দিনে-রাতে ট্রেনিং ইন্টারস্পেশন চালানো শুরু করলো তারা। এতে থাকল অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে যাবার পাশাপাশি নিচু লেভেলের টার্গেট প্র্যাকটিস করা। এ ছাড়াও নিচু লেভেলের ট্রেনিং স্ট্রাইকও চালালো তারা। অন্যান্য সময় ভূমধ্যসাগরের উপর একে অন্যকে এনগেজ করে প্লেন টু প্লেন ডগ ফাইটও প্র্যাকটিস হলো।
এত সব কিছুর পরেও মরুর ফুল কৌশলে তাদেরকে সত্যিকার বা সম্ভাবনাময় যুদ্ধাবস্থা থেকে সরিয়ে রাখল। সবাই মিলে খেয়াল করছিল ডেভিডকে।
পিরিয়ডের শেষে মেজর জেনারেল মোরদেসাইয়ের ডেস্কে পাঠানো হলো ডেভিডের সার্ভিস রিপোর্ট। প্রতিজন অফিসার সম্পর্কে দেখভাল করা ব্রিগের বিশেষ দায়িত্ব। আর যেহেতু প্রতিটি অফিসারের রিপোর্ট নিয়মিত চেক করতে হয় ব্রিগকে। এবার বিশেষ ভাবে তাকে বলা হলো ডেভিডের রিপোর্ট চেক করে দেখতে।
রিপোর্টের স্বাস্থ্য এখনো বেশ পাতলা। দ্রুত প্রাথমিক ভাবে দেয়া সুপারিশ আর ডেভিডের বর্তমান কমিশনের ডকুমেন্ট দেখে নিল ব্রিগ। এরপর পড়ে ফেলল পরবর্তী রিপোর্ট আর রেজাল্ট। গানারি রিপোর্ট দেখে হেসে ফেলল। তৃপ্তি নিয়ে ভাবল যে তাদেরকে ভিড়ের মাঝে থেকে তুলে আনতে এখনো দক্ষ সে। অবশেষে পড়ল লে, ডফিনের ব্যক্তিগত প্রশংসাবাক্য: ‘পাইলট হিসেবে মরগ্যানের দক্ষতা অসাধারণ। সুপারিশ জানানো যাচ্ছে যে বর্তমান ব্যাঙ্কে বহাল থাকুক আর সামনে তাকে পুরোপুরি অপারেশন কাজে লাগানো হোক।
নিজের বিশেষ লাল কলম তুলে নিল ব্রিগ। রিপোর্টের নিচে লিখে ফেলল। আমিও এতে একমত আছি।’
এভাবেই শুরু পাইলট মরগ্যানের যাত্রা। এখন তাকে পুরুষ, মরগ্যান হিসেবেও বিবেচনা করা হবে। নিজের অভিব্যক্তি অনাবৃত হয়ে গেল ওর কাছে। আর তাই কাকতালীয়ভাবে হঠাৎ করে ডেবরার ঘর ছাড়ার ইচ্ছে আর ডেভিডের জেরুজালেমে পৌঁছানো, সব ঘটে গেল এক সঙ্গে।
পুরো দুই দিন আর কয়েকটা ফোন কলের পরে ডেভিড জানতে পারল যে ডেবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলকে কেবলমাত্র ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করতো। বাস্তবে তার সত্যিকারের বাসায় সবকিছু ছিল দুর্দান্ত।
প্রথম দিকটায় অনুমতি দেয়নি ব্রিগ। তারপরেও সে জানে যে এক্ষেত্রে বলার কিছু নেই তার। ব্রিগ ভালো করেই জানে যে তার মেয়ের ইচ্ছাশক্তি আর পছন্দ অপছন্দ কতটা কঠিন। তাদের মাঝে মতবিরোধ প্রায় বৈপ্লবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝে মাঝে এমনকি পরিবারের ভিত নাড়িয়ে দেয়া এসব বাদানুবাদ অবশ্য সন্তুষ্টিজনক ফলাফলই বয়ে এনেছে।
যদিও নিজের বেশির ভাগ সময় তরুণদের সাথেই ব্যয় করে, তারপরেও নতুন মূল্যবোধগুলো মাঝে মঝে মেনে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্বীকার করে নিতে তো আরো কষ্ট হয়।
‘ওয়েল, মেয়েটার অন্তত এতটুকু জ্ঞান আছে যেন কোন বিদ্রূপ বা হাসাহাসি না হয়। তাদেরকে যেন লজ্জায় না পড়তে হয়। এতটুকু সন্তুষ্টি দিয়েছে মাকে। রিপোর্ট বন্ধ করে দিল ব্রিগ।
৩. নতুন পদমর্যাদা
নিজের অফিসে ডেভিডকে ডেকে পাঠিয়ে তার নতুন পদমর্যাদা জানিয়ে দিল লে ডফিন। এখন থেকে নিয়মিত সবুজ’ স্ট্যান্ডবাই হিসেবে কাজ করবে ডেভিড। যার অর্থ প্রতি সপ্তাহে চারদিন কাটাতে হবে বেসে।
এবার, প্যারাট্রুপার ট্রেনিং নিতে হবে ডেভিডকে। অস্ত্রবিহীন যুদ্ধের শিক্ষা পাবে এতে। এই ধরনের যুদ্ধ শিক্ষা পেলে আরবীয় ভূমিতে আটকা পড়া যে কোন পাইলটের বেঁচে যাবার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
লে ডফিনের অফিস থেকে বের হয়ে সোজা কু-রুমে টেলিফোনের কাছে গেল ডেভিড। লাঞ্চের জন্যে লটারম্যান বিল্ডিং ত্যাগ করার আগেই ধরে ফেলল ডেবরাকে।
‘আমার বিছানা গরম করো বালিকা’, বলে উঠল ডেভিড। আগামীকাল রাতেই বাসায় পৌঁছে যাচ্ছি আমি।’
মার্সিডিজ চালিয়ে জেরুজালেমে পৌঁছালো জো আর ডেভিড। নিচু কণ্ঠে কথা বলে চলল জো। যদিও কিছুই শুনতে পেল না ডেভিড। তাই শেষমেশ পাঁজরে বুড়ো আঙুলের শুতে দিল জো
‘দুঃখিত জো। আমি কী যেন ভাবছিলাম। তোমার কথা শুনতে পাইনি।
“ঠিক আছে, এবার তাহলে থামাও চিন্তা। তোমার ভাবনা গিয়ে জানালায় কুয়াশা বানাচ্ছে।
কী বলছিলে তুমি?
‘আমি বিয়ের কথা বলছিলাম– হান্নাহ আর আমার।
ডেভিডের মনে পড়ে গেল যে বিয়ের আর মাত্র মাসখানেক বাকি। বুঝতে পারল এটা নিয়ে মেয়েরা কতটা উত্তেজিত হয়ে আছে। যেমন সবাই গ্রীষ্মের পরে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকে। ডেবরার চিঠিগুলোতেও শুধু বিয়ের প্রস্তুতির কথাই লেখা থাকতো।
‘আমি খুব খুশি হবো, যদি তুমি আমার সাথে এসে দাঁড়াও আর আমার সাক্ষী হও। খানিকটা পরিবর্তন আসবে। এবার তুমি হবে উইংম্যান আর আমি টার্গেটে লাগাবো।’
ডেভিড বুঝতে পারল যে এই অনুরোধের মাধ্যমে ওকে কতটা সম্মান জানানো হয়েছে। তাই যথাযথ মর্যাদার সাথে অনুরোধ গ্রহণ করল সেও। মনে মনে অবশ্য বেশ খুশিও হলো। অন্যান্য যতো তরুণ ইস্রায়েলিয়দের সাথে সে কথা বলেছে তাদের মতোই জো আর ডেবরাও নিজেদেরকে ততটা ধর্মপ্রাণ মনে করে না। ডেভিড এখন জানে যে এটা একটা স্টাইল। নচেৎ তারা সবাই তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন। ইতিহাস আর জুদাইজম চর্চাতেও সিদ্ধহস্ত।
তাদের কাছে ধর্মপ্রাণ মানে কালো রোব গায়ে চাপিয়ে, লম্বা কানাওয়ালা টুপি পরিহিত অর্থডক্সের পরাকাষ্ঠা মিয়া শিয়ারিম হওয়া অথবা প্রতিদিনের জীবনে এমন আইন মেনে চলা যা কেবল পদে পদে বাধা দেবে তাদেরকে।
