হ্যাঙ্গারে পৌঁছে লাফ দিয়ে নিচে নেমেই ছুটলো মিরেজের দিকে।
বিশ মিনিটের মাঝে আকাশে উঠে পড়ল সবাই। তড়িঘড়ি আদেশ পাঠাল মরুর ফুল, যেন ভূমধ্যসাগরে ইন্টারস্পেশনে অংশ নেয় তারা। একটা এল আল ক্যারাভেল থেকে মে ডে কল এসেছে। তার পিছু নিয়েছে। মিশরীয় মিগ ২১ জে।
মিরেজ বহর আসতে দেখে পিছু হটে উপকূলের দিকে চলে গেল মিশরীয় মিগ। এয়ারলাইনারকে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলল মিরেজ বহর। বেসে ফিরে আসার আগে পাহারা দিয়ে লডে পৌঁছে দিয়ে এলো।
জি স্যুট আর ওভারঅল পরা অবস্থাতেই লে ডফিনের অফিসের সামনে থামলো ডেভিড। জোগাড় করে নিল চব্বিশ ঘণ্টার পাশ।
বন্ধ হবার মাত্র দশ মিনিট আগে পৌঁছালো জাফো রোডের একটা বুক স্টোরে।
দোকানের মাঝখানের টেবিলে পিরামিড আকৃতিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে আ প্লেস অব আওয়ার ওয়ন।
‘অসাধারণ একটা বই। প্যাকেটে ভরতে গিয়ে জানাল সেলসগার্ল।
.
গোল্ডস্টার খুলে জুতা ছুঁড়ে ফেলে বিছানার লেইস কাভারের উপর টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল ডেভিড।
শুরু করল পড়া। শুধুমাত্র একবার বিরতি দিয়ে মাথার উপরের বাতি জ্বালিয়ে আরেকটা বিয়ার নিয়ে এলো। বইটা বেশ মোটাসোটা। ধীরে ধীরে পড়তে লাগল ডেভিড- প্রতিটি শব্দ আলাদা করে, মাঝে মাঝে একই অংশ দু’বার পড়ল।
এটা তাদের দুজনের কাহিনী। ডেবরা আর তার। শুরু হয়েছে। কোস্টাব্রাভার দ্বীপ থেকে। চমৎকার ভাবে উঠে এসেছে এ ভূমি আর মানুষের কথা। দ্বিতীয় সারির অনেক চরিত্রকে চিনতে পারল ডেভিড। জোরে জোরে প্রাণ খুলে হাসল মজার আর আনন্দের অংশগুলোতে। সব শেষে দুঃখের ভারে মনে হলো গলার স্বর রুদ্ধ হয়ে এলো। গল্পের মেয়েটা মারা যাচ্ছে হাদ্দাসা হাসপাতালে। সন্ত্রাসীদের বোমার আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে তার অর্ধেক চেহারা। মেয়েটা চায় না ছেলেটা তার কাছে আসুক। শুধু চায় জীবিত অবস্থায় সে যেমন ছিল তেমন স্মৃতিই থাকুক ছেলেটার মনের মাঝে।
ভোর হয়ে এসেছে। কোথা দিয়ে রাত কেটে গেল টেরই পেল না ডেভিড। উঠে দাঁড়াল বিছানা থেকে। ঘুম হয়নি তাই মাথা পুরোপুরি হালকা। বিস্মিত হয়ে ভাবল ডেবরা কত সুন্দরভাবে তুলে এনেছে সবকিছু। ডেভিডের ভেতরটা কত গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে সে। এত সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছে অনুভূতিগুলো যে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
গোসল করে, শেভ সেরে আটপৌরে পোশাক পরে নিল ডেভিড। এরপর আবার এলো বিছানার উপর বইটার কাছে। মোড়ক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার জন্য পাতা উল্টালো। যা ভেবেছিল তাই। প্রচ্ছদ ডিজাইনে ইলা কাঁদেশ।’
এত সকালবেলা রাস্তা পুরো খালি। খুব দ্রুত গাড়ি চালাতে লাগল ডেভিড। সূর্য মাত্র উঠি উঠি করছে। জেরিখো গিয়ে উত্তর দিকে ঘুরে সীমান্তের রাস্তায় চলতে লাগল গাড়ি। মনে পড়লো আগেরবার তার পাশে বসে ছিল ডেবরা।
মার্সিডিজের গায়ে বাতাসের ঝাপটা যেন বলতে লাগল তাড়াতাড়ি করো, তাড়াতাড়ি করো।’ টায়ারের ঘর্ষণ নিয়ে এলো লেকের উপর।
প্রাচীন ক্রুসেডার দেয়ালের পাশে গাড়ি পার্ক করল ডেডিভ। লেকের তীরে বাগানের মধ্য দিয়ে হাঁটা শুরু করল।
চওড়া বারান্দায় নিজের ইজেলের সামনে বসে আছে ইলা। মাথায় পরে আছে প্রায় একটা ওয়াগন হুইলের মতো বড় স্ট্র হ্যাট। প্লাস্টিকের চেরী আর অস্ট্রিচের পাখা গোজা তাতে। এত বড় ওভারঅল পরে আছে যে দেখাচ্ছে সার্কাসের তাঁবুর মতো। আর সবকিছুর উপরে পড়ে আছে শুকনো ছোপ ছোপ রঙ।
শান্তভাবে ব্রাশ থামিয়ে চোখ তুলে তাকাল ইলা।
‘জয় হো হো তরুণ দেবতা। অভিবাদন জানাল ইলা। ভালই হলো দেখা হয়ে, কিন্তু আমার ছোট্ট অঙ্গিনায় পদধূলির কারণটা বলবে?
‘থামো ইলা, তুমি ভালই জানো আমি কেন এসেছি।’
‘ভালোই বলেছো। বুঝতে পারল কথা এড়িয়ে যাচ্ছে ইলা। উজ্জ্বল চোখে পরিষ্কার ফুটে উঠল দুষ্টুমি। এত সুন্দর ঠোঁট জোড়াতে কঠোর কথা মানায় না। বীয়ার খাবে, ডেভি?
না আমি বীয়ার চাই না। আমি জানতে চাই ও কোথায়?
‘কার কথা বলছি আমরা?
‘কাম অন, আমি বইটা পড়েছি। কাভার দেখেছি। ধুত্তোরি তুমি জানো আমি কার কথা বলছি।
একটুক্ষণ চুপচাপ থেকে ডেভিডের দিকে তাকাল ইলা। আস্তে করে জানাল,
‘হ্যাঁ। আমি জানি। একমত হলো ইলা।
‘আমাকে বলো কোথায় আছে ও?
‘এটা আমি করতে পারব না ডেভি। তুমি আর আমি দু’জনেই প্রমিজ করেছি। হ্যাঁ আমি তোমারটা জানি।
ইলা দেখল কেমন স্থবির হয়ে পড়ল ডেভিড। উদ্ধত স্বভাবের সুন্দর তরুণ দেহ কেমন শীতল হয়ে ঝুলে পড়ল। সূর্যের আলোয় অনিশ্চিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইল ডেভিড।
‘বিয়ারের চিন্তাটা কেমন মনে হয়, ডেভি? ফুল থেকে নিজের পাহাড় প্রমাণ শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়াল ইলা। ছাদের দিকে গেল। ফিরে এসে লম্বা একটা গ্লাস ধরিয়ে দিল ডেভিডের হাতে। ছাদের শেষপ্রান্তে তেমন বাতাস নেই এরকম একটা জায়গায় একসাথে বসল দু’জনে। শীতের নরম রোদ এসে পড়ল গায়ে।
‘এক সপ্তাহ ধরে তোমার অপেক্ষা করছি আমি। বইটা প্রকাশিত হবার পর থেকে। আমি জানি দৌড়ে চলে আসবে তুমি-অসাধারণ হয়েছে। এমনকি আমি নিজেও অনেকদিন কেঁদেছি নষ্ট হয়ে যাওয়া কলের মতো। লজ্জিত স্বরে জানাল ইলা। তুমি নিশ্চয় ভাবতেও পারছে না যে এমনটা হতে পারে তাই না?
‘এটা আমাদের বই–ডেবরা আর আমার।’ জানাল ডেভিড। ও আমাদের কথা লিখেছে।
