নিজের সমস্ত সৌন্দর্য দেখিয়ে হেসে ফেলল ডেভিড। হ্যাঁ।’ একমত হলো সেও। তোমার সাথে দেখা হয়ে আর তোমার কিছু কাজ দেখে একথা পরিষ্কারভাবেই বুঝতে পেরেছি আমি।’
অদ্ভুত শব্দ করে হেসে আবারো চুরুট মুখে পুরে দিল ইলা। যাই হোক অন্তত কোন চকোলেট সৈন্যের সাথে দেখা হয়নি আমার। বিশাল পুরুষালি হাত তুলে দিল ডেভিডের কাঁধে। নিয়ে গেল অন্য অতিথিদের সাথে পরিচয় করাতে।
বারো জন মানুষের সংমিশ্রণ, প্রায় সবাই বুদ্ধিজীবী চিত্রকর, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক–ডোর পাশে বসে নরম রোদে বীয়ার আর মজার আলোচনাতে সন্তুষ্টই হলো ডেভিড। যাই হোক, এ শান্ত ভাব স্থায়ী হতে দিল না ইলা। একসাথে বসে চমৎকার অ্যালফ্রেসকো খাবার, ঠাণ্ডা মাছ আর ডিম নিয়ে বসে আবারো আক্রমণ করে বসল ডেভিডকে।
তোমার সামরিক গর্বিত ভাব আর স্নেহ, আড়ম্বরতা আর সৌন্দর্য। আমার যেমনটা মনে হয় তোমার দেশপ্রেমের উপর গুটি আর সাহস তোমার নির্ভরতা আর শিষ্টাচারের আদেশ–এ সমস্তই ভড়ং। পৃথিবীকে গলানো মাংস দিয়ে ভরে দেবার জন্য তোমার বাহানা।
‘আমার অবাক লাগে ভেবে যে যদি এক প্লাটুন সিরিয়ান সৈন্য এখানে হামলে পড়ে তোমার সম্ভ্রমহানি ঘটানোর জন্য, তখনো কী তুমি এমনটাই
ভাববে কিনা। জানিয়ে দিল ডেভিড।
‘মাই বয়, আমি তো এরকম একটি সুযোগের জন্য স্বর্গের দিকে দুহাত তুলে প্রার্থনা করতেও প্রস্তুত আছি। এমন জোরে হেসে উঠল ইলা যে মাথার পরচুলা আরেকটু হলে পড়েই যেত। ঠিকঠাক মতো এটিকে যথাস্থানে বসিয়ে আবারো কথা বলা শুরু করল সে।
‘তোমার পুরুষালি বোমা, স্বার্থপর ঔদ্ধত্য, তোমার কাছে এই নারী টার্কির মতো পা দিয়ে ডেবরাকে দেখিয়ে দিল ইলা, তোমার কাছে হয়তো ও স্পার্ম গ্রহীতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই নারী যে ভবিষ্যতের ধারক, তা তোমার কাছে কোন গুরুত্ব বহন করে না। ওর ভেতরে আছে চমৎকার লেখনী শক্তি। তোমার কাছে ও শুধুমাত্র
এবার বাধা দিয়ে উঠল ডেবরা। যথেষ্ট হয়েছে। আমার বেডরুম নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা চাই না আমি। যুদ্ধ করার প্রস্তুতি চোখে নিয়ে ডেবরার দিকে তাকাল ইলা।
‘তোমার প্রতিভা এমন কোন উপহার নয় যা তুমি যেভাবে খুশি ব্যবহার করবে। সমস্ত মানব জাতির সম্পত্তি এটি, তাদের প্রতি দায়িত্ব আছে তোমার। এই দায়িত্ব হলো তোমার প্রতিভাকে কাজে লাগাও, একে বাড়িয়ে তোল। ডেবরার বিরোধিতাকে একেবারেই আমল না দিয়ে বলে চলল ইলা, ‘এই তরুণ মঙ্গল দেবতাকে হৃদয় দেয়ার পর থেকে এক লাইনও লিখেছো তুমি? এই ছাদের উপর এক বছর আগে আমরা যে উপন্যাসের কথা আলোচনা করেছিলাম তার কী হলো? তোমার সব আবেগ উবে গেল? তোমার ওভারির নাচন
‘থামো ইলা!, ডেবরা প্রায় রেগে উঠল। গাল হয়ে উঠল লাল। বাদামী চোখ জ্বলছে।
হা! হা!’ মাংসের হাড় রেখে দিয়ে শব্দ করে আঙুল চুষে নিল ইলা। ‘নিজের উপর লজ্জা হওয়া উচিৎ তোমার
‘ধুত্তেরি। ভয়ঙ্কর খেপে উঠল ডেবরা।
যা খুশি বলল আমাকে কিন্তু না লিখলে তুমিই পস্তাবে! লেখো নারী, লেখো?’ চেয়ারে হেলান দিল ইলা। ক্যাচক্যাচ করে আওয়াজ তুলল ভারী শরীর বহন করে। ঠিক আছে এখন তোমরা সাঁতার কাটাতে যেতে পারো। ডেভিড এখনো আমাকে বিকিনি পরিহিত অবস্থাতে দেখেনি যখন দেখবে তখন নিশ্চয়ই এই ছোট্ট মেয়েটার প্রতি সদয় হবে আরো!’
রাতের বেলা জেরুজালেমে ফিরে এলো তারা। সূর্যের আলো আছে তখনো। এছাড়াও মার্সিডিজের আসন প্রেম করার উপযুক্ত নয়। তারপরও ডেভিডের কাছ ঘেঁসে বসল ডেবরা।
‘ইলা ঠিক কথাই বলেছে। দীর্ঘ নীরবতার পর বলে উঠল ডেভিড। ‘তোমার লেখা উচিৎ, ডেবস।
‘ওহ, আমি করব। হালকা স্বরে জানাল ডেবরা।
কখন?’ জোর দিল ডেভিড। আরো একটু কাছে এগিয়ে এলো ডেবরা।
‘এই তো কয়েকদিনের মাঝেই। ডেভিডের কাঁধে মাথা এলিয়ে দিল ডেবরা।
‘এই তো কয়েকদিনের মাঝেই। ডেবরার ভঙ্গি নকল করে বলে উঠল ডেভিড।
‘জ্বালাতন করো না তো মরগ্যান। প্রায় ঘুমিয়েই পড়ল ডেবরা।
‘ভান করা বন্ধ করো।’ মুক্ত হাত দিয়ে ডেবরার মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দিল ডেভিড। আর আমি কথা বলার সময় ঘুমাবে না।’
‘ডেভিড, মাই ডার্লিং, সারা জীবন পড়ে আছে সামনে তার চেয়েও বেশি। বিড়বিড় করে উঠল ডেবরা। তুমি আমাকে মৃত্যুঞ্জয়ী করে তুলেছে। তুমি আর আমি হাজার হাজার বছর বেঁচে থাকবো আর সবকিছুর জন্যেই যথেষ্ট সময় পাবো।
সম্ভবত অন্ধকারের দেবতারা শুনতে পেয়েছে ডেবরার অহংবাণী। বিদ্রুপাত্মকভাবে তাই মাথা নেড়েছে একে অপরের দিকে তাকিয়ে।
শনিবারে মালিক স্ট্রিটের বাসায় এলো জো আর হান্নাহ। লাঞ্চের পর সবাই মিলে ঠিক করল ডেভিডকে নিয়ে ট্যুরে যাবে। আর তাই চারজন মিলে গেল উপত্যকার ওপরে জিয়ন পর্বতে। প্রবেশ করল করিডোরের গোলক ধাঁধায়, যার মাধ্যমে যেতে হয় ডেভিডের কবরে। অসাধারণ অ্যামব্রয়ডারি করা কাপড় আর রূপার মুকুট আর টোরা কাভার দিয়ে ঢাকা। কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে গেলেই একই দালানে দেখা মিলবে যীশুর শেষ ভোজের কক্ষ। তাই এই দূর্গে জুদাইজম আর খ্রিস্টান তত্ত্ব একসাথে মিলে গেছে।
এর পরে জিয়ন গেইট দিয়ে পুরোন শহরে প্রবেশ করল তারা। অনুসরণ করে চলল জুদাইজমের কেন্দ্রের দেয়াল। বিশাল পাথরের ব্লকের লম্বা চুড়া যা তৈরি হয়েছে সেই হেরোদের আমলে, ফলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তখনকার নান্দনিক ঐতিহ্য। হেরোদের দ্বিতীয় মন্দির যা দুই হাজার বছর আগে রোমানরা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।
