলে’ থেমে গিয়ে মাথা নাড়ল। না এতটুকুই হবে। শুধু বলল যে আমি ওকে ভালোবাসি আর ওর সাথেই থাকতে চাই।’
ঠিক আছে ডেভিড আমি বলব ওকে।
আর আমাকে জানাবে ওর উত্তর?
‘কোথায় পাবো তোমাকে?’ ক্রু রেডি রুমের নাম্বার ইলাকে দিল ডেভিড।
‘আমাকে তাড়াতাড়ি ফোন করবে ইলা। অপেক্ষায় রেখো না।
আগামীকাল। প্রতিজ্ঞা করল ইলা।
সকালবেলা।
দশটা বাজার আগে। দশটা বাজার আগেই জানিয়ো।’
উঠে দাঁড়াল ডেভিড। তারপর হঠাৎ করেই সামনে ঝুঁকে কোঁচকানো চামড়ায় গালে চুমু খেলো।
‘ধন্যবাদ।’ জানিয়ে দিল ডেভিড।
‘তুমি ততটা খারাপ পুরাতন কোন ব্যাগ নও।’
‘ধূর হও আমার সামনে থেকে। চারপাশ থেকে ওডেসি ধেয়ে আসছে তোমার দিকে। আস্তে করে নাক টানলো ইলা। আমার মনে হচ্ছে আমি কান্না করে দেবো। আমি একা রেখে এ মুহূর্ত টুকু উপভোগ করতে চাই।’
খেজুর আর তাল গাছের নিচে লন পার হয়ে ডেভিডকে চলে যেতে দেখল ইলা। দেয়ালের গেইটের কাছে গিয়ে থেমে ফিরে তাকাল ডেভিড। এক সেকেন্ডের জন্য একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থেকে বের হয়ে গেল ডেভিড।
সে শুনতে পেল মার্সিডিজের ইঞ্জিন গর্জে উঠে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল দূরে। এরপর হাইওয়েতে উঠতেই চলে গেল। দক্ষিণে ছুটে চলল তীরের মতো। ভারী মন নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ছাদ থেকে নামল ইলা। জেটির দিকে চলে যাবার জন্য নিচে নামল।
ঘাটে নোঙ্গর বাঁধা অবস্থায় দুলছে স্পিডবোট। এটাতে চড়ে ওপাশের সবচেয়ে বড় আর দূরের বোটহাউজে গিয়ে খোলা দরজায় দাঁড়াল ইলা।
ভেতরটা নতুন করে রঙ করে পুরো সাদা বানিয়ে ফেলা হয়েছে। আসবাবপত্রগুলোর সাধারণ আর সংখ্যায় কম। পাথরের মেঝেতে ঠাণ্ডা ভাব কাটানোর জন্য পাতা হয়েছে মাদুর। পুরোপুরি উল দিয়ে বোনা, মোটা আর ঘন। ফায়ারপ্লেসের পাশে পর্দা ঘেরা অংশে রাখা হয়েছে বিশাল বিছানা।
বিপরীত পাশের দেয়ালে একটা গ্যাস স্টোভ রাখা। ডাবল কুকিং রিং লাগানো। আমার বেশ কয়েকটা রান্নার পাত্র ঝোলানো আছে দেখা যাচ্ছে। ভেতরের দিকে একটি দরজা দিয়ে বাথরুমে যেতে হয়। মাত্র কয়েকদিন আগেই এগুলো বানিয়েছে ইলা।
মালিক স্ট্রিটের বাসা থেকে আনা একমাত্র আসবাব ইলা কাদেশের আঁকা ছবিটা সাদা দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দরজার দিকে মুখ করে। মনে হলো এতেই আলোকিত হয়ে উঠেছে সারা রুম। এর নিচে ওয়ার্কিং টেবিলে বসে আছে একটা মেয়ে। টেপ রেকর্ডার থেকে নিজের গলায় হিব্রুতে কিছু একটা শুনছে তন্ময় হয়ে। শূন্য অভিব্যক্তি নিয়ে পুরো মনোযোগ দিয়ে সামনের সাদা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছে।
