ট্রিগারে চাপ দিল ডেভিড। কামানের গোলার সাথে সাথে বিস্ফোরিত হলো স্পাই প্লেন। একটা পাখা পুরোপুরি ছিটকে গেল। বাকি কাঠামোটা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে লাগল স্বর্গপানে।
‘হ্যালো, মরুর ফুল, ব্রাইট ল্যান্সের লিডার বলছি। টার্গেট খতম। নিজের কণ্ঠস্বর সংযত করতে চাইল ডেভিড। কিন্তু দেখল হাত কাঁপছে। এতটাই ঘৃণা জমে আছে যে শত্রুর মৃত্যুতেও শীতলতা কাটছে না।
আবারও ফায়ার ওপেন করার বোতামে চাপ দিল সে। জো, এটা হান্নাহর জন্য। কিন্তু মাত্র এবারই আর কোন উত্তর এলো না। এরপর ক্যারিয়ার বীমের ঝনঝনানি শুনে নিজের হোমিং সিগন্যাল অ্যাকটিভেট করল সে। নিঃশব্দে অনুসরণ করে বেসে ফিরে চলল জো।
.
ডেবরার প্রভাবে খানিকটা ধাতস্থ আচরণ করতে শিখেছিল ডেভিড। কিন্তু ওর প্রস্থানে আবারো খ্যাপাটে স্বভাব ফিরে এলো ডেভিডের মাঝে। তাই বেসে না থাকলেও উইং ম্যানের দায়িত্ব পালন করতে হয় জোকে।
নিজেদের অবসরের বেশির ভাগ সময় একত্রেই কাটায় তারা। যদিও নিজেদের ক্ষতি নিয়ে কখনো কথা বলে না; তারপরেও এর মাধ্যমেই আরো কাছাকাছি পৌঁছে গেল ডেভিড আর জো।
প্রায়ই মালিক স্ট্রিটেই ঘুমিয়ে পড়ে জো। নিজের বাসা এর চেয়েও সুনসান, মৃত্যুপুরী। এই সংকটে বিগ বাসায় যাবার তেমন সময় পায় না। ডেবরাও চলে গেছে। তাই মাও নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ভারে হয়ে পড়েছে বয়সের চেয়েও বুড়ো আর অথর্ব। শরীরে বুলেটের ক্ষত বুজে গেছে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষতগুলো সারাবার কোন ঔষধ নেই।
ডেভিডের উন্মত্ততার একমাত্র দাওয়াই হলো সারাক্ষণ কাজ নিয়ে ভুলে থাকা। আকাশে থাকাকালীনই একমাত্র শান্তি খুঁজে পায় সে। মাটিতে নামলেই হয়ে ওঠে অস্থির। তার পাশে বিশাল চেহারার জো শান্ত হয়ে থাকে। হালকা হাসি আর সহজ কথা বলে কৌশলে সমস্যা থেকে দূরে রাখে ডেভিডকে।
স্পাই প্লেন বিস্ফোরণের ঘটনাতে সিরিয়া উস্কানিমূলক পন্থা অবলম্বন করল। হিসাব কষে ইস্রায়েলী আকাশ সীমানায় অনুপ্রবেশ করা, আইন অমান্য করতে লাগল। যখনি আবার আক্রমণের আশঙ্কা দেখতে লাগল, লেজ গুটিয়ে পালাতে লাগল নিজেদের সীমানায়।
দু’বার নিজের স্ক্যানিং রাডারে এহেন আচরণের সবুজ লুমিনাস আলো জুলতে দেখল ডেভিড। প্রতিবারই নিজের ভেতর বরফ শীতল রাগের কম্পন অনুভব করে অবাক হয়ে গেল আর ঘৃণা যা ভারী পাথরের মতো বোঝা হয়ে আছে তার বুকের উপর। তৎক্ষণাৎ জোকে নিয়ে আক্রমণে রওনা হয় ডেভিড। কিন্তু প্রতিবারই নিজেদের রাডারের মাধ্যমে সতর্ক হয়ে যায় সিরীয়রা। ঘুরে গিয়ে গতি বাড়িয়ে হাস্যকর ভাবে পালিয়ে যায়।
ব্রাইট ল্যান্স, মরুর ফুল বলছি। টার্গেট আক্রমণাত্মক নয়। আক্রমণের ধরণ পরিবর্তন করো।’ সিরিয়ান মিগ ২১ নিজেদের সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছিল। প্রতিবারই নিঃশব্দে উত্তর দিয়েছে ডেভিড, টু লিডার বলছি, আক্রমণ ত্যাগ করে স্ক্যান পুনরায় শুরু করো।
এই কৌশল করা হয়েছিল ডিফেন্ডারদের মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য। ইন্টারসেপটর স্কোয়াড্রনে টেনশন তাই মারাত্মক হয়ে উঠল। সহ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেল তারা। অল্পের জন্য রক্ষা পেল কয়েকটি ঘটনা। রক্ত গরম হয়ে উঠতে লাগল সকলের। অবশেষে উপর থেকে হস্তক্ষেপ এলো। কেননা মরুর ফুল চাইল নিজের ছেলেদেরকে বশে রাখতে। নিজের ক্রুদের সাথে কথা বলার জন্য পাঠানো হলো ব্রিগকে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ব্রিফিং রুমের ভিড়ের দিকে তাকিয়ে ব্রিগ বুঝতে পারল যে বাজপাখিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে চোখের উপর পট্টি বেঁধে পা ধরে রাখলেই ব্যাপারটা শেষ হয় না। কেননা মাথার উপর উড়ে বেড়াচ্ছে বুনোহাঁসের দল।
দার্শনিকের বেশ ধারণ করল ব্রিগ। তরুণ পাইলটদের কাছে থাকা নিজের সম্মানের সুবিধাটুকু নিতে চাইল।
‘যুদ্ধের উদ্দেশ্য শান্তি, যে কোন নেতার সবচেয়ে জরুরি যে রণকৌশল তা হলো শান্তি’ দর্শকদের মাঝ থেকে কোন সাড়া এলো না। নিজের পুত্রের কথা স্মরণ করল ব্রিগ। কেমন করে একজন প্রশিক্ষিত যোদ্ধার সামনে শান্তির কথা বলবে সে যে কিনা সদ্যই সমাহিত করে এসেছে নিজের নব পরিণীতা বধূকে? আবারো বলা শুরু করল ব্রিগ।
‘শুধুমাত্র একজন বোকাই শত্রুভূমিতে নিজেকে মৃত্যুর হাতে ছেড়ে দেবে। এবার সবার কাছাকাছি পৌঁছতে পারল ব্রিগ। আমি চাই না, তোমরা কেউ একজন এমন কিছু ঘটাও যার জন্য আমরা প্রস্তুত নই, আমি তাদেরকে কোন অযুহাত দিতে চাই না। তারা এটাই চায়’ সবাই মনোযোগী হয়ে উঠল। এমন কী একজনকে মাথা নেড়ে সম্মতিসূচক ভাবে বিড়বিড় করতেও দেখল বিগ।
যদি তোমরা কেউ বড়সড় কোন সমস্যা পেতে চাও তোমাদেরকে দামাস্কাসে যেতে হবে না, আমার বাসার ঠিকানা জানো সবাই। প্রথমবার হাসানোর চেষ্টা করল ব্রিগ আর পেরেও গেল। সবাই মুচকি মুচকি হাসতে লাগল। তো এটাই ঠিক হলো যে আমরা সমস্যা চাই না। আমরা এর উল্টো পথেই হাঁটতে চাই—কিন্তু নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরে নয়। সময় যখন আসবে, আমিই তোমাদেরকে বলব, কোন নরম স্বর হবে না সেটা সবাই গর্জন করে উঠল, চাপা গরগরের শব্দ পেল ব্রিগ, শেষ করল, কিন্তু তোমাদেরকে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
উঠে দাঁড়িয়ে মঞ্চে এলো লে ডফিন।
যাই হোক তোমাদের সবাইকে একসাথে পেয়ে আমি একটা খবর দিতে চাই। এতে হয়তো সীমান্তে ওপারে মিগ ধাওয়া করতে চাও এমন গরম মাথাগুলো ঠাণ্ডা হবে। ব্রিফিং রুমের শেষে থাকা প্রোজেকশন বক্স খুললো লে ডফিন। বাতি বন্ধ করে দেয়া হলো, পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল, কয়েকজন কাশতে লাগলো, অভিযোগের সুরে বলে উঠল কেউ একজন।
