‘কোন ফিল্ম শো দেখতে চাই না!’
হ্যাঁ। কর্নেল বলে উঠল, ‘আরো একটা ফিল্ম শো। এরপর পর্দায় ভেসে ওঠা ছবির সাথে সাথে বলে চলল কর্নেল, এটা একটা সামরিক গোয়েন্দা চলচ্চিত্র। বিষয়, নতুন গ্রাউন্ড-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম। যেটা আরব ইউনিয়নের সেনাবাহিনীকে দিয়েছে সোভিয়েট ইউনিয়ন। এই সিস্টেমের কোড নেম সার্পেন্ট। এটি বর্তমান স্যাম থ্রি’ সিস্টেমের উন্নত সংস্করণ। যতটুকু আমরা জানতে পেরেছি তাতে দেখা গেছে যে সিরিয়ান প্রতিরক্ষা ব্যুহতে ব্যবহার হচ্ছে এটি। এছাড়া মিশরীয়রাও ব্যবহার করছে। পরিচালনা করছে রাশান প্রশিক্ষক দল। কর্নেল যখন কথা বলে চলল তখন নিজের চেয়ারে বসে সবার মুখের দিকে তাকাল ব্রিগ। পর্দার রূপালি আলোয় পড়তে চাইল তাদের ভাষা। সবাইকে বেশ মনোযোগী মনে হলো। তন্ময় হয়ে প্রথমবারের মতো দেখতে পাওয়া নতুন অস্ত্রের দিকে তাকিয়ে আছে যা কিনা হতে পারে ওদের মৃত্যুর কারণ।
‘একটি নির্দিষ্ট বাহন থেকে ছোঁড়া হবে মিসাইল। এখানে আকাশ থেকে ভোলা মোবাইল কলামের ছবি দেখতে পাচ্ছো তোমরা। খেয়াল করে দেখো প্রতিটি বাহনে এক জোড়া করে মিসাইল আছে। তাই বুঝতেই পারছো কতবড় হুমকি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে’।
ডেভিড মরগ্যানের সুদর্শন চেহারায় চোখে পড়ল। ব্রিগ দেখতে পেল সামনের দিকে ঝুঁকে পর্দার দিকে তাকিয়ে আছে ডেভিড। সহানুভূতি আর দুঃখবোধ জেগে উঠল ছেলেটার জন্য–এর মাধ্যমে নতুন করে শ্রদ্ধা পাবার যোগ্য হলো ছেলেটা, প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রমাণ করে চলেছে ডেভিড।
সার্পেন্টের উন্নত নকশা সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু জানা যায়নি। কিন্তু বিশ্বাস করা হচ্ছে যে অসম্ভব দ্রুত গতি সম্পন্ন এই মিসাইল সম্ভবত মাক ২.৫ গতিতে ছুটতে পারে। আর গাইডিং সিস্টেমে ইনফ্রা রেড হিট সীকার আর কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রাডার কন্ট্রোল উভয় ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে।
সুদর্শন তরুণের চেহারাটা দেখে ব্রিগ ভাবতে লাগল ডেবরা ভুল করেনি তো। হতেও তো পারে যে ডেভিড ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতো না, পরক্ষণেই মাথা নাড়ল বিগ। সিগারেটের জন্য পকেটে হাত ঢোকালো। ছেলেটা একেবারে তরুণ, জীবনের স্বাদ এখনো ঢের বাকি, সুদর্শন চেহারা আর দৌলতের দাপটে অনেকটাই বখে যাওয়া। ও কখনোই মেনে নিয়ে চলতে পারতো না। সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে ডেবরা। বেশিরভাগ সময় তাই করেছে মেয়েটা। ঠিক পথটাই বেছে নিয়েছে। ডেবরা কখনোই ডেভিডকে ধরে রাখতে পারতো না। মুক্তি দিয়ে ভালই করেছে।
‘ধারণা করা হচ্ছে যে ১৫০০ থেকে ৭৫০০০ ফুট উচ্চতাতে টার্গেট খতম করতে সক্ষম সার্পেন্ট।
নড়েচড়ে বসল শ্রোতারা। এতক্ষণে পুরোপুরি বুঝতে পারল কতটা হুমকি সৃষ্টি করতে সক্ষম এই সার্পেন্ট।
ওয়ারহেডের মাধ্যমে টনখানেক বিস্ফোরণ বহন করা সম্ভব। এছাড়া একটা ফিউজ আছে। যদি টার্গেট ১৫০ ফুটের নিচে দিয়ে পার হয় তাহলে গুলি ছুড়বে এই ফিউজ। এই রেঞ্জের মাঝে তাই ভয়ানক হয়ে উঠবে এই সার্পেন্ট।’
তখনো ব্রিগ তাকিয়ে রইলো ডেভিডের দিকে। রুথ আর সে অনেক মাস হয়ে গেল বাসায় আসতে দেখেনি ছেলেটাকে। ঘটনাটা ঘটার পরে মাত্র দু’বার জোর সাথে সাবাথ সন্ধ্যায় গিয়েছিল। কিন্তু বাসার পুরো পরিবেশ ছিল আড়ষ্ট। সবাই খুব সাবধান ছিল যেন ভুলেও ডেবরা নাম না ওঠে। দ্বিতীয়বারের পর আর কখনোই যায়নি ডেভিড। তাও প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল
‘এই স্টেজে “স্যাম থ্রি”-র মতোই কৌশল ব্যবহার করতে হবে।’
‘প্রার্থনা করো আর সবাইকে গুড লাক!’ ছোট্ট আর্তনাদ করে উঠল কেউ কেউ। হেসে উঠল বাকিরা।
‘–যতটা সম্ভব মিসাইলের দিকে ঘুরে যাওয়া, নিজের জেটে ব্লাস্টের রেডিয়েশন নজরে রাখা। সার্পেন্টকে বাধ্য করো উপরে গুলি ছুঁড়তে। যদি কখনো এমন হয় যে মিসাইল পিছু ছাড়ছে না তাহলে সরাসরি সূর্যের দিকে ঘুরে যাবে। মিসাইল তখন সূর্যের রেডিয়েশনকে টার্গেট করবে।’
আর যদি এটা কাজ না করে?’ জিজ্ঞেস করে উঠল একটা কণ্ঠ। আরেকজন উত্তর দিল হালকা চালে, ‘নিচের বাক্যটা বলতে থাকবে বারবার : “শোন ও ইস্রায়েল, প্রভু আমাদের ঈশ্বর, প্রভু মাত্র একজনই।” পুরাতন রসিকতা শুনেও এবার কেউ আর হাসল না।
ব্রিফিং রুম থেকে বের হবার সময় ডেভিডের কাছে এলো ব্রিগ।
‘আমরা তোমাকে আবার কখন দেখতে পাবো ডেভিড? অনেক দিন হয়ে গেল।’
‘আমি দুঃখিত স্যার। আশা করি জো জানিয়েছে আমার অপারগতার কথা।’
‘হ্যাঁ। কিন্তু জোর সাথে আজকেই আসো না কেন? ঈশ্বর জানে, খাবারে কমতি হবে না।
‘আজ রাতে আমার একটু ব্যস্ততা আছে স্যার।’ কৃতজ্ঞচিত্তে পাশ কাটলো ডেভিড।
‘বুঝতে পেরেছি।’ ও সি’র অফিসে যাবার সময় আবারো বলে উঠল ব্রিগ, ‘মনে রাখবে তোমার জন্য দরজা সবসময় ভোলা আছে।
‘স্যার!’ ব্রিগকে ডেকে উঠল ডেভিড। দ্রুত, অপরাধীর ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, ‘ও কেমন আছে স্যার? তারপর আবারী, ডেবরা কেমন আছে? ওর সাথে দেখা হয়েছে আপনার–মানে এর মাঝে?
‘ও ভালো আছে।’ ভারী স্বরে উত্তর দিল ব্রিগ। যতটা ভালো থাকা সম্ভব।’
‘ওকে বলবেন যে আমি জানতে চেয়েছি?
না।’ গাঢ় নীল চোখের আকুতি অগ্রাহ্য করে উত্তর দিল ব্রিগ। না, তুমি জানো আমি এটা করতে পারব না।’
মাথা নেড়ে ঘুরে চলে গেল ডেভিড। এক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে নিঃশ্বাস ফেলে কর্নেলের রুমে ঢুকে গেল ব্রিগ।
