ইস্রায়েলিরা অপেক্ষা করতে লাগল, শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে লাগল– কিন্তু আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ল যুদ্ধে।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ডেভিড আর জো উড়ে বেড়াতে লাগল। যেখানে যৌক্তিক চিন্তা আর কাজকর্মের উপর প্রধান হয়ে দাঁড়াল স্বভাবজাত পদক্ষেপ।
খুঁজে বের করা, চিনে নেয়া, কাছে যাওয়া, ধ্বংস করে দেয়া–এসব কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল সকলে যে দুঃখ-শোকে কাতর হবার সময়টুকু পর্যন্ত রইল না।
তারপরেও ক্ষোভ আর যাতনা, যা বয়ে বেড়াচ্ছে জো আর ডেভিড, মনে হলো চড়ে রইল তাদের ঘাড়ের উপর। প্রতিশোধের নেশায় মত্ত রইল দু’জনে।
শীঘ্রিই তারা দুজনে যোগ দিল সাবধানে বাছাই করা অর্ধ-ডজন স্ট্রাইক দলে। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করার জন্য তাদের ডেকে পাঠাল মরুর ফুল। বারংবার যুদ্ধের নির্দেশ এলো তাদের উপর। আর প্রতিবারই তাদের উপর হাই কমান্ডের বিশ্বাস হলো আরো পাকাঁপোক্ত।
নিজের ককপিটে বসে থাকে ডেভিড। পা থেকে মাথা পর্যন্ত গাড়ে জড়ানো ফুল-প্রেশার স্যুট। বন্ধ ফেইস-মাস্ক থেকে নিতে হয় অক্সিজেন। যদিও মিরেজ তখনো মাটির উপর দাঁড়িয়ে আছে। তার ককপিটের নিচে ফিউজিলাজের গায়ে চারটি কালো, লাল আর সাদা, ক্ষুদ্রাকৃতির গোলাকার চিহ্ন আঁকা রয়েছে। শত্রুর খুলি।
এর অর্থ মরুর ফুল ব্রাইট ল্যান্স ফ্লাইটকে বিশ্বাস করে উচ্চ আকাশে ‘রেড’ স্ট্যান্ডবাই’র দায়িত্ব অর্পণ করেছে। স্টার্টার লাইন প্লাগ-ইন করে তৈরি কমপ্রেসারে বাতাস ভরার জন্য আর বিশাল ইঞ্জিনকে জীবিত করে ভোলার জন্য। মোটরের চারপাশে জড়ো হয়েছে গ্রাউন্ড ক্রুরা। মাত্র সেকেন্ডের নোটিশেই উড়ে যাবার জন্য প্রস্তুত আছে মিরেজ বহর। ডেভিড আর জো উভয়েই প্রায় ষাট হাজার ফুট উপরেও সক্ষম থাকার মতো পোশাক পরে নিয়েছে। কেননা এতটুকু উচ্চতাতে যথাযথ প্রস্তুতি না থাকলে যে কোন মানুষের অংশে শ্যাম্পেনের মতো বুদবুদের নাচন শুরু হবে।
নিজের ছোট্ট ককপিটের মাঝে আটকে থেকে দিন-তারিখ-ঘণ্টার হিসেব করা ভুলে গেছে ডেভিড। শুধু মাত্র রেগুলার পনের মিনিট ব্রেক নিয়ে রুটিন চেক-আপ শেষ করে।
‘চেকিং ১১.১৫ আওয়ারসপনের মিনিটের বিরতি। মাইক্রোফোনে বলে উঠল ডেভিড। একই সাথে কানে ভেসে এলো জোর নিঃশ্বাসের শব্দ।
নিচে নামার সাথে সাথে যখন অন্য-ক্রু স্ট্যানড়বাইতে থাকা অবস্থায় অপেক্ষা করছিল, ডেভিড নিজের ট্রাক-স্যুট পরে দৌড়ে আসে পাঁচ থেকে ছয় মাইল। কেটে যায় শরীরের শক্তভাব। জড়তা ভাসিয়ে নেয় ঘাম। এরপরই শুনতে পায়–ইয়ারফোনে তীক্ষ্ণ চিৎকার আর কোন নতুন কণ্ঠস্বর,
‘রেড স্ট্যান্ডবাই—গো! গো!”
আদেশটি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারেও প্রতিধ্বনি তোলে। সাথে সাথে গ্রাউন্ড ক্রুরাও ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজে। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় প্রি-ফ্লাইট রুটিন চেক-আপ। স্টার্টিং পজিশনে থ্রটল ঠেলে দেয় ডেভিড। জেগে উঠে ইঞ্জিন। সর্বশক্তি দিয়ে শুরু হয় ছুটে চলা।
সামনে ওঠে যায় ব্লাস্ট ডোর। ব্রাইট ল্যান্স, টু। লিভার পাওয়ার টেক অফ করছে।’
‘টু কনফর্মিং। উত্তর দেয় জো। উভয়ে উঠে যায় আকাশে।
ব্রাইট ল্যান্স, ব্রিগ বলছি? ব্রিগের গলা শুনেও অবাক হয় না ডেভিড। তার মনেই হয়েছিল যে কমান্ডের দায়িত্বে নির্ঘাৎ বিগ থাকবে। পৃথক কণ্ঠস্বর আর ব্যক্তিগত নামের ব্যবহার শত্রুকে কোনরকম মিথ্যে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখবে।
‘ডেভিড, উচ্চ আকাশে অনুপ্রবেশকারীর অস্তিত্ব টের পেয়েছি আমরা। চার মিনিটের মাঝেই আমাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করবে। যদি বর্তমান কোর্স অক্ষুণ্ণ রাখে। পঁচাত্তর হাজার ফুট উপরে এটির অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে। তার মানে এটি একটি আমেরিকান ইউ টু। যদিও এটি হবার সম্ভাবনা বেশি তারপরেও রাশান স্পাই প্লেনও হতে পারে, যেটি আমাদের সাম্প্রতিক অস্ত্রের খোঁজে এসেছে।
“ঠিক আছে, স্যার। উত্তর দিল ডেভিড।
‘আমাদের আকাশ-সীমার বিরুদ্ধাচারণ করলেই স্টর্ম-ক্লাইম্ব করব আমরা।’
“ঠিক আছে, স্যার।
‘বিশ হাজার ফুট উপরে সমান্তরাল হয়ে যাও। ১৮৬ ডিগ্রি ঘুরে স্টর্ম ক্লাইম্বের জন্যে সর্বোচ্চ গতিতে উড়ে যাও।’
বিশ হাজার ফুট উপরে উঠে সোজা এগিয়ে যেতে লাগল ডেভিড। আয়নায় তাকিয়ে দেখল লেজের কাছে জোর মিরেজ। ব্রাইট ল্যান্স টু, লিডার বলছি। দৌড় লাগাও।’
টু কনফর্মিং।
নিজের লেজ জ্বালিয়ে নিল ডেভিড। থ্রটস খুলে সবোর্ড এয়ারবর্ন পজিশনে প্রস্তুত হলো। লাফ দিল মিরেজ। নাক খানিকটা নিচু করে গতি বাড়িয়ে নিল ডেভিড।
দ্রুত তাদের গতি বেড়ে হলো মাক ১.২, মাক ১.৫।
সবকিছুই আছে মিরেজে। শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ দুটি জিনিস মিসাইল আর উদ্বৃত্ত ফুয়েল ট্যাঙ্ক নেই। একমাত্র যে অস্ত্র বহন করছে তারা তা হলো দুটি ৩০ এম. এম. কামান।
হালকা ভাবে উড়ে গিয়ে পৌঁছে গেল বীরসেবা থেকে এইলাত পর্যন্ত। এ সময়ে একজন মানুষ হেঁটে হয়তো একটা ব্লক পার হতে পারবে বড়জোর। অবশেষে ১.৯ মাকে স্থির হলো তাদের গতি।
‘ডেভিড, ব্রিগ বলছি। তোমার গতিবিধি নজরে রাখছি আমরা। সঠিক কোর্স আর গতি ধরে এগোচ্ছো তুমি। ষোল সেকেন্ডের মাঝে ক্লাইম্ব করার জন্য প্রস্তুত হও।
“ঠিক আছে স্যার।
‘গণনা শুরু করছি, আট সাত, ছয় … দুই, এক। গোয় গোয়।
