বিয়ের জন্য বেস থেকে ছুটি নিয়েছে জো আর ডেভিড। এখন চারপাশ বেশ শান্ত আর লে ভফিনও কোন বাধা দিল না। কেননা অতিথি তালিকায় সেও আছে।
আগের দিন জেরুজালেমে পৌঁছে গেল তারা আর তৎক্ষণাৎ কাজে লেগে গেল। ট্যাক্সি-ড্রাইভার আর ট্রাকার হিসেবে পরিশ্রম করতে হলো ডেভিডকে। ফুল থেকে শুরু করে বাদ্যযন্ত্র, দূরের থেকে আসা আত্মীয়স্বজন সবাইকে বহন করল মার্সিডিজ।
ব্রিগের বাগান সাজানো হলো তালপাতা আর রঙিন ফেস্টুন দিয়ে। মাঝখানে রাখা হলো প্লাহ। নীল আর সোনালি রঙ দিয়ে তৈরি করা ধর্মীয় চিহ্ন, ডেভিডের তারকা, আঙুর, গম, তরমুজসহ উর্বরতার সমস্ত চিহ্ন বা প্রতীক। এই চাদোয়ার নিচে অনুষ্ঠিত হবে বিয়ের অনুষ্ঠান। জলপাই গাছের নিচে লম্বা টেবিলে সাজানো রয়েছে ফুলের বোল আর ফল দিয়ে বানানো খাবার। তিনশ অতিথির আসন পাতা হয়েছে। এছাড়াও নাচের জন্য রাখা হয়েছে খোলা জায়গা। বাদক দলের জন্যও উঁচু কাঠের স্ট্যান্ডের গায়ে পতাকা লাগানো হয়েছে।
পেশাদার খামার থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সতর্কতার সাথে মেন্য ঠিক করেছে রাঁধুনী আর নারীরা। প্রধান পদ দুটি বিশাল স্টাফ করা টুনা, উর্বরতার চিহ্ন আর পিতলের থালার উপর সাজানো বেদুইন ধাঁচে রান্না করা ভেড়ার মাংস।
বিয়ের রবিবারে ডেভিড ডেবরাকে নিয়ে গেল হাদাসা হাসপাতালের প্রধান শল্যবিদের বাসায়। হানা তার একজন থিয়েটারের বোন আর ভদ্রলোকের ইচ্ছে হান্নাহ বিয়ের পোশাক পরা থেকে প্রস্তুত হওয়া সবই করবে তার বাসায়। ডেবরা হান্নাহকে সাহায্য করবে। ডেভিড তাকে রেখে ইন কারেমে ফিরে গেল। বাসায় যাবার রাস্তা ইতিমধ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পাহারায় আছে সিক্রেট সার্ভিসের দল আর প্যারাট্রুপার।
জোর বিছানায় আধশোয়া হয়ে ডেভিড দেখতে লাগল কেমন করে কাপড় পরছে জো। এদিকে আবার আংটি হারিয়ে ফেলেছে, খুঁজেও পেয়েছে সাথে সাথে। অন্যদিকে নার্ভাস হয়ে ঘামতে ঘামতে শেষ। সুযোগ পেয়ে নানান আজেবাজে উপদেশ দিতে লাগল ডেভিড। নিচের বাগানে জড়ো হওয়া অতিথিদের কোলাহল শোনা যাচ্ছে। উঠে দাঁড়িয়ে জানালার কাছে গেল ডেভিড। দেখতে পেল মূল ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে সতর্কতার সাথে তল্লাশি চালাচ্ছে একজন এয়ারফোর্স কর্নেল, যদিও পুরোপুরি ভাবে সারা হচ্ছে কাজগুলো।
তারা বেশ তৎপর।’ মন্তব্য করল ডেভিড।
হান্নাহ বলেছে বাগানে যতটা সম্ভব কম পাহারা রাখতে। তাই কে ঢুকছে এ ব্যাপারে বেশ সতর্ক তারা। অবশেষে সাজগোজ শেষ করল জো। কিন্তু ইতিমধ্যে ইউনিফর্মের বগলের নিচে ঘামের দাগ ফুটে উঠেছে।
কেমন দেখাচ্ছে আমাকে?’ উদ্বিগ্ন স্বরে জানতে চাইল জো।
‘গড, যথেষ্ট হ্যান্ডসাম তুমি।’ জানিয়ে দিল ডেভিড।
‘গোল্লায় যাও তুমি, মরগ্যান। জো হেসে ফেলল। মাথায় টুপি বসিয়ে নিল ঠিকঠাকভাবে। ঘড়ির দিকে তাকাল। চলো।’
সেনাবাহিনীর প্রধান রাব্বি ব্রিগ আর অন্যান্যদের সাথে ব্রিগের স্টাডিতে অপেক্ষা করছে। চুপচাপ স্বভাবের রাব্বি ব্যক্তিগতভাবে ‘৬৭-এর যুদ্ধে মুক্ত করেছে দেশপ্রেমিকদের সমাধি। হেব্রনে এগিয়ে যাবার সময় ছত্রভঙ্গ আরবীয় লাইনের উপর দিয়ে জিপ চালিয়ে ঢুকে সমাধিস্থলের গেইট খুলে ফেলে রাব্বি। সাথে ছিল সাব-মেশিনগান। পিছু ধাওয়া করে ক্রন্দরত আরবীয় গার্ডকে ভেতরের দেয়ালের কাছে নিয়ে যায়।
বিগের ডেস্কে এসে বসে জো। সাইন করে কিতুব্বা, বিয়ের কন্ট্রাক্ট। এরপর জোর হাতে সিল্কের কাপড় তুলে দেয় রাব্বি। আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত দর্শনার্থীরা সবাই মাজাল টোভস’ গেয়ে অভিবাদন জানায় জোকে।
দলবলসহ বর নিচে এসে বাগানে অপেক্ষা করতে থাকে কনের আগমনের জন্য। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মৃত বাবার জায়গায় প্রধান সার্জনকে নিয়ে হাজির হয় হান্নাহ। সাথে আসে উৎসবের সাজে সজ্জিত নারীগণ। এদের মাঝে ডেবরা আর ওর মা-ও আছে। সবার হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি।
ডেভিডের কাছে হান্নাহকে কখনোই তেমন আকর্ষণীয় মনে হয়নি। মেয়েটা বেশি লম্বা আর অভিব্যক্তি বা শরীরের দিক থেকেও কেমন কাঠখোট্টা। কিন্তু আজ সাদা বিয়ের পোশাক আর ওড়নায় পুরোপুরি বদলে ফেলেছে নিজেকে।
ফোলা সাদা স্কার্টের উপর দিয়ে একখণ্ড মেঘের মতো ভেসে এলো যেন হান্নাহ। ওড়নার কারণে মোলায়েম হয়ে আছে চেহারা। ভেতরের খুশি উপচে পড়ছে সবুজ চোখের তারায়। লাল-সোনালি চুল গালের দু’পাশে। ডেবরার দক্ষ হাতের মেক-আপে ঢাকা পড়েছে মুখের তিল। হান্নাহর হাড়সর্বস্ব নাকটাকেও সুন্দর করে দিয়েছে ডেবরা। তাই যতটুকু সম্ভব ততটুকুই সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে আজ।
এয়ারফোর্সের কল্যাণে বাদামী চামড়ার জোকে বেশ বড়সড় আর হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছে। আগ্রহ নিয়ে বাগানের দরজায় এগিয়ে গেল হান্নাহকে এগিয়ে আনতে। এখানে আবার কনের মুখের উপর ওড়না নামানোর অনুষ্ঠান বেদেকেন ডিকালেও সম্পন্ন হলো।
এরপর জো চূপাহ চাঁদোয়ার নিচে গেল। এখানে কাঁধে টালিট নিয়ে অপেক্ষা করছে রাব্বি। জোর পেছনে হান্নাহকে নিয়ে এলো রমণীকুল।
সবার হাতেই জ্বলন্ত মোমবাতি। গুনগুন করে বিয়ের আশির্বাদ মন্ত্র উচ্চারণ করল রাব্বি। জোকে ঘিরে সাতবার ঘুরে মেজিক্যাল সার্কেল পূরণ করল কনে আর তার সঙ্গী নারীরা। পুরাতন নিয়মে এর অর্থ পাপাত্মাকে দূর করা। অবশেষে পাশাপাশি দাঁড়াল বর এবং কনে। মন্দিরের দিকে মুখ করা। অতিথি আর দর্শনার্থীরাও তাদের কাছাকাছি এগিয়ে আসার পর শুরু হলো বাকি আনুষ্ঠানিকতা।
