‘কিছুদিন আগপর্যন্ত আমি বুঝতেই পারিনি যে এটা কত বড় একটা সিদ্ধান্ত। চুপচাপ ভাবতে লাগল ডেভিড। কোন কথা না বলে ওয়াইনে চুমুক দিল ডেবরা।
‘চলো বিয়ে করে ফেলি ডেবস। নীরবতা ভাঙলো ডেভিড।
হ্যাঁ। মাথা নাড়াল ডেবরা। বেশ ভালো আইডিয়া।
‘খুব তাড়াতাড়ি।’ তাড়া দিল ডেভিড। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব।’
হান্নাহর আগে নয়। আমি ওর কাছ থেকে ওর দিনটা কেড়ে নিতে চাই না।’
‘ঠিক আছে।’ একমত হলো ডেভিড। কিন্তু ঠিক তার পরপরই। যোগ করল সে।
মরগ্যান, তুমি নিজেই একটা তারিখ ঠিক করে নাও।’ জানিয়ে দিল ডেবরা।
পুরো তিন ঘণ্টা ড্রাইভ করে তবেই পৌঁছানো যাবে তিবেরিয়াসে। তাই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়ল তারা। পিতলের কাজ করা বিছানার উপর এসে পড়ল সূর্যের প্রথম আলো। ডোরাকাটা দাগ পড়ল দেয়ালে। সময় বাঁচাতে গোসলও সেরে ফেলল একসাথে মুখোমুখি বসে।
ইলার মতো এমন খারাপ কারো সাথে আগে দেখা হয়নি তোমার। ডেভিডকে সাবধান করে দিল ডেবরা। সকালবেলা গোলাপি রিবন দিয়ে মাথার উপর চুড়ো করে চুল বেঁধে রাখায় ডেবরাকে দেখাচ্ছে ছোট্ট বাচ্চা মেয়ের মতো। যত তুমি তাকে পছন্দ করতে চাইবে সে ততই খারাপ ব্যবহার করবে। তাই ধৈর্য হারিয়ো না তুমি।’ বলে চলল ডোবরা।
এক আঙুলে সাবানের ফেনা নিয়ে ডেবরার নাকের মাথায় বসিয়ে দিল ডেভিড। জানাল, আই প্রমিজ।
জেরিকো পর্যন্ত গিয়ে উত্তরে জর্দান উপত্যকা ধরে এগিয়ে চলল তারা। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়াও চলল পাশাপাশি। মাইন ফিল্ডের গায়ে ঝুলছে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি আর পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে নিয়মিত টহলদার মোটরগাড়ি।
উপত্যকার উপরে আবহাওয়া বেশ গরম। তাই জানালা খোলাই থাকল গাড়ির। লম্বা বাদামী পায়ে বাতাস লাগার জন্য স্কার্ট কোমর পর্যন্ত তুলে নিল ডেবরা।
যদি তুমি সঠিক সময়ে লাঞ্চে পৌঁছাতে চাও, তাহলে এমনটা না করলেই ভালো।’ সতর্ক করে দিল ডেভিড। তাড়াতাড়ি স্কার্ট নামিয়ে নিল ডেবরা।
তুমি আশেপাশে থাকলে কিছুই নিরাপদ না। অভিযোগ করল ডেবরা।
অবশেষে শুষ্ক-শূন্যস্থান পার হয়ে গালিলির নিচে কিবুতজিমের উর্বর ভূমিতে পৌঁছালো তারা। আবারো বাতাসে ভেসে এলো কমলার তীব্র সুগন্ধ, এতটাই বেশি যে মনে হলো নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে।
এরও পরে দেখা মিললো তাল আর খেজুর গাছের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া লেকের জল। ডেভিডের হাত স্পর্শ করল ডেবরা।
‘আস্তে চালাও, ডেভি। তিববরিয়াসের এই আর কয়েক মাইল গেলেই ইলার বাসা। সামনে বাক নাও।
এই রাস্তাটা চলে গেছে লেকের তীরে। শেষ হয়েছে প্রাচীন পাথরের ব্লকের কাছে গিয়ে। ইতিমধ্যে আরো পাঁচড়ি গাড়ি পার্ক করে আছে পার্কিং লটে।
‘লাঞ্চ পার্টি দিয়েছে ইলা। দেয়ালের মাঝে গেইটের কাছে ডেভিকে নিয়ে গেল ডেবরা। ওপাশে ছোট্ট একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গ। হেলেপড়া দেয়ালগুলো কেমন অদ্ভুত লাগছে দেখতে। পাথরগুলোও বয়সের ভারে কালো রং ধারণ করেছে, তাদের গায়ে জন্মে আছে উজ্জ্বল রঙের বোগেনভেলিয়া আর লম্বা তাল গাছের ডগাগুলো। লেক থেকে আসা বাতাসের কল্যাণে কাঁপছে একটু একটু করে। সবুজ লনে ফুটে আছে আরো সুন্দর সব উদ্ভিদ।
ভেঙ্গেপড়া বাড়িটার একটা অংশকে ঠিকঠাক করে ছবির মতো সুন্দর লেক সাইড হোম বানানো হয়েছে। চওড়া বারান্দা আর পাথরের জেটি দেখা যাচ্ছে সেখানে, আবার একটা মোটর বোটও আছে নোঙর করা। লেকের সবুজ পানির ওপারে উঠে গেছে গাঢ় রঙের গোলান হাইটস্।
‘এটা ক্রুসেডার দুর্গ ছিল। ব্যাখ্যা করে বলল ডেবরা। লেকের ওপারে চলাচলের সময় ট্রাফিক পোস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আর ধাপে ধাপে উঠে গিয়েছিল হর্নস অব হিতেমের দিকে, যেটি মুসলিমরা পবিত্র ভূমি থেকে ক্রসেডারদেরকে তাড়িয়ে দেয়ার সময় ধ্বংস করে দেয়। অ্যালেনবি প্রশাসনের সময় কিনে নিয়েছিল ইলার দাদা। কিন্তু তারপর ধ্বংস হয়ে যায় আর স্বাধীনতার পর আবারো ঠিকঠাক করে নেয় ইলা।
পুরো জায়গাটার রোমান্টিক সৌন্দর্যটুকু যাতে নষ্ট না হয় সেটার কথা মাথায় রেখেই কাজ করা হয়েছে। তাই ইলার নন্দন চিন্তা ফুটে উঠেছে। পরিষ্কারভাবে। যদিও এই নারীকে স্বচক্ষে দেখে ব্যাপারটা দুর্বোধ্যই ঠেকল।
ইলা বেশ বড়সড়; শুধু মোটা বা লম্বার জন্য নয়, সব মিলিয়েই বিশাল। হাত আর পাগুলো বড় বড়, আঙুল ভর্তি দামী পাথরের আংটি, খোলা স্যান্ডেল ভেদ করে পায়ের লম্বা নখ দেখা যাচ্ছে লাল রঙে রঞ্জিত। দাঁড়ানোর পর দেখা গেল লম্বায় ডেভিডের সমান। কিন্তু শরীরের ফোলা আর চোখ ধাঁধানো নকশা করা পোশাক এতটাই ফুলে রইল যে মনে হলো দু’জন ডেভিডের জায়গা হয়ে যাবে স্বচ্ছন্দে। মাথায় কোঁকড়ানো চুলের পরচুলা লাগানো। লাল রঙের পরচুলা আর উজ্জ্বল সোনার কানের দুল। দেখে মনে হচ্ছে ইচ্ছেমতো চোখের মেক-আপ করেছে। মুখ থেকে পাতলা কালো চুরুট সরিয়ে কিস্ করল ডেবরাকে। এরপর মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল ডেভিডকে। কণ্ঠস্বরের সঙ্গে বের হলে এলো চুরুট আর ব্যান্ডির গন্ধ।
‘আমি আশা করিনি যে তুমি এতটা সুন্দর হবে।’ জানিয়ে দিল ইলা। ‘আমি সৌন্দর্য পছন্দ করি না। প্রায়শই এটি ধোকাবাজ হয়। সাধারণত এর আড়ালে ঢাকা থাকে ভয়ঙ্কর কোন কিছু যেমন কোবরার উজ্জ্বলতা অথবা ক্যান্ডি বারের মোড়ক, মিষ্টি আর নরম। নিজের কোকড়ানো শক্ত পরচুলায় হাত বুলালো ইলা। ছোট চোখজোড়া স্থির করল ডেভিডের ওপর। না আমি বরঞ্চ কুৎসিতকেই বেছে নেবো।
