কিন্তু বিয়ে হবে ঐতিহ্য অনুযায়ী। প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠান মেনে তবেই। একটা মাত্রই জটিল যে ব্যাপার তা হলো কড়া নিরাপত্তা বলয়ের ব্যবস্থা করা।
ব্রিগের বাগানে হবে বিয়ের মূল অনুষ্ঠান। কেননা হান্নাহ পিতা-মাতাহীন সন্তান। এছাড়াও দুর্গের মতো দেয়াল আর বিচ্ছিন্ন বাগানটাকে নিরাপত্তা দেয়া সহজতর হবে।
অতিথিতের মাঝে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবে।
সবশেষ হিসেবে দেখা গেছে অতিথির তালিকায় আছে পাঁচজন জেনারেল আর আঠারোজন কর্নেল। জানাল জো, এদের মাঝে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরাও থাকবে। এমনকি গোল্ডা নিজেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে উপস্থিত হতে চেষ্টা করবে। তাই বুঝতেই পারছো ব্ল্যাক সেপ্টেম্বরে আমাদের বন্ধুদের জন্য এর চেয়ে সহজ টার্গেট আর হতেই পারে না।’ হেসে ফেলে দুটো সিগারেট জ্বালিয়ে নিল জো। ডেভিডের দিকে বাড়িয়ে দিল একটা। যদি হান্নাহ’র জন্যে না হতো, তুমি তো জানই বিয়ে ব্যাপারটা নিয়ে মেয়েরা কতটা উৎসুক থাকে, তাহলে আমি শুধু রেজিস্ট্রি অফিসে চলে যেতাম।
‘বোকা বানাবার চেষ্টা করো না।’ হেসে ফেলল ডেভিড, “তুমি নিজেও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’
‘হ্যাঁ, তাই।’ হেসে ফেলল জো। নিজেদের জায়গা পাবার মজাই অন্যরকম। যেমনটা তৈরি করেছো তুমি আর ডেবস্। আমার মনে হয় হান্নাহ। যথেষ্ট লক্ষ্মী আচরণ করেছে। প্রায় এক বছরের ভনিতার পর, থ্যাংকস্ গড়, শেষ হচ্ছে অপেক্ষা।
ইন কারেমে ব্রিগের বাসার বাইরের লেনে জোকে নামিয়ে দিল ব্রিগ।
‘আমি তোমাকে ভেতরে আসার কথা বলে বিরক্ত করব না। আমার মনে হয় তোমার অনেক পরিকল্পনা আছে।’ বলে উঠল জো।
‘ঠিক-টাই ভেবেছো।’ হেসে ফেলল ডেভিড। তোমাকে আর হান্নাহকে পাওয়া যাবে? আগামীকাল রাতে ডিনারে এসো।
আবারো মাথা নাড়াল জো। আমি হান্নাহকে অ্যাশকেশন নিয়ে যাবো ওর বাবা-মায়ের কবর পরিদর্শন করে আসতে। বিয়ে করার আগে এ ঐতিহ্য মানতে হয়। হতে পারে শনিবারে দেখা করব তোমাদের সঙ্গে।
‘ঠিক আছে। আমি চেষ্টা করব। ডেবরা নিশ্চয়ই তোমাকে দেখতে চাইবে। শালাম, জো।
শালাম’, শালাম। বিদায় জানিয়ে চলে এলো ডেভিড। রেসিং কারের গতিতে মার্সিডিজ নিয়ে ছুটলো পাহাড় অভিমুখে। হঠাৎ করেই কিসের তাড়া অনুভব করছে যেন নিজের মাঝে।
ছাদের দরজা স্বাগত জানানোর জন্য হাট করে খোলা। ডেবরা অপেক্ষা করছে ডেভিডের জন্য। আগ্রহ আর উত্তেজনা নিয়ে নতুন কেনা চামড়ার চেয়ারে পা ভাঁজ করে বসে আছে। মাত্রই চুল ধুয়ে এসেছে তাই চমৎকার চকচকে পাখার মতো ঝিকঝিক করছে কেশরাজি। হালকা সিল্কের ফোলা কাফতান পরে চোখের তারায় সোনালি মধু নিয়ে বসে আছে। সিল্কের ঝড় তুলে খালি পায়ে দৌড়ে গেল ডেভিডের কাছে। ডেভিড! ডেভিড! চিৎকার করে উঠল ডেবরা। কোলে তুলে এক পাক ঘুরে হাসতে লাগল ডেভিড।
এরপর গর্বিত ভঙ্গিতে রুমগুলো ডেভিডকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতে লাগল ডেবরা। তার অনুপস্থিতিতে অনেক কিছুই পরিবর্তন আর সংযোজন হয়েছে দেখতে পেল ডেভিড আর এখন সত্যিকারের ঘরের আবহও অনুভব করল। ডেভিড ডেবরাকে বুঝিয়েছে যে দামটা মোটেও কোন মুখ্য ব্যাপার নয়। একসাথে তাই ফার্নিচারের নকশা পছন্দ করেছে তারা। এ সমস্তই নির্মাণ করে ডেলিভারি দিয়ে গেছে ডেবরার বংশব্দ আরবীয় ব্যবসায়ী আর তাদের পরিকল্পনানুযায়ী দাঁড়িয়েছে ডেবরা। সমস্ত কিছুই বানানো হয়েছে নরম চামড়া আর কালো কাঠ দিয়ে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে উজ্জ্বল তামা আর পিতল। রাগের চারপাশে বসানো হয়েছে এসব ফার্নিচার। যাইহোক, একটামাত্র জিনিস চোখে পড়ল যা আগে দেখেনি ডেভিড। বড়সড় ক্যানভাসে অয়েল পেইন্টিং। ছাদের দিকে মুখ করে থাকা সদ্য রং করা সাদা দেয়ালে ফ্রেমবিহীন পেইন্টিংটা ঝুলিয়ে রেখেছে ডেবরা। দেয়ালে এই একটামাত্র পেইন্টিং এর চারপাশে অন্য কিছু খুবই বেমানান লাগতো। ছবিটাতে ফুটে উঠেছে কর্কশ একটা দৃশ্য। মরুভূমি, যাতে ফুটে উঠেছে বন্যতা। রঙগুলো বেশ তীব্র আর রুম জুড়ে মনে হলো মরুভূমির সূর্যই আলো ছড়াচ্ছে।
ডেভিডের হাত ধরে রেখে উদ্বিগ্ন মুখে তাকিয়ে রইল ডেবরা। দেখতে চায় ডেভিডের প্রতিক্রিয়া।
“ওয়াও! অবশেষে বলে উঠল ডেভিড।
“তোমার পছন্দ হয়েছে? ভারমুক্ত হলো ডেবরা।
‘অসম্ভব। কোথায় পেয়েছো?
‘আর্টিস্ট উপহার দিয়েছে। আমার অনেক দিনের বন্ধু।
‘মেয়ে?
‘হ্যাঁ। আগামীকাল আমরা তিবেরিয়াস যাবো ওর সাথে লাঞ্চ করতে। আমি ওকে তোমার কথা বলেছি। তোমাকে দেখতে চেয়েছে।
কী পছন্দ করে সে?”
সে আমাদের প্রথম সারির আর্টিস্টদের একজন। নাম ইলা কাঁদেশ। কিন্তু এছাড়া আর কিছু বলতে পারব না। একটাই প্রমিজ করতে পারি যে অসম্ভব মজার একটা দিন পাবে তুমি।’
ভেড়ার মাংস আর জলপাইয়ের বিশেষ খাবার বানিয়েছে ডেবরা। জলপাই গাছের নিচে ছাদে বসে খাবার খেলো দু’জনে। কথাবার্তা আবারো শুরু হলো জোর বিয়ে নিয়ে। এর মাঝেই হঠাৎ করে ডেভিড জিজ্ঞেস করে বসল, আমার কাছে আসার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিয়েছো তুমি বিয়ে ছাড়া?
একটুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিল ডেবরা, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর এও জানি যে, অপেক্ষার খেলা খেলার ব্যাপারে তোমার তেমন ধৈর্য নেই। আমি জানতাম যে যদি আমি এমনটা না করতাম তাহলে তোমাকে আবারো হারাতাম।
