তাড়াতাড়ি তার দিকে এগিয়ে গেল ডেভিড। পথিমধ্যে কে কী বলল কিছুই কানে গেল না তার। তাকিয়ে রইল ওয়েটার তিনজনের দিকে। দেখতে পেল ঘটনার শুরু করতে যাচ্ছে তারা।
এ ব্যাপারে বারংবার রিহার্সাল করে এসেছে তারা নিঃসন্দেহে। তিনজন ওয়েটার একসাথে হাসি-আনন্দে মত্ত অতিথিদের মাঝে টেবিলের উপর রাখল খাবারের থালা। খাবারের উপর থেকে প্লাস্টিক সরাতেই দেখা গেল কালো বস্তুগুলো।
বাদামী-চেহারার ওয়েটার পিস্তল বের করল প্লাস্টিকের নিচ থেকে। সাথে সাথে ঘুরে দু’জন প্যারাট্রুপারকে গুলি করল পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে। দেয়াল ঘেরা বাগানে অটোমেটিক পিস্তলের শব্দে কানে তালা লাগার জোগাড়। দু’জন প্রহরীর উপর বুলেট-বৃষ্টির ফলে মনে হলে কোন দানব প্রায় কেটে অর্ধেক করে ফেলল তাদেরকে।
ডেভিডের বাম পাশের ওয়েটারের চোখ দুটো উজ্জ্বল কালোজামের মতো। বানরমুখো লোকটা নিজের থালা থেকে পিস্তল তুলে নিল। গেইডের কাছে দাঁড়ানো প্যারাট্রুপারদের লক্ষ্য করে গুলি চালালো।
গার্ডদের উপর প্রথমে আক্রমণ চলল। হাতের মুঠোয় গর্জে উঠল পিস্তল। রাবারের মতো থপ করে শব্দ করে ছিটকে পড়ল শরীরের মাংস।
নিজের উজি বের করার চেষ্টা করল গার্ড। কিন্তু মুখে ঢুকে গেল গুলি। মাথা পিছনে হেলে গেল বুলেটের থাক্কায়। প্যারাট্রুপারের বেরেট পিস্তল গোত্তা খেলো আকাশে। হাত থেকে পড়ে গেল মেশিনগান। টাইলসের উপর দিয়ে। গড়িয়ে এলো ডেভিডের কাছে। নিচু হয়ে ঝাঁপ দিল ডেভিড। এরপর অতিথিদের দিকে পিস্তল তাক করল আরবীয় বন্দুকধারীরা। বুলেট-বৃষ্টি শুরু করল। বন্দুকের শব্দের সাথে মিশে গেল চিৎকার, চেঁচামেচি আর কান্না।
বাগানের অপর পাশে একটা সিকিউরিটি এজেন্ট পিস্তল তুলে নিল হাতে। দু’বার গুলি করল বানরমুখো ওয়েটারকে লক্ষ্য করে। দেয়ালের দিকে পিছু হটলো ওয়েটার। কিন্তু ভারসাম্য হারালো না। নিজের মেশিন পিস্তল দিয়ে গুলি করল এজেন্টের দিকে। গড়িয়ে পড়ে গেল সিকিউরিটি এজেন্ট।
বাগান জুড়ে ছোটাছুটি শুরু করল আতঙ্কিত অতিথিরা। গুলির মুখে চিৎকার করছে, পড়ে যাচ্ছে, মারা যাচ্ছে।
হান্নাহর বুকে লাগল দু’টো গুলি। ধাক্কা খেয়ে পিছনে থাকা টেবিলের গ্লাস আর বোতলের উপর পড়ে গেল সে। সাদা বিয়ের গাউন ভেসে যেতে লাগল উজ্জ্বল রক্তে।
নিজের পিস্তল খালি হয়ে যাওয়ায় সেটা ফেলে দিল মাঝখানের ওয়েটার। তাড়াতাড়ি তামার থালা থেকে দু’হাতে গ্রেনেড নিয়ে উঠে দাঁড়াল। ছুঁড়ে মারলো মানুষের ভিড়ে। জোড়া বিস্ফোরণের সাদা ধোয়ার সাথে তীক্ষ্ণ শার্প নেল ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে।
নারীদের তীব্র চিৎকার শোনা গেল চারপাশে আবারো নিচু হলো বন্দুকধারী। হাতে তুলে নিল আরো গ্রেনেড।
মাত্র সেকেন্ডের মাঝে ঘটে গেল এতকিছু।
দ্রুত গড়িয়ে গিয়ে উজি হাতে তুলে নিল ডেভিড। হাঁটু গেড়ে কোমরের কাছে ধরল মেশিনগান, প্যারাট্রুপারের ট্রেনিং থাকায় স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মতো কাজ শুরু করল সে।
আহত ওয়েটার দেখতে পেল তাকে। ডেভিডের দিকে ফিরে দুর্বলতা সত্ত্বেও ঘসটে-ঘসটে এগোতে লাগল দেয়ালের পাশ থেকে। একটা হাত পুরো গুঁড়ো হয়ে গেছে। কাঁধ থেকে রক্ত মাখা জ্যাকেটের মাঝে ঝুলছে। কিন্তু অন্যহাতে মেশিন পিস্তল তুলে নিয়ে তাক করল ডেভিডের দিকে।
প্রথমে গুলি করল ডেভিড। আরবীয়টার পেছনের দেয়ালের পাস্টার উঠে গেলে সঠিকভাবে গুলি করল সে। পেছনে ধাক্কা খেল দস্যটা। শরীর ঝাঁকি দিয়ে দেয়ালের সাথে লেগে আটকে রইল লোকটা। সাদা প্লাস্টারের উপর বইতে লাগল রক্তের ধারা।
রান্নাঘরের দরজার পাশে থাকা আরবীয়ের উপর বন্দুক তাক করল ডেভিড। লোকটা মাত্রই একটা গ্রেনেড ছোঁড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ডান হাত পেছনের দিকে, দুই হাতের মুঠিতে ধরা ভয়ঙ্কর লোহার বল। চিৎকার করে বলল কিছু একটা, চ্যালেঞ্জ অথবা যুদ্ধের ডাক, বিজয়ের চিৎকার যা আহতদের চিৎকার ছাপিয়েও শোনা গেল।
কিন্তু লোকটা গ্রেনেড ছোঁড়ার আগেই আক্রমণ করল ডেভিডের বন্দুক। ডজনখানেক বুলেট ঢুকে গেল লোকটার পেটে আর বুকে। পায়ের উপর গ্রেনেড দুটি ফেলে দিল আরবীয়টা। থপ করে বসে পড়ে শূন্যহাতে আটকাতে চাইল নিজের রক্তবন্যা।
গ্রেনেড গুলির ফিউজ শর্ট থাকায় প্রায় তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরিত হলো। মৃত্যু পথযাত্রী মানুষটার কোমরের নিচ থেকে নেই হয়ে গেল। একই বিস্ফোরণের ধাক্কায় ছাদের শেষপ্রান্তে থাকা দুবৃত্তটাও পড়ে গেল। দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল ডেভিড।
আর শেষ আরবীয়টা ইতিমধ্যেই মাথা আর বুকে গ্রেনেডের অংশের কারণে আহত হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বেঁচে আছে লোকটা। চেষ্টা করল পাশে নিজের রক্তের মাঝে পড়ে থাকা মেশিন পিস্তলটাকে তুলে নেবার।
ভয়ঙ্কর রেগে উঠল ডেভিড। পাগলের মতো চিৎকার করা শুরু করল সে। তাড়াতাড়ি সিঁড়ির মাথায় উঠে নিশানা করল আরবীয়ের দিকে।
আরব লোকটার হাতে মেশিন পিস্তল আর মাতালের মতোই হাত কাঁপছে তার। গুলি করল ডেভিড। একটা মাত্র বুলেট বের হয়েই খালি চেম্বার পড়ে গেল নিচে।
অন্যদিকে ছাদের উপরে রক্ত আর ঘামে চকচক করছে আরবীয়ের মুখ। চেতনা হারাবার আগে চেষ্টা করল মেশিন পিস্তলটাকে ঠিকভাবে নিশানা করার। দ্রুত মারা যাচ্ছে লোকটা। তারপরেও চেষ্টা করল শেষ শক্তিটুকু কাজে লাগাবার।
