ইন কারেমে জোকে নামিয়ে দিল ডেভিড। এরপর গাড়ি চালিয়ে পূর্ব জেরুজালেমের শপিং সেন্টারে এলো। নতুন সুপার মার্কেট মেলেখ জর্জ পঞ্চম এর সামনে পার্ক করে নামল সপ্তাহের বাজার করতে।
ফ্রিজারের ট্রের সামনে এসে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগল ল্যাম্ব কাটলেট নিবে নাস্টেক। তারপরই খেয়াল হলো যে তাকে কেউ দেখছে।
তাড়াতাড়ি ঘরে তাকাল ডেভিড। ঘন সোনালি চল ভর্তি মাখা নিয়ে মর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে এক নারী। দূরের একটা তাকের কাছে দাঁড়িয়ে আছে সে। বোঝা গেল চুল রঙ করা হয়েছে। কেননা গোড়ার দিকে কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে। ডেভিডের থেকে নিঃসন্দেহে বড় হবে মহিলা। কোমর আর শরীরের উপরিভাগ বেশ স্ফীত। চোখের কোনে হালকা বলিরেখা। একদষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডেভিডের দিকে। এতই নগ্ন আগ্রহ চোখে যে হঠাৎ করে ডেভিডের নিজের নিঃশ্বাস হয়ে উঠল গরম। ঘুরে আবারো ফ্রিজারে মনোযোগ দিল ডেভিড। নিজের ওপরেই রেগে গেল আর অপরাধবোধ হলো মনে। অনেক অনেক দিন পর শরীরী আগ্রহ বোধ করল সে। ভেবেছিল আর কখনোই হবে না এমনটা। চাইল হাতের স্টেকের প্যাকেটকে ফ্রিজে ছুঁড়ে ফেলে চলে যেতে। কিন্তু পেটের মাঝে গুড়গুড় বোধ করছে। মনে হলো শিকড় গজিয়ে গেছে। তার। বুঝতে পারল তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মহিলা। নিজের হাতে মনে হলো নারী উপস্থিতির ছ্যাকা লাগল। নিঃশ্বাসে নারীসুলভ গন্ধ পেল
‘স্টেক’ই ভালো।’ মন্তব্য করে উঠল অচেনা নারী। হালকা মিষ্টি স্বরে ভেসে এলো কথাগুলো। চোখ দুটো সবুজ। দাঁতগুলো খানিকটা এলোমেলো হলেও সাদা। যতটা ভেবেছিল দেখা গেল বয়স তার চেয়েও বেশি। প্রায় চল্লিশ। সামনের দিকে অনেকটা উন্মুক্ত পোশাক।
মাঝে মাঝে মাশরুম রসুন আর লাল ওয়াইন দিয়ে রান্না করে দেখতে পারেন, ভাল লাগে।’
তাই?’ ফ্যাসফ্যাসে গলায় জানতে চাইলো ডেভিড।
হ্যাঁ। হেসে মাথা নাড়ল মহিলা ‘কে রান্না করবে? মা? স্ত্রী?
না। আমিই রান্না করব। একা থাকি আমি।’ জানিয়ে দিল ডেভিড। হেলে ডেভিডের খানিকটা কাছে এলো মহিলা।
মাথা ঘুরতে লাগল ডেভিডের। সুপারমার্কেটে আসার সময় ব্রান্ডি খেয়ে এসেছিল। সাথে খানিকটা আদা মিশিয়ে নিয়েছিল। খুব দ্রুত শেষ করেছে পুরো বোতল। বাথরুমে দৌড়ে গিয়ে বেসিনের উপর উগরে দিল সব। মনে হলো চারপাশের ঘরবাড়ি দুলছে চোখের সামনে। বেসিনের কোণা ধরে সামলালো নিজেকে।
মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিল। পানির কণা ঝেড়ে ফেলে বেসিনে লাগানো আয়নায় নিজের চেহারা দেখে হাসতে লাগল বোকার মতো। চুলগুলো ভিজে গেছে। এসে পড়েছে কপালের উপর। এক চোখ বন্ধ করতেই মনে হলো আয়নায় থাকা চেহারা ভেংচি মারছে তাকে।
হাই দেয়ার, বয়। বিড়বিড় করে তোয়ালের জন্য হাত বাড়ালো। দেখল পানি পড়ে টিউনিক ভিজে গেছে। বিরক্ত হলো মনে মনে। টয়লেট সিটের উপর ছুঁড়ে ফেলল তোয়ালে। ফিরে এলো লিভিং রুমে।
নেই নারী দেহ। চামড়ার কাউচে এখনো খানিকটা অংশ ডেবে আছে মহিলার ভারে। জলপাই কাঠের টেবিলে পড়ে আছে নোংরা কাপ প্লেট। সিগারেটের ধোঁয়া আর মহিলার সুগন্ধিতে আচ্ছন্ন রুমের বাতাস।
‘কোথায় তুমি?’ তাড়াতাড়ি দরজার কাছে গিয়ে চিৎকার করে উঠল ডেভিড।
‘এখানে বিগ বয়। বেডরুমে এলো ডেভিড। বিছানার উপর শুয়ে আমন্ত্রণ জানাল মহিলা।
‘কাম অন, ডেভি। ড্রেসিং টেবিলের উপর পড়ে আছে মহিলার কাপড়।
লেস কাভারের উপর শুয়ে আছে মহিলা যা কিনা ডেবরার-রাগে উন্মুক্ত হয়ে উঠল ডেভিড।
‘ওঠো। কাটা কাটা স্বরে বলে উঠল ডেভিড।
‘ওঠো এই বিছানা থেকে। ডেভিডের শক্ত ভাব টের পেয়ে সতর্ক ভঙ্গিতে উঠে বসল মহিলা।
কী হয়েছে ডেভি?’
চলে যাও এখান থেকে। খেপে উঠল ডেভিড। যাও এখান থেকে বেশ্যা কোথাকার।’ কাঁপতে লাগল ডেভিড। চেহারা হয়ে উঠল বিবর্ণ, চোখ ভয়ঙ্কর নীল।
আতঙ্কিত হয়ে তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে এলো মহিলা। চলে যাবার পর আবারো বাথরুমে ছুটে গিয়ে টয়লেট বোলে বমি করে দিল ডেভিড। এরপর বাসার সবকিছু পরিষ্কার করল। ধুয়ে ফেলল বাসন কোসন। চকচক না করা পর্যন্ত ঘষতে লাগল গ্লাসগুলো। অ্যাশট্রে পরিষ্কার করে জানালা খুলে তাড়িয়ে দিল সিগারেট আর পারফিউমের গন্ধ। এরপর সবশেষে বেডরুমে ঢুকে চাদর পাল্টে নতুন করে গোছালো বিছানা। লেস কাভারকে টানটান করে পেতে দিল আবারো।
পরিষ্কার টিউনিক আর ইউনিফর্মের টুপি পরে নিল। গাড়ি চালিয়ে গেল জাফা গেইট। বাইরের লটে গাড়ি পার্ক করে হেঁটে ঢুকলো পুরাতন শহরে। ইহুদি কোয়ার্টারের প্রার্থনা মন্দির বানানো হয়েছে নতুন করে।
উঁচু গম্বুজওয়ালা হলরুম হয়ে আছে শান্ত আর নিস্তব্ধ। শক্ত কাঠের বেঞ্চে বহুক্ষণ বসে রইল ডেভিড।
৪. ডেভিডের বিপরীত প্রান্তে
ডেভিডের বিপরীত প্রান্তে তাকিয়ে রইল জো। আরও তিন চারজন পাইলট নিজেদের চেয়ার টেনে এনে টেবিলের পাশে বসে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। ডেভিড আর জোর মাঝে দাবা খেলা প্রায় পৌরাণিক কাহিনীর সমতুল্য। হয়ে গেছে অন্যদের কাছে। সবাই তাই বেশ আগ্রহ নিয়েই তাকিয়ে আছে।
প্রায় আধডজন চাল দিয়ে জোর রুককে আটকে ফেলেছে ডেভিড। আর দু’বার চাল দিলেই ভেঙে যাবে রাজার প্রতিরক্ষাব্যুহ। তৃতীয় চালে নির্ঘাৎ পরাজয়। হাসতে লাগল ডেভিড। সিদ্ধান্ত নিয়ে নাইটকে বের করে আনল জো।
